এক সংগ্রামী নেত্রীর নাম রোকসানা অপশক্তি আর ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যার অবিরত পথচলা

অন্যান্য বিবিধ

আবু হেনা মোস্তফা সাদেক : একজন দেশপ্রেমিক, মানুষ গড়ার কারিগর, মানুষ গড়ার কারখানার উন্নয়ন কর্তা, মহান শিক্ষক, শিশুপ্রেমি, গরীবের বন্ধু, বিক্রমপুরপ্রেমি, দানশীল, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিমণা, সৃষ্টিশীল, প্রতিশ্রুতিশীল, সম্ভাবনাময়ী, সুশিক্ষিত, মার্জিত, ভদ্র, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনকারী, সফল ক্রীড়া সংগঠক, অসাধারন সাংগঠনিক দক্ষতার অধিকারী, ন্যায্য দাবী আদায়ে অদম্য প্রতিবাদী, শিক্ষা বিভাগসহ সকল সেক্টরে বিরাজমান অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে চরম প্রতিহিংসা শিকার এই সংগ্রামী মানুষটিকে আজ প্রাণঘাতি ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও লড়াই করে চলেছেন। হ‍্যা সুপ্রিয় পাঠক বলছি রোকসানা বেগম কেয়া’র কথা। বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি’র উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সিরাজদিখান উপজেলা শাখা’র সাধারন সম্পাদক। জাতীয় কবিতা মঞ্চ মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখা’র সভাপতি। বিক্রমপুর নাগরিক কল্যাণ পরিষদের মহিলা সম্পাদক। সিটি কল্যাণ সংস্থা ঢাকা’র আজীবন সদস্য। ইত্তেহাদ পরিষদ ঢাকা’র সম্মানিত সদস্য। বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিরাজদিখান উপজেলা শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা। সিরাজদিখান উপজেলার রসুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিষ্ঠাবান প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এই প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগম কেয়া’র কর্মকান্ডে উপজেলাবাসী এতটাই আস্থাশীল যে, তাঁকে সিরাজদিখান উপজেলার সর্বস্তরের সচেতন মহল রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখতে চায়। প্রতিশ্রুতিশলি এই শিক্ষক নেত্রীকে সিরাজদিখান উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের ঘুষ দুর্ণীতি লুটপাট চাঁদাবাজী পার্সেন্টেজবাজী পক্ষপাতিত্ব স্বজনপ্রীতি শিক্ষকদের হয়রানীসহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে এবং নিরীহ অসহায় নির্লোভ সৎ শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সংগ্রাম করেই চলেছেন । শিক্ষা অফিসার যা বলেন, অন্যান্য সহজ সরল শিক্ষকরা তাই করেন; মানে করতে বাধ্য হন; নইলে চাকরী হারাতে হতে পারে এই ভয়ে। কিন্তু রোকসানা বেগম এই চাকরী হারানোর ভয়কে উপেক্ষা করেই শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায় করতে গিয়ে, শিক্ষা অফিসারের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে চাকরীচ্যুত হওয়ার কবলে পড়েছেনে কয়েকবার। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রসেস হয়েছে বহুবার। তারপরও তিনি সংগ্রাম নেত্রীত্ব থেকে পিছ্পা হননি কখনো। শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য রাজপথে মিছিল করেছেন এবং তাতে অনেকাংশে সফলও হয়েছেন। নিজের চাকরী থাকবেনা জেনেও শিক্ষকদের জন্য দুনীতিবাজ কতিপয় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। বিদ্যালয়ের জন্য যে সব বরাদ্দ আসে তার থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোটা অংকের পার্সেন্টেজ চান তাই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। চাকরীকালীন কতিপয় দুনীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র অব‍্যাহত রয়েছে। একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রুগী হয়ে অসুস্থাবস্থায়ও তিনি আন্দোলন সংগ্রাম করেই চলেছেন। পাশাপাশি জীবন সংগ্রামে কখনো রাত একটা দুইটাও বেজেছে ঢাকা থেকে ডাক্তার