শোকে স্তব্ধ সদরঘাট

এইমাত্র জাতীয় জীবন-যাপন রাজধানী

*পানির নিচে উপুড় হয়ে আছে লঞ্চটি
*দেড় লাখ টাকা করে পাবে মৃতদের পরিবার
*প্রাণহানির ঘটনায় বিভিন্ন মহলের শোক

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর শ্যামবাজার ফরাসগঞ্জে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরিরা মরদেহ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর পর মিলছে মরদেহ। স্বজনদের আহাজারিতে শোকে স্তব্ধ সদরঘাট। প্রায় ৪ ঘণ্টা পানিতে ডুবে থাকায় মরদেহ কিছুটা বিকৃত হয়ে গেছে। শনাক্ত করতেও বেগ পেতে হচ্ছে। উদ্ধার করা মরদেহ সাদা প্যাকেটে মুড়িয়ে একটি নৌকার উপরে রাখা হচ্ছে। এমন ৩১টি সাদা প্যাকেট নৌকাটি ভর্তি হয়ে গেছে। পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্বজনরা। করছেন আহাজারি।
অনেক স্বজন এখনও পর্যন্ত জানে না মরদেহ উদ্ধার হয়েছে কিনা। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে অনেক আগে। দাঁড়িয়ে বসে শুয়ে আহাজারি করছেন তারা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সদরঘাট।
কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মিডিয়া উইং এর কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার হায়াৎ ইবনে সিদ্দিক জানান, এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার সকাল নয়টার দিকে ময়ুর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। কেরানীগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ড থেকে মেরামত শেষে ময়ূর-২ নদীতে নামানোর সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
তবে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, সকাল নয়টার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দুই তলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক ছোট মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। এদিকে, এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেড় লাখ টাকা করে পাবে মৃতদের পরিবার : রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় মৃত পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেয়া হবে। লঞ্চডুবির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘোষণা দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া লাশ দাফনের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, এছাড়া সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় হয়েছে।
রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দোতলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক ছোট মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়।
এদিকে ঠিক কতজন যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ডুবেছে, বিষয়টি এখনও কেউই নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক ৫০ জন যাত্রী লঞ্চটিতে ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর কিছু যাত্রী সাঁতরে নদীর কিনারে উঠতে সক্ষম হন। তবে বেশিরভাগই উঠতে পারেননি। কতজন উঠতে পারেননি তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো কর্তৃপক্ষ।
পানির নিচে উপুড় হয়ে আছে লঞ্চটি : ‘লঞ্চটি ৬০-৭০ ফুট পানির নিচে উপুড় হয়ে আছে। আমি দু’টি লাশ লঞ্চের বাইরে পেয়েছি। ধারণা করছি, কিছু লাশ হয়তো বের হয়েছে।’ কথাগুলো বলছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কাজ করা বেসরকারি ডুবুরি মো. কালু।
তবে ভেতরে কত জনের লাশ আছে তা বোঝা যাচ্ছে না এখনও। শেষ ৭-৮টি মরদেহ ডুবে থাকা লঞ্চটির আশেপাশে ভাসমান অবস্থায় পেয়েছেন ডুবুরিরা।
সোমবার দুপুরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডুবুরিদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
নজরুল ইসলাম নামে আরেক ডুবুরি বলেন, ‘আমি দু’টি লাশ উদ্ধার করেছি। ভেতরে আর লাশ দেখলাম না। তবে লঞ্চটি উপুড় হয়ে রয়েছে অন্যকোথাও থাকতে পারে।’
এদিকে বিআইডব্লিউটি’র উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় এখনও ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাতে পারিনি। জাহাজটি পোস্তগোল ব্রিজের কাছ পর্যন্ত এসে আর আসতে পারছে না।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ছোট্ট দোতলা লঞ্চ মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয় ময়ূর-২ নামে আরেকটি লঞ্চ। এখন পর্যন্ত নারী, শিশুসহ ৩১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
লঞ্চডুবে প্রাণহানির ঘটনায় বিভিন্ন মহলের শোক : বুড়িগঙ্গায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে। সোমবার (২৯ জুন) পৃথক পৃথক শোকবার্তায় লঞ্চডুবিতে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং মহাসচিব (অব.) মেজর আবদুল মান্নান।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ নামের লঞ্চের ধাক্কায় কমপক্ষে ৫০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। বেড়া দেড়টা পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
লঞ্চডুবির ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন ও পিপিপি সেল) মো. রফিকুল ইসলাম খানকে প্রধান করে কমিটির প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।