স্বপদে বহাল থেকে ভোটে লড়বেন মেয়র-কাউন্সিলররা

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : সারাদেশের ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে শুধুমাত্র পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলররা স্বপদে থেকেও নির্বাচন করতে পারবেন। তবে অন্য কোনো স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্যরা স্বপদে থেকে পৌরসভা নির্বাচন করতে পারবেন না।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা স্বীয় পদে থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে সরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষকদের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
প্রথম ধাপের পৌরসভা ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পরিপত্র-৬ জারি করেছে। সেখান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৯(১) ও ১৯(২) এ যথাক্রমে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
সেই আলোকে জারি করা পরিপত্র-৬ এ বলা হয়েছে, কোন প্রার্থী ফৌজদারি বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন ২ বছর কারাদ-ে দ-িত হলে এবং ওই দ-াদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল হলে এবং আপিল আদালত নি¤œ আদালতের রায় বা সাজা স্থগিত না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। এ ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত আপিল গ্রহণ করলেও তিনি অযোগ্য হবেন বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থী জামিন পেলেও অযোগ্য হবেন। অর্থাৎ সাজা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। এ ধরনের দ-ে তার মুক্তিলাভের পর ৫ বছর কাল অতিবাহিত না হলেও তিনি অযোগ্য হবেন।
মেয়র পদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যারা ইতোপূর্বে মেয়র বা পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করার প্রয়োজন হবে না। তবে অন্যান্য নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরকে ১০০ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা দিতে হবে।
কোনো সমবায় সমিতি এবং সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নির্বাচনে অযোগ্য হবেন না। তবে পৌরসভার সাথে সম্পৃক্ত চুক্তির ক্ষেত্রে অযোগ্য হবেন।
বাস্তবায়নাধীন বা চলমান প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত ঠিকাদাররা নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। তবে অনেক আগে কাজ করতেন এবং বর্তমানে করেন না, এমন ক্ষেত্রে অযোগ্য হবেন না।
সরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইস্তফা গ্রহণ করেছে এমন প্রমাণাদির কাগজপত্রও দাখিল করতে হবে। ইস্তফা গ্রহণ করার সপক্ষে কাগজপত্র দাখিল না করতে পারলে তিনি অযোগ্য হবেন।
সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করলে নির্বাচন অংশগ্রহণ করতে পারবেন। পেনশনভুক্তরা নির্বাচনে যোগ্য হবেন। তবে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি নিলে ৩ বছর অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবে না। পিআরএল চাকরির অংশ নয় বিধায় পিআরএল-এ থাকলে নির্বাচনে যোগ্য হবেন বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে পঞ্চগড়, পীরগঞ্জ, ফুলবাড়ী, বদরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, পুঠিয়া, কাটাখালী, শাহজাদপুর, চাটমোহর, খোকসা, চুয়াডাঙ্গা, চালনা, বেতাগী, কুয়াকাটা, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ, মদন, মানিকগঞ্জ, ধামরাই, শ্রীপুর, দিরাই, বড়লেখা, শায়েস্তাগঞ্জ ও সীতাকু– এই ২৫টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে।