বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

এইমাত্র জাতীয় জীবন-যাপন সারাদেশ সাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছেন আরও ৪৫ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো ১ হাজার ৭৮৩ জনের। একই সময় দেশে আরও ৪ হাজার ১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৩ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়েছেন মোট ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি ৬৫টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ হাজার ৪১৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের সংগ্রহ করাসহ মোট পরীক্ষা করা হয় ১৭ হাজার ৮৩৭টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো সাত লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি।
তিনি জানান, নতুন করে যে ৪৫ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৬ ও নারী ৯ জন। এ নিয়ে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট মারা গেলেন এক হাজার ৭৮৩ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৫৩ জন। সব মিলিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা এখন ৫৭ হাজার ৭৮০। সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়- ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব সাতজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১১ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৪ জন, সত্তরোর্ধ্ব ছয়জন, ৮০ ও ৯০ বছরের বেশি বয়সী একজন।
তাদের মধ্যে ২২ জন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, পাঁচজন খুলনা বিভাগের, তিনজন বরিশাল বিভাগের ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন।
যে ৪৫ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৩০ জন হাসপাতালে এবং ১৪ জন বাসায়। এছাড়া হাসপাতালে আনার পর একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ১ হাজার ২৮ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৮৩৮ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬০৯ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৯৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৪ হাজার ৯৪২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৫৩ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে মোট তিন লাখ ৬১ হাজার ২২৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৬৯২ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৯৭ হাজার ৩৬৫ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৫ হাজার ৯৫৯জন।
বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়। ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।