প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভদিনে গভীর শ্রদ্ধা

অন্যান্য বিনোদন রাজনীতি সারাদেশ

মো. নিজাম উদ্দিন খান নিলু : আজ ঐতিহাসিক ২৩ জুন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভদিনে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি এই সংগঠনের সর্বস্তরের সকল নেতাকর্মীদের। আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই আমার নেত্রী, বাংলার দুঃখী মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে।

প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জাঁকজমকপূর্ণ হলেও এবছর কেন্দ্রের নির্দেশে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত কিছু কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন না হলেও এবছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আওয়ামী লীগ যে সবসময় জনগণের সাথে থাকে তা আমাদের দল আবারো প্রমাণ করেছে। করোনার ভয়ে যখন লেজ গুটিয়ে সব গলাবাজ রথি-মহারথিরা পালিয়েছে তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা আগলে রেখেছেন সমগ্র বাংলাদেশকে, দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, যুগে-যুগে যেভাবে সকল সংকটে,সকল সংগ্রামে অগ্রসেনানী ছিল, আজও একমাত্র আওয়ামী লীগই সংকট মোকাবেলায় মানুষের পাশে, মানবতার সেবক হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

সংগ্রামী নেতৃবৃন্দ,
আপনারা আমার রাজনৈতিক জীবনের সাক্ষী। নড়াইল জেলার রাজপথ, আমার আন্দোলন-সংগ্রামের সাক্ষী। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, জেলা যুবলীগের সভাপতি থেকে আজ আপনাদের দোয়ায় ও আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভালোবাসায় আমি দ্বিতীয় বারের মতো জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। রাজনৈতিক পদ-পদবীর পাশাপাশি আপনারা আমাকে পৌরসভার মেয়র বানিয়েছেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। জীবনে কখনো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা থেকে একবিন্দু সরে আসিনি। হয়তো একারণেই মাননীয় নেত্রী বারবার আমার উপর আস্থা রেখেছেন। এজন্য আমি আমার নেত্রীর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ। আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি চিরঋণী।

প্রিয় এলাকাবাসী,
অত্যন্ত দুঃখের সাথে, ব্যথিত হৃদয়ে আপনাদের জানাচ্ছি যে, আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আমাকে নিয়ে একটি ভিত্তিহীন খবর ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করেছেন, নড়াইল-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব কবিরুল হক মুক্তি। তিনি লিখেছেন, কর্ণেল( অব) সাজ্জাদ সাহেব আমার হাত ধরে ফুলের মালা বদল করে দলের খোলস পরিবর্তন করলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনাব সাজ্জাদ আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি নিজে কোন ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন নাই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন দেখে একজনের কাছ থেকে ফুলের তোড়াটি নিয়ে তিনি স্ব প্রণোদিত হয়ে আমাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আর জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে ও আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলে যে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যদি বিরোধী মতেরও কেউ একজন আমাদের পার্টি অফিসে এসে শুভেচ্ছা জানায় তাহলে তার শুভেচ্ছা আমরা ফিরিয়ে দিবো না, এটাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার, এটাই আওয়ামী লীগের মহোত্তম বৈশিষ্ট্য। আর তারপর তিনি নড়াইল জেলার একজন কৃতি সন্তান ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পিতা তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিপক্ষ দলের সদস্যদের প্রাপ্য সম্মান দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে আমরাও তাঁর জীবন থেকে এই শিক্ষাটিই পেয়েছি। বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়ায় কারো সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা বা পার্টি অফিসে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় মতো দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নয়।

আর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি জানি যে, পার্টিতে কাউকে যোগদান করানোর বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কোন এখতিয়ার বা ক্ষমতা কোনটাই নাই। কেবলমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনা, কেন্দ্রীয় ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

তাছাড়া সাংগঠনিক নির্দেশনা মোতাবেক দলে কাউকে যোগদান করালে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ সে বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরসম্বলিত সুস্পষ্ট ‘প্রেস বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করে থাকে যা এখানে আদৌ করা হয়নি!

যেহেতু সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জনাব সাজ্জাদ সাহেবের সাথে আমার কোন কথা হয়নি এবং তার আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়ে আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে বা সাংগঠনিকভাবে কোন বক্তব্য বা বিবৃতি দেইনি, তবুও আমাকে জড়িয়ে এমন মিথ্যাচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং আমার ও আমার প্রাণের সংগঠন নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে।

পোস্টদাতা নিজেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত একজন মাননীয় সাংসদ । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র, দলে নতুন সদস্য যোগদানের বিষয়ে নেত্রীর নির্দেশনা এবং বিগত দিনে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনিও সম্যক অবগত। আর লোকমুখে এমন কথা শুনে মাননীয় সাংসদের উচিত ছিল সাথে সাথে আমাকে ফোন করে সঠিক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়া। আমার বিশ্বাস, তাহলে ওনার বিভ্রান্তি দূর হতো। সেটি না করে এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের দলীয় বিষয়ে লেখালেখি আমার কাছে উচিত বলে মনে হয়নি। কারণ, মাননীয় সাংসদ ও আমি, আমরা একসাথে দুর্দিনে-সুদিনে এই দল করেছি ও করছি। দলের যেকোন বিষয়ে কোন মতামত থাকলে বা কোন বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে সেটি আলোচনার জন্য আমাদের দলীয় ফোরাম আছে, তাছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে আলোচনা করার মতো সম্পর্কও আমাদের আছে। দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে মাননীয় সাংসদের এমন আচরণে আমি কষ্ট পেয়েছি, কষ্ট পেয়েছে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কোন আলাপ-আলোচনা ছাড়া, আকস্মিকভাবে মাননীয় সাংসদের এমন ভিত্তিহীন ও অবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য আমার কাছে উদ্দেশ্যমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সেজন্য আমি মাননীয় সাংসদের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রিয় নড়াইলবাসী,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে পার্টির প্রতিষ্ঠাদিনে একজন মানুষের সৌজন্যতা গ্রহণ করা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, বিরোধী দলের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও আমাদের পার্টি অফিসে আসা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা বলা যদি অন্যায় হয়ে থাকে তাহলে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন।

তবে,কর্ণেল সাজ্জাদের দলে যোগদানের বিষয়ে সহযোগিতা করা তো দূরের কথা, এবিষয়ে আমার সাথে তার কোন আলোচনা বা একটি কথাও হয়নি তবুও আমার নামে এমন মিথ্যাচার ও অপপ্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক।

মিথ্যাচার, অপপ্রচার, গুজব থেকে গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মুক্তি পাক, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে এই কামনা করছি। এমন অপপ্রচারে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা কষ্ট পায়, জননেত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মীরা ব্যথিত হয়।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।