কেয়ারগিভারস নিয়ে আপন বাজারের নতুন স্টাইলে এমএলএম বাণিজ্য

অপরাধ রাজধানী

আজকরে দেশ রিপোর্ট : কেয়ারগিভিং হলো মেডিকেল সেবাদানকারী একটি পেশা। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ৬ মাসের একটি সার্টিফিকেট কোর্স। বাংলাদেশে বৃদ্ধ, শিশু প্রতিবন্ধী এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগীদেরকে হাতের কাছে সেবা প্রদানের জন্য বিদেশের অনুকরণে এই কোর্স চালু করা হচ্ছে। এই কোর্স সম্পন্ন কারি ব্যক্তিকে বলা হয় কেয়ারগিভারস। দেশে এবং বিদেশে এই পেশাজীবীদের যথেষ্ট চাহিদা আছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে কেয়ারগিভারস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ নামে একটি ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ডা: মো: বাশিদুল ইসলাম। ঠিকানা: হাউস-৫৩, রোড-৮, নবীনগর প্রজেক্ট, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭।
এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ অবশ্যই অনেক সময় উপযোগী এবং প্রশংসনীয়। কিন্তু এরকম একটি মেডিকেল শিক্ষা বিষয়ক কোর্স নিয়ে অবৈধ এমএলএম ব্যবসা করেছে আপন বাজার নামে একটি প্রতারক এমএলএম কোম্পানি।
আপন বাজার বিভিন্ন ধরনের পণ্যের বিপরীতে পয়েন্ট দিয়ে গ্রাহকদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আপন বাজার তাদের মিরপুরের অফিস ছেড়ে বর্তমানে মোহাম্মদপুরের কেয়ারগিভারস ইনস্টিটিউটের ৪র্থ তলায় নতুন অফিস নিয়েছে। কেয়ার গিভিং এর মত একটি মহৎ পেশাকে পণ্য হিসেবে নিয়ে আপন বাজার অবৈধ এমএলএম ব্যবসার ফাঁদ পেতেছে। কেয়ারগিভারস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের মার্কেটিং করছে বর্তমানে আপন বাজার।
কেয়ারগিভারস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ দেশের প্রতিটি থানা বা জেলায় একটি করে ব্রাঞ্চ স্থাপন করার ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ সারাদেশে প্রায় ৫৬০ টি শাখা খোলা হবে, বিষয়টির কোনো আইনগত ভিত্তি আছে কিনা? ব্রাঞ্চ স্থাপনের জন্য স্থানীয় উদ্যোক্তার নিকট থেকে ১৮ লক্ষ টাকা অগ্রিম নেয়া হয়। একটি ব্রাঞ্চ স্থাপনের জন্য ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকার প্রয়োজন, অথচ একজন লোকাল উদ্যোক্তার নিকট থেকে ১৮ লক্ষ টাকা অগ্রিম নেয়া হচ্ছে। এই অতিরিক্ত নেয়া ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে কেয়ারগিভারস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) ডা: মোঃ বাশিদুল ইসলাম এর যোগসাজশে এমএলএম কোম্পানি আপন বাজার তাদের অবৈধ এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করছে।
আপন বাজারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেদী হাসান ও চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ২ জন আপন ভাই। তাদের এমএলএম এর ফাঁদে পড়ে লক্ষ লক্ষ লোক প্রতারিত হয়েছে এবং হাজার হাজার এমএলএম কর্মী নিঃস্ব হয়ে দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছে এবং আপনজনের কাছে হয়েছে পর। মিরপুরে ঘটনাটি এখন সকলের মুখে মুখে। প্রশাসনিক চাপের মুখে আপন বাজার ব্রিগেডিয়ার সাহেবের আশ্রয় নিচ্ছে। উপরোক্ত বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।