দেখিয়ে ফিরতে। ২০১৬ সালের ৬ আগষ্ট তাঁর অপারেশন হয়। তিনি যখন চরম অসুস্থ। একটি স্কুল থেকে একসাথে একজনের বেশী শিক্ষককে কোন প্রশিক্ষণে পঠানোর বিধান না থাকলেও তাঁর অসুস্থাবস্থায়ও ২০১৭ সালে তাদের স্কুল থেকে একই সাথে তিনজন শিক্ষককে সিইনএড প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। যাতে পুরো স্কুলের দায়িত্ব অল্প ক’জন শিক্ষক নিয়ে সামলাতে গিয়ে তাঁকে বেশী কষ্ট পেতে হয়। এসবই করা হয়েছে তাঁকে শায়েস্তা করার জন্য। নিয়ম বহির্ভুত প্রতিহিংসামূলক এই অপকর্মের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায়ই তার সংগ্রামের মুল লক্ষ্য। এ দাবী আদায়ে তিনি সংগ্রাম করে চলেছেন অবিরত। বেতন বৈষম্য দূরী করণে মানববন্ধন করেছেন। প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুনীতিবাজ শিক্ষা অফিসারের ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। শিক্ষা অফিসারের বদর্লি বাণিজ্য বন্ধের দাবীতে প্রতিবাদ করেন। তার একটাই দোষ, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। অসাধারন সাংগঠনিক দক্ষতার অধিকারী রোকসানা বেগম কেয়া বহু সামাজিক সাংস্কৃতিক পেশাজীবি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে আছেন তাঁর অসাধারন সাংগঠনিক দক্ষতার গুণে। পেশাগত সাংগঠনিক জীবনে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সিরাজদিখান উপজেলা শাখার সাধারন সস্পাদক হিসেবে ১৩ আগষ্ট ২০১৩ সাল থেকে অদ্যাবধি দায়িত্বরত আছেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সম্মানীত সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্বরত আছেন। এ পদ পাওয়ার পুর্বেই তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে কাজ করতেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী দাওয়া নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ, সচিবালয়ে উর্দ্ধতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎসহ সকল কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা করতেন। যখন এ কমিটি গঠিত হয় তখন তিনি এক মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তারপরও তাকে এ কমিটির উক্ত সম্মানজনক পদে রাখা হয়েছে। এজন্য তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ মহোদয়ের কাছ থেকে ৫০,০০০/-টাকা এনে সমিতি’র ঘর মেরামত করেছেন। সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মতিন হাওলাদার, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান জনাব এডভোকেট আবুল কাশেম, রসুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল চেকদারসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সহযোগিতায় সমিতির’র চেয়ার টেবিল ফ্যান ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করে সমিতি’র কর্মকান্ড বেগবান করেন শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায়ের এই মূর্ত প্রতীক রোকসানা বেগম। শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। মানুষ গড়ার মনোভাব নিয়ে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন শিক্ষকতাকে। মানুষ গড়ার কারিগর এই রোকসানা বেগম কেয়া রসুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে মানুষ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। শিক্ষকতাকে তিনি শুধু পেশা হিসেবেই নয় একটি মহান ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এমনভাবে তিনি শিক্ষকতা করেন এবং সহকর্মী শিক্ষকদেরও অনুপ্রাণিত করেন শিক্ষার্থীরা যাতে যেনতেন শিক্ষা নয় দেশগড়ার উপযোগি শিক্ষা পায় সেভাবে শিক্ষা দিতে। শিশুপ্রেমি ও গরীবের বন্ধু এই শিক্ষক শুধু বিদ্যালয়েই নয়; এক সময় শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে গরীবের সন্তানদের বিনা টাকায় পড়িয়েছেন। ফলে অনেকে