দেশের সূর্যসন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সমস্যা দেখার কেউ নেই

অন্যান্য বিবিধ

অথচ সমস্যা সৃষ্টি ও হয়রানীর লোক আছে

 

মোঃ করম আলী : দেশে করোনা সংকট শুরুর দীর্ঘ চারমাস পর আজ ঢাকাজেলাধিন দোহার উপজেলার নিজ ইউনিয়ণ কুসুমহাটির মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের নিয়ে কার্তিকপুর বাজারের এক হোটেলে দুপুরের খাবার খেলাম। ইউনিয়ণ সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শিকদারের নেতৃত্বে এ মধ্যান্নভোজে অংশ নিয়েছেন ইউনিয়ণ সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহ আল ফারুক, সাবেক উপজেলা কমান্ড সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মুন্সী আব্দুস সালাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম ভূইয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: লুৎফর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভূইয়া ও আমি একেএম করম আলী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সভাপতি ঢাকাজেলা//বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ।
আজ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আকর্ষিক ডাটাবেজ জমা দেওয়ার তারিখ। কমান্ডারের ফোন পেয়ে কাগজ পত্র নিয়ে চলে এলাম এলাকায়।
এমনি করে ৪৯ বছরে মুক্তিযোদ্ধারা বহুবার ডাটাবেজসহ বহু রকম কাগজ পত্র জমা দিতে দিতে আজ অনেকে কবরে চলে গিয়েও শান্তিতে নেই। কারণ দুনিয়ায় তার প্রতিনিধি স্ত্রী বা ছেলে মেয়েরা এখন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীবাহাদুর ও তার অপরিপক্ষ অমুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমলাদের খামখেয়ালিপনায় নানা রকম অপ্রয়োজনীয় বা একই পরিপত্র বারংবার আদেশ নির্দেশের মাধ্যম্যে মৃত্যূপথ যাত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেই বিধায় সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বলার কোন নেতা নেই। মন্ত্রনালয়ের আমলারা যখন তখন ইচ্ছা মত অপ্রয়োজনীয় আদেশ নির্দেশ জারি করে মুক্তিযোদ্ধাদের দিশেহারা করে দিচ্ছে।
অথচ মন্ত্রীবাহাদুর ও মন্ত্রনালয়ের আমলাদের মূল কাজ মুক্তিযোদ্ধাদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সহ তাদের চুড়ান্ত সনদ প্রধান, অমুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল, দুর্মূল্যের বাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি,গৃহ নির্মাণের জন্য বিনাসুদে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা, কিন্তু তারা উহার ধারে কাছে নেই।
শুধু বঙ্গবন্ধুকন্যা বিশ্ব মানবতার জননী, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রিয় বোন শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন বলেই আমরা মর্যাদাপূর্ণ সম্মানটি ও আর্থিক সম্মাননা ভাতা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তার কাছ থেকে পাচ্ছি এবং আগামিতেও পাবো বলে আমাদের শেষ ভরসাস্থল তিনি।
এ জন্য আমরা মুক্তিযোদ্ধারা চির কৃতজ্ঞ থাকবো তার কাছে, কৃতজ্ঞ থাকবে আমাদের সন্তানরা ও আগামি প্রজন্মরা।যেমন তার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে ৭১ সালে অস্ত্র হাতে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিও আমাদের শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে বাঙালির হৃদয়ে তিনি চির অম্লান হয়ে থাকবেন।
করোরা মহামারিতে প্রতিদিন ৮/১০ জন করে বীরমুক্তিযোদ্ধারা চির বিদায় নিচ্ছেন পৃথিবী থেকে তা দেখেও কোন আমলার মনে একটুও অনুসুচনা হয় না। ‘৭১ সালে ছাত্র-শিক্ষক,কৃষক, শ্রমিকরা জীবন বাজি রেখে জীবন দান করে এক সাগর রক্ত বিলিয়ে পাক হানাদারদের সাথে মরণপণ যুদ্ধ করে দেশটি স্বাধীন করে ছিলাম বলেই অমুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানরা সচিবালয় সহ বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় চেয়ারে বসার সুযোগ পেয়েছে এটা শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের দান। সুতরাং এই বীরমুক্তিযোদ্ধাদের পদ স্পর্শ করে নতমস্তকে যার যার চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং বীরমুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান,অমর্যাদা,হয়রানী থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় পূত্র যেমন পিতাকে অর্মযাদা অসম্মান মানহানি করলে পিতা ত্যাজ্য পূত্র করে তেমনি আমলারা বীরমুক্তিযোদ্ধাদের অর্মযাদা অস্মমান হয়রানি করলে তাদেরকেও অনুরোপভাবে দেশের ত্যাজ্য সন্তান বলে আখ্যায়িত করা হবে।
জয়বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধু।