ফুরফুরে আ’লীগ

এইমাত্র রাজনীতি

অসহায়দের পাশে থাকা নেতাদের
মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

 

বিশেষ প্রতিবেদক : মহামারি করোনা সঙ্কটে নিজের জীবন বাজি রেখে যারা আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে অসহায়-শ্রমজীবি ও কর্মহীণ মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন, সেইসব নেতাদের মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসাথে মূল দল ও দলের সহযোগি সংগঠনগুলোর কমিটিতেও পরীক্ষিত এসব নেতাদের অর্ন্তভূক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয়প্রধান। এতে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক ও তৃণমূলের এই নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে নিষ্কৃয় হয়ে পড়া নেতাদের মধ্যে আবারো প্রাণের সঞ্চার ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যক্ষ সুজাউল করীম চৌধুরী বাবুল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দুর্দিনে জীবন বাজি রাখে ত্যাগী নেতারা। আর দল ক্ষমতায় থাকলে ফায়দা লুটে একশ্রেনির সুবিধাভোগি দালাল ও আগাছা হিসেবে পরিচিতরা। দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের সক্রিয় করতে যে ঘোষণা দিয়েছেন, এতে আবারো তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার ঘটেছে। তিনি বলেন, নেত্রী ভালো করেই জানেন, ত্যাগীরা কখনো দল ছাড়ে না, দলের দুর্দিনে ঠিকই জীবন বাজি রেখে ঝাপিয়ে পড়েন।
দলীয় সূত্রমতে, দীর্ঘ সময় সরকারে থাকার সুবাধে আওয়ামী লীগে হাইব্রিড বা দলছুট নেতাদের দাপট দিনকে দিন বেড়েই চলছিল। এতে কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়েও দলকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। যদিও অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিবলয় ভারী করতে গিয়ে তৃণমূল কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি ও অন্য দলের লোকদের প্রাধান্য দেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগ থেকে বের হয়ে তৃণমূলকে সংগঠিত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহামারি করোনা ভাইরাসের সময় জীবন ঝুঁকি নিয়ে মানবিক কর্মকা-ে এগিয়ে এসেছেন এমন নেতাদের আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনে স্থান দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
অতিসম্প্রতি অনুষ্ঠিত দলের সভাপতিম-লীর সভায় ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্ন তৃণমূল গঠনের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিতর্কিত, নব্য আওয়ামী লীগ ছেঁটে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও মানবিক কর্মকা-ে জড়িত নেতাদের দলে জায়গা দিতে সিনিয়র নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব কমিটি ইতোমধ্যে দপ্তরে জমা পড়েছে, সেখানে বিতর্কিত কেউ থাকলে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে শক্তিশালী তৃণমূল গঠনে বিভাগীয় সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সভাপতিম-লীর সভার সিদ্ধান্তসমূহ তৃণমূল নেতাদের চিঠি দিয়ে পালনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওই চিঠিতে তৃণমূলকে পাঁচটি বিষয়ে অবহিত করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, সারা দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার লক্ষ্যে ৮ টি বিভাগীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিভাগীয় কমিটিতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের পাশাপাশি সভাপতিম-লীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, গত বছর ২১তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে-পরে আওয়ামী লীগের ৩১টি সাংগঠনিক জেলার কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ বাকি সাংগঠনিক জেলাসমূহে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। তবে জেলা সম্মেলনের পূর্বে জেলার অধীন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা কাউন্সিল সম্পন্ন করতে হবে। নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ত্যাগী-পরীক্ষিত বিশেষ করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও করোনাকালীন যারা দেশের মানুষের কল্যাণে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের মূল্যায়ন করতে হবে।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম শুভ জন্মদিন। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে সকল মসজিদে দোয়া মাহফিল ও মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সকল উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে আলোচনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে। চিঠি পেয়েছেন জানিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কর্মকার বলেন, কাদের ভাই স্বাক্ষরিত চিঠি পেয়েছি। আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো, সে প্রস্তুতি আছে। শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু অনল কুমার দে বলেন, চিঠির কথা শুনেছি, এখনো হাতে পাইনি, কাল হয়তো পাবো। তবে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে নির্দেশনা মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা বাদ পড়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সামনে যে কমিটিগুলো গঠন করা হবে, সেগুলোতে অবিতর্কিত এবং ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ সময় যেসব কমিটি জমা হয়েছে, সেখানে স্বজনপ্রীতি ও নিজেদের লোক দিয়ে কমিটি দেয়া হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।