রেলওয়ের চাকুরিতে পুনর্বহাল স্থায়ীকরণে মানববন্ধন

রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল পাকশী ডিভিশনের ট্রাফিক গেইট কিপারদের ৬ মাসের বেতন বকেয়া রেখে চাকুরী থেকে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে এবং সরকারি আইন মোতাবেক চাকুরীতে পুনঃবহাল ও স্থায়ীকরণের দাবিতে রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে টিএলআর/অস্থায়ী শ্রমিক (ট্রাফিক) অধিকার আদায় ফোরাম আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবু সোহেল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, উপযুক্ত কারণ ছাড়াই রেলওয়ের পাকশী বিভাগের টিএলআর ট্রাফিক গেইট কিপার ছাঁটাইয়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঈদুল আযহার আগে এতগুলো শ্রমিক কীভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবন যাপন করবেন। এইসব শ্রমিকদের দিকে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। অবিলম্বে অসহায় ও দরিদ্র ট্রাফিক গেইট কিপার শ্রমিকদের ৬ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ চাকুরিতে পুনর্বহাল ও সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী স্থায়ীকরণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। আর যদি এই দাবী না মানা হয় তাহলে ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছ।
মনিরুজ্জামান মনির বলেন, চলতি বছরের ৩০ জুন মো. আব্দুল আউয়াল, সহকারী চীফ অপারেটিং সুপারিনন্টেডেন্ট (পি) পশ্চিম, (এসিওপিএস) বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহী, সিওপিএস এর পক্ষে স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে পাকশী বিভাগের ট্রাফিক গেইট কিপারদের চাকুরী থেকে ছাঁটাই করেন। কর্তৃপক্ষের এমন হটকারিতায় দীর্ঘ ৬-৭ বছরের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকার পরও ট্রাফিক গেইট কিপারদের জীবনে আজ অন্ধকার নেমে এসেছে। অথচ ২০১৮ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নেয়া পশ্চিমাঞ্চলীয় লেভেল ক্রসিং গেইট মানোন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আবু জাফর মিয়ার এখতিয়ার বহির্ভুত কার্যক্রমের কারণে আজ করোনা পরিস্থিতিতে ট্রাফিক গেইট কিপাররা চাকুরী হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি ২০১৮ সালে তার প্রকল্পের অধীনে ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে এক হাজার গেইট কিপার নিয়োগ দেন। সেই সময়ে চাকুরী থেকে ছাঁটাইকৃত ট্রাফিক গেইট কিপাররা কর্মরত ছিলেন। কর্মরত ট্রাফিক গেইট কিপারদের জায়গায় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পের নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া উদ্দেশ্য প্রণোদিত। প্রকল্প পরিচালকের উচিত ছিল দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত দক্ষ ও অভিজ্ঞ ট্রাফিক গেইট কিপারদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা অথবা তাদের চাকুরী বহাল রেখে প্রকল্পে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক ২ বছর পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ৮১ জন ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের গেইট কিপার কোন কাজ না করেই বাড়িতে বসে বসে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতন নিয়েছেন। যার ফলে রেলওয়ের ২ কোটি ৯১ লাখ ৬০ হাজার টাকা অপচয় হয়েছে। এজন্য দায়ী প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর মিয়া। সিওপিএস/পশ্চিম, রাজশাহী গেইট কিপারদের নিয়োগ অনুমোদন দিয়ে থাকেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া তিনি তাদের চাকুরী থেকে ছাঁটাই করতে পারেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগের গেইট কিপার নিয়োগ দিতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ (কমিটি বিষয়ক শাখা)’র আদেশ নং-ম.প.বি/কঃকিঃশোঃ/কপগ-১১/২০০১-১১১, তারিখ: ০৩/০৫/২০০৩খ্রিঃ; উপ-পরিচালক, ই/৩ সংস্থাপক ও শাখার পত্র নং-৫৪.০১.২৬০০.০০৬.১১.০২৫.১২, তাং-৩/১২/১৭খ্রিঃ; মহাপরিচালকের দপ্তরের ১৭/১২/২০১৮খ্রিঃ তারিখের পত্র; জুনিয়র পার্সোনাল অফিসার-১/পঃ পত্র নং-এসট/৬০১/১১০ (লুজ-৪) (সি), তাং-০৫/১১/২০১৯খ্রিঃ; জুনিয়র পার্সোনাল অফিসার-১/পঃ পত্র নং-এসট/৬০১/১১০ (লুজ-৪) (সি), তাং-০৬/০১/২০২০খ্রিঃ; বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার/পাক্শী পত্র নং-বিপি/পাক্শী/আত্মীকরণ/ অঃজনবল/২০২০, তাং-২৯/০১/২০২০খ্রিঃ পত্রের প্রেক্ষিতে অস্থায়ী ট্রাফিক গেইট কিপার শ্রমিকদের আত্মীকরণের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সে নির্দেশনা অনুসারে ট্রাফিক গেইট কিপারদের চাকুরী রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণের কথা। অথচ সিওপিএস/পশ্চিম, রাজশাহী পত্র নং-৫৪.০১.৮১০০.১৫৪.১০.১০৬.১৬, তারিখ: ৩০/০৬/২০২০খ্রিঃ এর পরিপ্রেক্ষিতে মো. নাসির উদ্দিন, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাকশী ০১/০৭/২০২০খ্রিঃ তারিখে স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ ৬-৭ বছর থেকে কর্মরত ট্রাফিক বিভাগের ৮১ জন গেইট কিপার টিএলআর/অস্থায়ী শ্রমিকদের চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধি না করে ৬ মাসের বেতন বকেয়া রেখেই ছাঁটাই করেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে বক্তারা বলেন, অনতিবিলম্বে অসহায় ও দরিদ্র ট্রাফিক গেইট কিপার টিএলআর/অস্থায়ী শ্রমিকদের ৬ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ চাকুরীতে পুনর্বহাল ও সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী স্থায়ীকরণ করা হোক। আমরা রেলমন্ত্রী ও রেলওয়ের মহাপরিচালকে কাছে মানবিক দাবী জানাচ্ছি, তাঁরা যেন আমাদের অসহায় ট্রাফিক গেইট কিপার টিএলআর/অস্থায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহার, বাংলাদেশ রেলওয়ে টিএলআর/অস্থায়ী শ্রমিক (ট্রাফিক) অধিকার আদায় ফোরাম’র মো. রাইসুল ইসলাম, মো. আবু সোহেল, মো. আসাদুল জামান, মো. জুয়েল ইসলাম, মুন্না চৌধুরী, মুন্সী সুলতান, শিশির ইসলাম, ভানু, উজ্জল হাওলাদার প্রমুখ।