ওয়ারী লকডাউন সুশৃংখল পরিবেশ

রাজধানী

বিশেষ প্রতিবেদক : রাজধানীর ওয়ারীতে লকডাউন চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথমে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ এবং বাহিরে বের হওয়ার প্রবণতা দেখা গেলেও লকডাউনের ১০ম দিনে দেখা গেছে একটি সুশৃংখল পরিবেশ। লকডাউনকৃত এলাকায় বের হতে দেখা যায়নি সাধারণ কোনো মানুষকে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাময়িক অসুবিধা হলেও বৃহত্তর স্বার্থে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন তারা। কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ৪ জুলাই থেকে ওয়ারীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে চলছে লকডাউন। চলবে আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত। সেখানে গত শনিবার পর্যন্ত ১৩৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এতে শনাক্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক।
তবে সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে দায়িত্বপালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু ও সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল হোসেন এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন ৩৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী গৌরব।
লকডাউন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা কেমন আছেন তা জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় আল আজিজ ড্রাগ হাউসের মালিক মো. আলম সর্মা বলেন, লকডাউন শুরুর দিকে কিছুটা বিশৃংখলা দেখা গিয়েছিল। অনেক বাসিন্দার মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গিয়েছে। তবে এখন আপাতত একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে লকডাউন চলছে। তিনি বলেন, লকডাউন পরিস্থিতিতে যুক্তিসঙ্গত কারণ যেমন, ওষুধ বিক্রেতা, জরুরি সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গ যৌক্তিক কারণে দিনে একবার বের হতে পারছেন। আর যারা বাড়ির ভেতরে আছেন তাদেরকে সকল প্রকার সেবা দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। একইসুরে কথা বলেন, জয়কালী মন্দির মোরে হোমিওপ্যাথিক মেডিসিনের ফার্মেসির মালিক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্ধারণ করে ওয়ারীতে লকডাউন দিয়েছেন। আমরা আমাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সরকারের সেই নির্দেশ মেনে চলছে। লকডাউন শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হলেও এখন আপাতত স্থানীয় বাসিন্দারা মানিয়ে নিয়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ৪শ’ জন বাসিন্দাকে খাদ্য সহযোগীতা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো। তিনি বলেন, আমরা পুরো প্রস্তুতি নিয়েই লকডাউন কার্যকর করছি। এলাকাবাসীও সহযোগীতা করছে। তবে দুয়েকজন রয়েছেন, যারা বুঝতে চান না। তাদেরকেও বুঝিয়ে-শুনিয়ে বাসায় থাকতে বলা হচ্ছে। এছাড়া আমার পক্ষ থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩শ’ বাসিন্দাদের সবজি বিতরণ করা হচ্ছে। পূর্ব রাজাবাজারের মতো বিরক্তিকর ফোন কল নেই জানিয়ে সারোয়ার হাসান আলো বলেন, কেউ কেউ চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পছন্দ না হলে তা নিয়ে বাদানুবাদে জড়ান বা আবারও এনে দিতে বলেন। এছাড়া বনগ্রাম সংলগ্ন র‌্যাংকিন সিট্রটের একজন বাসিন্দা একদিন রাত আড়াইটায় কন্ট্রোল রুমে ফোন দিয়ে তার দরজার বাইরে শব্দ হওয়ার কথা জানান। তাৎক্ষনিক ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য গিয়ে দেখতে পান কয়েকটি বানর খাবারের জন্য দরজায় আঘাত করছিল। পরে তাদের খাবার দেয়া হয়। ওই এলাকায় বানরের বিচরণ বেশি। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, লকডাউনের কারণে প্রয়োজন হলেও তারা এলাকা থেকে বের হতে পারছেন না। স্বেচ্ছাসেবী দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পথরোধ করছেন। এলাকার বেশিরভাগ মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত থাকলেও তারাও বের হতে পারছেন না। অথচ বাইরের এলাকা থেকে লোকজন ঢুকে পড়ছেন। এ বিষয়ে ৩৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী গৌরব এর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ৪১নং ওয়ার্ডের পাশ্ববর্তী আমার ৩৮নং ওয়ার্ড। তাই এখানকার বাসিন্দাদের বিপদে-আপদে সবকিছু দেখভাল করছি। এছাড়ও জরুরি প্রয়োজন হলে গেটে থাকা রেজিস্ট্রার থাকায় নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে প্রবেশ-বাহির হতে পারছেন বাসিন্দারা। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১শ’ বেশি লোকজন বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে প্রবেশ-বাহির হচ্ছেন। তিনি জানান, ৪১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো’র সাথে পরামর্শ করে আমরা একসাথে কাজ করছি। রোববার পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনার মধ্যে যারা কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছেন। তাদেরকে আনোয়ার খান, ঢামেক ও আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। বাকিরা বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরাও আক্রান্তদের খোঁজখবর নিচ্ছি। কোনো প্রয়োজন হলে তা সাথে সাথে সমাধান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার পর দেখা যাচ্ছে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। তবে আমরা আইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি, বলেন আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী গৌরব।