বৃত্তিও পেয়েছে। এখন আর পড়াতে ভালো লাগেনা। শিক্ষকদের পেটে ভাত না থাকলে, তাঁরা সুস্থ না থাকলে তাদের কাছ থেকে সুস্থ শিক্ষাও জাতি আশা করতে পারে না। তাই তিনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায়ে প্রতিবাদি সবসময়। শুধু শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায়ই নয়; শিক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও স¤প্রসারণের লক্ষ্যেও তিনি সংগ্রাম করে চলেছেন অনবরত। ব্যাক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে এমপি মহোদয়ের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। তাতে সফলও হয়েছেন। বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ ছিল। বিদ্যালয় সুন্দর করার জন্য অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত টাকাও খরচ করেছেন। নারায়নগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এর মনিটরিং অফিসার মোজাম্মেল সরদারের সভাপতিত্বে ঢাকা থেকে পরিচালিত জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন ইত্তেহাদ সাহিত্য পরিষদের অন্যতম সদস্য রোকসানা বেগম এই সংগঠনটির মাধ্যমে দরিদ্র অসহায় শিশু এবং অসহায় গরীবদের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন নিঃস্বার্থভাবে। তাদের আর্থিক এবং বিভিন্ন পণ্য দিয়ে সহায়তা করেন। করোনাকালে ঔষধ না খেয়ে সেই টাকা দিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী নিয়ে। তিনি কারো চোখের জল সইতে পারেননা। শিক্ষকদের অফিসিয়িাল কাজ ছাড়াও ব্যাক্তিগত সমস্যায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন। যে যখন পেরেছে শোধ দিয়েছে। দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির অন্যতম প্লাটফরম স্কাউট। মুন্সিগঞ্জ জলা স্কাউটের সহ-কমিশনার হিসেবে প্রতিটা বিদ্যালয়ে যাতে কাব স্কাউটরা দেশ সেবার মনোভাব নিয়ে বড় হতে পারে সে প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর দেশপ্রেমিক এই ত্যাগী নেত্রী । বিক্রমপুরের বাসিন্দা হিসেবে বিক্রমপুরপ্রেমি হিসেবেও বিক্রমপুরবাসীর কল্যাণে তিনি আতœনিয়োগ করে রেখেছেন বিক্রমপুর নাগরিক কল্যাণ পরিষদ এর মহিলা সম্পাদক পদে নিয়োজিত থেকে। সর্বস্তরের মানুষর কল্যাণে তিনি এ সংগঠনের মাধ্যমে অসহায়দের সহায়তা করে থাকেন। শুধু সিরাজদিখান কিংবা মুন্সিগঞ্জেই নয় ঢাকা থেকে পরিচালিত সিটি কল্যাণ সংস্থা’র আজীবন সদস্য হিসেবেও তিনি ব্যাপক কল্যাণকর কাজে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনকারী নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবেই তিনি সিরাজদিখান উপজেলা শাখা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা হিসেবে নিজেকে নিবেদিত করে রেখেছেন। তিনি ভালোবাসেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শকে। বিক্রমপুর কেবি ডিগ্রী কলেজের সাবেক প্রফেসর গিয়াস উদ্দিন এবং একই কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর সামসুল হক মহোদয়দের নেতৃত্বে পরিচালিত সিরাজদিখান উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এই সন্তান শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি জগৎকে আলোকিত করে রেখেছেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পন্থি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে বেগবান করেছেন। