কথা বলেননি স্বাস্থ্যের ডিজি

অপরাধ আইন ও আদালত সাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : রিজেন্ট হাসপাতালের বিষয়ে তথ্য নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি অনুসন্ধানী দল আসার বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। রোববার প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুদকের ওই দল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবস্থান করে এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠক শেষে দুদকের দলনেতা ও সংস্থার উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও কথা বলতে রাজি হননি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
কথা বলার জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে অনুরোধ করলে তিনি জানান, দুদকের অনুসন্ধান চলছে বিধায় কথা বলবেন না।
এর আগে দুদকের দলনেতা ও সংস্থার উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৫ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতাল সংক্রান্ত বেশকিছু নথিপত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আমরা চেয়েছিলাম। ১৯ জুলাই তাদের তথ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেটি দেননি। বলেছেন, সোমবার দুদক কার্যালয়ে তারা রেকর্ডপত্র পাঠিয়ে দেবেন।
এর আগে রোববার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে হঠাৎ করেই আবু বকর সিদ্দিকীর নেতৃত্বে দুদকের চার সদস্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসেন। ১টা ৫৫ মিনিটে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের কক্ষে প্রবেশ করেন।
ঠিক দেড় ঘণ্টা পর বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তারা কক্ষ থেকে বের হন। বৈঠক চলাকালে কাউকে বের হতে এবং বাহির থেকে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
গত ১৩ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতাল ও এর চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মাধ্যমে অভিযোগটি অনুসন্ধান করা হবে। যার জন্য তিন সদস্যের একটি দলও গঠন করা হয়। কমিশনের উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধান দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেনÍমো. নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।
গত ৬ জুলাই নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ ও করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট ও সার্টিফিকেট দেওয়া ও রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের দুটি হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম। অভিযানে গিয়ে প্রতারণার সত্যতা মেলে, সেই সঙ্গে পাওয়া যায় গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য।
পরদিন ৭ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের মূল কার্যালয় এবং রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে এর দুটি হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হয়। হাসপাতালটি প্রতারণা করে ১০ হাজারেরও বেশি করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়েছে।
অভিযানের সময় রিজেন্ট হাসপাতালের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকসহ আট জনকে আটক করে র‌্যাব। এরপর রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।