রাজধানীতে ভূয়া চর্ম-যৌন বিশেষজ্ঞসহ গ্রেফতার ৩

অপরাধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে গত তিন বছর থেকে ভূয়া চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছিলেন শওকত হোসেন। কিন্তু বিষয়টি এতদিন রোগী ও তাদের স্বজনরা কিছুতেই আঁচ করতে পারেনি। অবশেষে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে তা বের হয়ে এসেছে। এ ঘটনায় ওই ভুয়া চিকিৎসককসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- ভুয়া চিকিৎসক শওকত হোসেন সুমন, ল্যাব টেকনোলজিস্ট অসীম মন্ডল ও ফার্মেসি ইনচার্জ কাকন মিয়া। গত রোববার রাতে ডেমরা থানাধীন এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিকে অভিযান চালায় র‌্যাব-৩। এতে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। পরে তাদের তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট। ওই প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও চেয়ারম্যান ছিলেন ভুয়া চিকিৎসক শওকত হোসেন সুমন
ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু জানান, শওকত চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ হিসেবে গত তিন বছর ধরে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। রোগীও আসেন তার চেম্বারে। কিন্তু নিজের না আছে বিশেষ কোনো ডাক্তারি বিদ্যা কিংবা সনদ। না আছে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো অনুমোদন। তবুও তিন বছর ধরে ‘বিশেষজ্ঞ ডাক্তার’ হিসেবে এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিকে সেবার নামে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, অভিযানকালে ভুয়া ডাক্তার সুমনকে রোগীর ব্যবস্থাপত্র প্রদানকালে হাতেনাতে আটক করা হয়। কিন্তু তিনি জিজ্ঞাসাবাদে ডাক্তারি সপক্ষে কোনো সার্টিফিকেট বা বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন। পরে হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর আগেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালে যে সকল বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চিকিৎসা প্রদান করেন বলে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তাদেও কেউই সেখানে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন না।