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা এই শিক্ষাবিদ কবিতা লেখেন, গল্প লেখেন। বিদ্যালয়ের শিশুদের আনন্দের প্রয়োজনে নাচ করেন। কবিতা আবৃতি, গান, অভিনয় করেন। কলেজে এইচএসসি ফার্ষ্ট ইয়ারে পড়া অবস্থায় বিক্রমপুর কেবি ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খ ম আব্দুর রব স্যারের অনুপ্রেরণায় সাংস্কৃতিক জগতে বেশী মনোনিবেশ করেন। মঞ্চে নাচ গান আবৃতি বক্তৃতা মঞ্চ নাটক সবই করতেন। সবই তাঁর গুরু খ ম আব্দুর রব স্যারের অবদান। মঞ্চে উঠে কাজ করতে গেলে কান গরম হয়ে যেত। এখন আর তেমন লাগেনা। সুন্দর মনের মানুষেরা ভালোবাসেন ফুল। ভালোবাসেন কবিতা। তিনিও কবিতা ভালোবাসেন। কবিতা লেখেন। কবিতাকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করেন কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী’র নেতৃত্বাধীন সংগঠন জাতীয় কবিতা মঞ্চের সাথে। তিনি এ মঞ্চের মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে ব্যাপক অবদান রাখেন। সফল ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন প্রতিহিংসার শিকার এই রোকসানা বেগম। ২০১৪ সালে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে তাঁর বিদ্যালয় রসুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মুন্সিগঞ্জ জেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছিল। এই অসামান্য কৃতিত্বের পিছনে যার ব্যাপক অবদান সেই প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগমকে বঞ্চিত করে রেখেছিল তার দামাল ছেলেদের সফলতা উপভোগ করা থেকে। বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের খেলায় সকল প্রধান শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রতিহিংসাবশতঃ একজন প্রতিশ্র“তিশীল সৃষ্টিশীল নেতৃস্থানীয় সফল ক্রীড়া সংগঠক প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অসুস্থতার জন্য নয়, নেতৃত্ব থেকে দুরে রাখার জন্য। অসুস্থতার মধ্যে কঠোরভাবে সব কাজ করাতে পারলেও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে না রাখাটা তাকে অবজ্ঞা, শায়েস্তা ও কোনঠাসা করে রাখারই ষড়যন্ত্র বলে মনে করা হয়। বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর ব্যাপারে সহকারী শিক্ষা অফিসার (অটঊঙ) বলেছেন, আমন্ত্রণ জানাতে তাকে নিষেধ করা ছিল। এতো কিছুর পরও তিনি লড়াই সংগ্রাম করে এখনো টিকে আছেন। সারা জীবন, যতদিন বাঁচবেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি লড়েই যাবেন। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একাডেমিক শিক্ষা এবং প্রফেশনাল শিক্ষা অর্জন করেছেন জ্ঞান পিপাসু রোকসানা বেগম। বাবার সরকারী চাকরীর কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাসের সুবাদে লেখাপড়াও করতে হয়েছে হরেক জেলায়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন খুলনা, ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইলে। এসএসসি পাশ করেছেন টাঙ্গাইল জেলা সদর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে। উচ্চ মাধ্যমিক করেছেন বিক্রমপুর কেবি মহাবিদ্যালয় থেকে। ডিগ্রী ও মাষ্টার্স করেছেন সরকারী ইডেন ও কবি নজরুল সরকারী কলেজ থেকে। বিএড ও এমএড করেছেন ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে। এছাড়াও সিইনএডসহ পেশাগত বহু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। সুশিক্ষত ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান রোকসানা বেগম। গ্রামে কেয়া নামেই সুপরিচিত। রাজধানী ঢাকা’র পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান থানার জৈনসার গ্রামের মৃত জেল জেলর আব্দুল মজিদ ও গৃহিনী মাতা দিলারা বেগমের কণ্যা এই রোকসানা বেগমের চার ভাই পাঁচ বোন। তিন বোন ফিরোজা বেগম, আয়েশা আক্তার ও তিনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ছোট ভাবী শামিমা আকতারও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি, তাঁর তিন বোনও ছোট ভাবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। অর্থাৎ বলা যায়, তাদের পুরো পরিবারটাই সুশিক্ষিত ও মানুষ গড়ার কারিগর। দুই বোন গৃহীনি। বড় ভাবী সৈয়দা আরিফা হক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সুপারিনটেন্ডেন্ট ছিলেন। বর্তমানে অবসর। তিন ভাই ব্যবসায়ী এক ভাই প্রবাসী। বড় ভাই এমদাদুল হক পিন্টু ১৯৭১’র রণাঙ্গণের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বড় কাকা আব্দুল লতিফ জমাদ্দার মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার এবং সফল ব্যবসায়ী। মেজ কাকা আব্দুর রশিদ জমাদারও ১৯৭১’র রণাঙ্গণের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছিলেন নৌবাহিনী কর্মকর্তা। আরেক কাকা ব্যাংকার। ছোট কাকা আজাহার জমাদ্দার কবি, সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী। বিএ পড়া অবস্থায় মারা যান। নানা বাড়ী লৌহজং থানার কোলকাতা ভুগদীয়া গ্রামে। তারা জন্মলগ্ন থেকেই ঢাকায় বসবাসরত। রোকসানার জন্ম ঢাকায় নানু বাড়ীতেই। বাবার তখন পোষ্টিং ছিল যশোরে। পরিবারসহ এক মামা আলহাজ্ব আবু হানিফ আমেরিকাতে আরেক মামা আলহাজ্ব আব্দুল হালিম কানাডায় বসবাস করেন। খালাতো ভাই ড. ইকবাল রউফ মামুন দেশের সর্বোচ্চ উচ্চ শিক্ষাঙ্গণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রফেসর। তবে এ পর্যন্ত উঠে আসতে তাকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। বাধা-বিপত্তি, চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বন্ধুর পথ অতিক্রম করে পথ চলতে হয়েছে। এখনো হচ্ছে। শত্র“র অভাব ছিলনা। এখনো শক্রর অভাব নেই। মেয়ে মানুষ উপজেলা শিক্ষক সমিতি’র সেক্রেটারী হবে এর বিরোধীতাও ছিল জোড়ে সোড়ে। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায়ের সকল আন্দোলনে নির্লোভ, সৎ, ত্যাগী, দেশপ্রেমিক বহু শিক্ষকের অফুরন্ত সহযোগিতা যেমন পেয়েছেন তেমনি শিক্ষক নামের কলংক অর্থলোভী দালাল অসৎ শিক্ষকদের বাধাও অতিক্রম করতে হয়েছে। কতিপয় অর্থলোভী দালাল অসৎ শিক্ষক অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায়ের পক্ষে না থেকে, শিক্ষকদের দাবী আদায়ের আন্দোলনের পিঠে ছুকিাঘাত করে শিক্ষা অফিসারের পক্ষাবলম্বন করার কারণেও আন্দোলনে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। কিন্তু তিনি দমবার মানুষ নন, দমেননি কখনো। তিনি তার বড় ভাইয়ের উপদেশ মনে রেখে পথ চলছেন। তাঁর বড় ভাই সব সময় বলতেন কারো কথায় কান দিলে সামনে যেতে পারবিনা। পিছনে তাকাবি না। এই সংগ্রামী পথে রশুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলগের সাধারন সম্পাদক হারুন আর রশীদ, বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি জি এম শাহ আলম, ইউপি ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গির শেখ, পিটিএ সভাপতি আক্তার হোসেনসহ সচেতন মহলের অনেকেরই সহযোগিতা পেয়েছেন। শিক্ষকদের মধ্যে মনোরঞ্জন সরকার, ডি এম মাহফুজুর রহমান, শেখ মান্নান, আতিকুর রহমান, কামাল হোসেন, শাজাহান মোল­া, অনুপমা গোশ্বামী, লাভলী আক্তার, মাহবুবুর রহমান, সোবাহান, ইমরান ভুইয়াসহ আরো অনেক শিক্ষকের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছেন সকল লড়াই সংগ্রামে। সহকারি জেলা শিক্ষা অফিসার ফেরদৌসি মেম তাঁকে বলেন, আমি একটা মেয়ে আপনিও একটা মেয়ে। আমি আপনার পাশে আছি। তিনি এই ফেরদৌসি মেম এর প্রতিও নির্ভীক সংবাদ এর মাধ‍্যমে অগাধ কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। এইউইও আমিনুর ইসলাম স্যারের কাছে তিনি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি আমাকে সর্বদা মানসিক ও অফিসিয়ালি সহযোগিতা করছেন এখনও। অসুস্থতার সময় এডিপিইও ফেরদৌসি ও নজরুল ইসলাম স্যারের সহোযোগিতা পেয়েছেন। জনগণ তাকে এতটাই ভালোবাসে যে, তাঁরা রোকসানা বেগমকে চাকরী ছেড়ে এখনই উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য ব্যাপক চাপাচাপি করছেন। তবে এ ব্যাপারে কি হবে তা সময়ই বলে দেবে। তিনি নির্ভীক সংবাদকে বলেন, আমার পিতাই আমার আদর্শ। তিনি আরো বলেন, “মানুষের সেবার তরে হোক মোর অন্তিমশয‍্যা। নির্ভীক সংবাদ পরিবার তার সাফল‍্য কামনা করছে।