অনলাইনে আসছে সব বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাঙ্গন

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দিলেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দূরশিক্ষণে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
ইউজিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে এই নীতিমালা জারি করা হলে সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই অনলাইনের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে।
“মহামারীর মধ্যে আরও কতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয় তা কেউ বলতে পারছে না। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সবকিছু তো আর থামিয়ে রাখা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম সচল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে,” বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা।
অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে নীতিমালা তৈরির কাজ শুরুর কথা জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই নীতিমালা হলে তা সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে। কমিশনের সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগমকে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
“যেহেতু অনলাইনের প্রয়োজনয়ীতা সবাই ফিল করছে, ভবিষ্যতে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন একটা নির্দেশনা দিতে পারি, সেজন্য এই নীতিমালা করা হচ্ছে।”
নীতিমালা তৈরির কার্যক্রম শুরুর পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।
করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের ক্লাসগুলো সংসদ টিভিতে নিয়মিতভাবে দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মত করে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে সে বিষয়ে গত ৭ মে একটি নির্দেশনা জারি করে ইউজিসি।
তবে মহামারীর কারণে বন্ধের মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সেশনজটে পড়তে যাচ্ছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
এ পরিস্থিতিতে অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগমকে আহ্বায়ক করে শনিবার আট সদস্যের কমিটি করে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয় ইউজিসি।
কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মো. সাজ্জাদ হোসেন ও অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরকে এই কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিনিধি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
ইউজিসির সচিব ফেরদৌস জামানকে কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে এই কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে সুপারিশ আকারে জমা দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইউজিসির একজন কর্মকর্তা জানান, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে জরিপের প্রশ্ন ঠিক করে তা সবগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পাঠানো হয়েছে।
যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এখনও ওই প্রশ্নপত্র পূরণ করে পাঠায়নি সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং ফ্যাকাল্টি সদস্যদের তা পূরণ করে আগামী ২০ মের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে ৪৬টি সরকারি এবং ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন রয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি।