নিয়ন আলোর সুখানুভূতি

অন্যান্য বিবিধ সাহিত্য

মুস্তাফিজুর রহমান : রাত নিঝুম হয়, বেদনারা নড়েচড়ে বসে। গভীর রজনীতে শহুরে ইট পাথরের প্রাসাদগুলো বিশ্রাম নেওয়ার প্রত্যয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়, শুনশান নীরবতা, নিভে যায় কক্ষের আলোকসজ্জা। প্রশান্তির ছোয়ায় আপনজনের বুকের বিশ্বস্ত ও নিরাপদ বলয়ে মাথা রেখে ঘুমায় অগনিত মানুষ। হরহামেশাই দৃষ্টিতে আসে উচুতলার ডিলাইটফুল কিছু হাউজের আলো জ্বলে থাকা কক্ষগুলো, অস্থির পায়চারী আর বিষন্নতার চিৎকারের আওয়াজ পাই প্রায়ই। পৃথিবী ঘুমের রাজ্যে মগ্ন হলেও ঘুমাতে পারেনা অসংখ্য মানুষ! নিয়তি তাদের ঘুমাতে দেয়না।

জীবনের সাথে জড়িত খুব ছোটছোট ইস্যু গুলো বিশাল বৃত্তাকার ধারন করে বিষন্নতার মশাল জ্বালিয়ে যন্ত্রনার আলোকায়ন করে রাখে। কেউ গভীর ঘুমে মগ্ন থেকে জীবনের প্রশান্তি নেয়, কেউ বিরহ ব্যাথাকে আগুনের ফুলকিতে প্রসারতা বাড়িয়ে জীবন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চায়। এটাই জীবনের নির্মমতা।

প্রযোজ্য, অপ্রযোজ্য ছোটখাটো ইস্যুগুলোকে আমরা কেন ছাড় দিতে পারছিনা। দ্বিমাত্রিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া মতানৈক্যর ফলাফলে জীবন বড়ই বিপর্যস্ত। কেউকেউ সারারাত প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে প্রভাতে শান্তির নির্মল বায়ুতে স্নান করে পবিত্রতা অর্জন করে, কেউবা নিষিদ্ধ পল্লী বা যৌলুসপূর্ণ নিরাপদ কক্ষেল ষোড়শী প্রমিলার হাতে ঢালা এলকোহলের প্রশান্তি নিয়ে কুটিরে ফিরেই অপেক্ষমাণ নির্ঘুম ঘরণীর সুবিশাল কেশে হস্তমুষ্টির নির্মম রিহার্সেল করে কথিত সুখের পোষ্টমর্টেম করে। ঠিক এমনি করেই অসংখ্য জিন্দালাশ খ্যাত পুরুষ অপ্রত্যাশিত আচরণের শিকার হয় ঘরণীর কাছে। পরকীয়ার বলিতে সুখের বিনষ্টতা নিয়ে দুই মেরুর বাদিন্দা হতে হয় অগণিত মানুষকে। এমনভাবে বেচে থাকার স্বার্থকতা কোথায়!

আত্নতুষ্টির বালাই নেই আমাদের মানসিকতায়। ছাড় দেওয়ার প্রবণতা আমরা ইরেস করে দিয়েছি জীবনের প্রযোজ্য অভিধান থেকে। অন্যের ইচ্ছাশক্তি, আর ক্ষুদ্র চাওয়া পাওয়াগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে না পারলেও সম্মানজনক ডায়ালশনের মাধ্যমে সুখানুভূতি নেওয়ার মানসিকতার দৃষ্টিতে অন্ধের চশমা পরেছি। নিজের ইচ্ছাশক্তিকে স্বাধীন ভেবে অন্যের অধিকার আর চাওয়া পাওয়াকে নিত্য কবর দিচ্ছি তুচ্ছার্থে। জীবনের গতিপথ এমন হওয়ার কথা ছিলোনা। ইচ্ছা অনিচ্ছার বহুমাত্রিক গ্লিসারিন ঢেলে দিয়েই মসৃন পথকে আমরা বন্ধুর করে তুলেছি, যেখানে খামখেয়ালিপনার পদচারণায় বিষন্নতার উষ্ঠা নিয়মিতই জীবনের উপহার হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে।

নিজ ইচ্ছাশক্তি আর চাওয়া পাওয়ার অগ্রাধিকার যেমন অন্তরে লালন করি, ঠিক প্রিয় মানুষটার সুপ্ত ইচ্ছাশক্তি ও অনুভূতিগুলোকে পূরণ করতে না পারলেও সম্মানের সাথে সেভাবেই অপসারণ করি, যেন না পাওয়ার বেদনায়ও তিনি তৃপ্তির ঢেকুর নিতে অভ্যস্ত হয়। দোল পূর্ণিমার রাতে গগনের প্রস্ফুটিত চন্দ্রের অবয়ব পরখ করে তুমি কি তৃপ্তি পাও আমি জানিনা কিন্তু তোমার আহলাদি মুখাবয়ব ও ডাগর হরিণী চোখে চাদের আলোর সুমিষ্ট জোৎস্না থেকেও অজস্র আবেদনের সুখানুভূতি খুজে ফিরি ।

জীবনের প্রতিটি ধাপে সম্মানবোধ ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকলে অন্যের জীবন সুখময় হয়।