স্বরূপকাঠীর সারেংকাঠিতে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে এসে আত্মহত্যা

সারাদেশ

মো. সাইফুল ইসলাম, পিরোজপুর : স্বরূপকাঠীর সারেংকাঠী ইউনিয়নের গবিন্দগুহকাঠী গ্রামে বিজয় মিস্ত্রী নামে এক ব্যক্তি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে ঝুলন্ত ব্যক্তির নাম-বিজয় মিস্ত্রী (৩২), পিতা-বিমল মিস্ত্রী, মাতা-মালতি মিস্ত্রী, গ্রাম-কচুবাড়িয়া, থানা-মঠবাড়িয়া, জেলা-পিরোজপুর। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। তিনি স্বারূপকাঠীর সারেংকাঠীতে বিবাহ করেন। সে সুবাদে তিনি স্ত্রী (ইতি মিস্ত্রী) ও তার একমাত্র কন্যাকে নিয়ে তিনি শশুরবাড়ী বেড়াতে আসেন। করোনার এ মহামারী কারণে কোন কাজকর্ম না পাওয়ার কারণে আর্থিক ভাবে অনেক অসুবিধাসহ মানবেতর জীবন-যাপন করছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী তার এ কষ্টের মধ্যেও বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনার বায়না করেন এবং শশুরবাড়ী বেড়াতে আসার পর তার কন্যা তার কাছে বিস্কুট খাবার বায়না ধরে। বাবা বলে কথা মেয়ে বিস্কুট খাবে। বাবার পকেটে কোন টাকা না থাকায় রাত অনুমান ৮টার সময় মেয়েকে বলে আমি তোমার জন্য বিস্কুট নিয়ে আসতেছি। মেয়ের জন্য বিস্কুট কেনার কোন ব্যবস্থা না করতে পারায় এবং সাংসারিক দিক চিন্তা করে আর ঘরে ফিরেনি। ঘরে না ফেরার কারণে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে অনেক খোজাখুজি করেন। কিন্তু তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি। রাত অনুমানিক ১১টার সময় তার শ্বশুর টয়লেটের কাজ সারতে তার বাড়ির পাশের বাগানের মধ্যে তাদের টয়লেট থাকায় সে সেখানে যান এবং টয়লেট শেষ করে পাশে থাকা পুকুরে হাত মুখ ধুতে যান। হাত মুখ ধোয়া শেষে তিনি যখন বাড়ীর দিকে আসতে ছিল তখন বাগানের মধ্যে লাইট মারেন এবং দেখেন তার মেয়ের জামাই এর প্লাস্টিকের সান্ডেল পড়ে আসে। তিনি তা দেখে মনে মনে বলে এখানে ওর জুতো আসলো কোথা থেকে। তারপর তিনি সেখানে থাকা চালিতা গাছের উপরে লাইট মারলে দেখেন বিজয় গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে। এ সময় তিনি ডাক-চিৎকার দিলে এলাকাবাসী সেখেনে ছুটে যায় এবং ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। বিষয়টি সাথে সাথে নেছারাবাদ থানায় অবগত করা হলে অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি তদন্ত ও লাশ ময়না তদন্তের জন্য এসআই মো.ওবায়দুর রহমানের নিকট দায়িত্ব অর্পন করেন। অফিসার ফোর্সসহ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে হস্তান্তর করেন। ময়না তদন্ত শেষে বিজয়ের লাশ তার বাবা ও শ্বশুর এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।