স্টার এজেন্সির মালিকের প্রতারণা

অপরাধ অর্থনীতি আইন ও আদালত খুলনা বানিজ্য সারাদেশ

পুটখালী বিট খাঁটালকে পুঁজি করে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের স্টার এজেন্সির মালিক নাসিম রেজা পিন্টু ও তার ভাই শামীম রেজা কাজল পুটখালী বিট ও খাটালের জমি জাল লীজ নামা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে প্রতারণা করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে পুটখালী বিট ও খাটালটি স্থাপিত হয়। একেক সময় একেকজন এই খাটাল নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০১৩ সালে খাটালের দায়িত্বে ছিলেন সোলেমান বিশ্বাস, ২০১৪-২০১৮ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিল জাহাঙ্গীর মেম্বর ও ঘ্যানা বিশ্বাস এবং ২০১৮-২০১৯ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিল বড় নাসির।
আরো জানা যায়, শার্শা এসিল্যান্ড অফিস হতে স্টার এজেন্সির মালিক গোপনে জমির পর্চা উঠিয়ে জাল লীজ নামা করে খাটালের অনুমোদন করে। কিন্তু জমির মালিকরা এটা জানতো না। কারণ বিভিন্ন লোক এই খাটাল পরিচালনা করতেন। কখন কে দায়িত্ব নিতেন সেটা জমির মালিকদের জানা ছিলনা। বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের দাপটে এই খাটাল পরিচালনা করতেন। এটা জমির মালিকদের কিছু করার ছিলনা। কিন্তু বিগত ইং ০৯/০১/২০২০ তারিখে জমির মালিক আব্দুল কাদের গং জানতে পারেন যে স্টার এজেন্সির মালিক জাল লীজ নামা তৈরি করে লীজ নবায়নের আবেদন করেছেন এবং আবেদনটি খুলনায় আছে। তখন জমির মালিকগণ জমির জাল লীজ নামা করার ঘটনা জেনে স্টার এজেন্সির মালিকের বিরুদ্ধে লাইন্সেস বাতিলের আবেদন করেন। এতে স্টার এজেন্সির মালিক ক্ষিপ্ত হয়ে বিট খাটাল জমির মালিক আব্দুল কাদেরেকে বিভিন্ন ভাবে খুন, গুম করার হুমকি প্রদান করেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপপ্রচার শুরু করেন।
স্টার এজেন্সির মালিক তার নিজের অফিসের প্যাডে চিঠি তৈরি করে বিট খাটালের জমির মালিক আব্দুল কাদেরকে কর্মচারী এবং তার ভাইপো মো. ফারুক হোসেনকে দায়িত্বে দেখান। কিন্তু এই বিষয়ে কেউ কিছুই জানতেন না। ঘটনা জানার পর তিনি থানায় জিডি করেন যার নং ৯৩৮/২০২০ তাং ২৬/০৩/২০২০ ইং এবং আব্দুল কাদেরকে মিথ্যা চিঠি দিয়ে এই ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। আরো জানা যায়, তাদের বিভিন্ন রকম প্রতারণা ও জালিয়াতির কারণে এলাকার বিভিন্ন লোক হয়রানী ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বাগআচড়া লতিফের নিকট হতে ইতালী পাঠানোর নাম করে ১৫,০০,০০০/- (পনের লক্ষ) টাকা গ্রহণ করেন। প্রতারণার শিকার হয়ে মামলা করেন। যার মামলা নং ১৮৭/২০১৭। তাং- ২১/১১/২০১৭ ইং। পুটখালী আবু বক্কারের ছেলে নাসিরের নিকট হতে খাটাল করে দেওয়ার জন্য ৩৫,০০,০০০/- (পয়ত্রিশ লক্ষ) টাকা স্টার এজেন্সির মালিক গ্রহণ করেন। এবং নাসিরকে দিয়ে খাটালের জমির মালিক আব্দুল কাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ফাঁসিয়ে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা চালান। এই প্রস্তাবে নাসির রাজি না হওয়া নাসিরকে উঠিয়ে নিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু আশপাশের লোক উপস্থিত হওয়ায় মৃত্যুর হাত থেকে নাসির রক্ষা পান। পরে মামলা করেন। যার মামলা নং ৪৩৩৯২ তাং- ১৬/০৫/২০২০ ইং। নাসিরকে খাটাল করে দেওয়ার নাম করে স্টার এজেন্সির মালিক ৬০,০০,০০০/- (ষাট লক্ষ) টাকা গ্রহণ করেন। লাইসেন্স না দেওয়ায় নাসির তার উক্ত টাকা ফেরত চাইলে স্টার এজেন্সির মালিক নাসিরকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। নাসির পুটখালী থানায় মামলা করেন। যার নং ১০২০ তাং- ২৯/০৩/২০২০ ইং। পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামানকে হত্যার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান মামলা করেন।
এছাড়াও যশোর-ঢাকার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রতারণা ও জালজালিয়াতি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় ঢাকার লোক বিচার করে। বিচারে জালিয়াতি প্রমান হওয়ায় স্টার এজেন্সির মালিক শামিম রেজা কাজলের একটি আঙ্গুল কর্তন করেন। এদের এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এদের এই অত্যচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।
এ ব্যাপারে বিট খাটাল জমির মালিক বলেন, যশোর পুটখালী বিট খাটালের দায়িত্বে থাকা স্টার এজেন্সির লাইসেন্সের মেয়াদ গত ৩০ চৈত্র শেষ হয়ে গেছে। তারা এখন বিট খাটালের দায়িত্বে নেই। খাটালের লাইসেন্স প্রাপ্তির অন্যতম শর্ত নিজস্ব জমি বা চুক্তির জমি থাকা বাধ্যতামূলক। এই শর্ত পূরণ করতে গিয়ে গত ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে আমার ও আমার পরিবারের জমির জালিয়াতি চুক্তি দেখায়। এ ভুয়া ও জালিয়াতির বিষয়টি তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আমি আবেদন করেছি। যা এসিল্যান্ডের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে চুক্তি ভুয়া। আমি খাটালের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বিবেচনার পর্যায়ে আছে। এ কারণে স্টার এজেন্সি পক্ষে নাসিম রেজা পিন্টু ও শামীম রেজা কাজল আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। যা চরমভাবে মানহানিকর। ফৌজদারি অপরাধ।