কর্মহীন শ্রমিকদের নগদ সহায়তা প্রদান

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে রপ্তানিমূখী তৈরী পোশাক, চামড়াজাত পন্য ও পাদুকা শিল্পের কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুঃস্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় নগদ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সম্মেলনকক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে শ্রম প্রতিমন্ত্রী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারীর কারণে তৈরি পোশাক এবং চামড়া ও পাদুকাশিল্পে কর্মহীন দুঃস্থ শ্রমিকদের জরুরী মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সরকার এই সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। এতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ফেডারেল জার্মান সরকার অর্থায়ন করতে সম্মত হয়।

প্রতিমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, জাতির পিতা আমৃত্যু দেশের খেটে খাওয়া শ্রমিকের দু:খ দুর্দশা লাগবে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন। জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী ৩১ দফা ঘোষণা করেন। তৈরি পোশাক কারখানা মালিকগণ সহযোগিতা চাওয়ার আগেই অর্থনীতি পূণরুদ্ধার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য অর্থ প্রদান করেন।

কর্মহীন শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে সরকার গঠিত কমিটি, সংশ্লিষ্ট শিল্প সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সহযোগীতায় যাচাই বাছাই শেষে চুড়ান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রাপ্ত ১৭৯৪ জন কর্মহীন শ্রমিককে সেপ্টেম্বর ২০২০ মাসের জন্য প্রথম পর্যায়ে জনপ্রতি ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক সিষ্টেমে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বর্ণিত উপকারভোগীর নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে প্রদেয় টাকা চলে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি সাংবাদিকদের বেশি বেশি প্রচারের অনুরোধ করেন। এতে ০৪ টি শিল্প সেক্টরের কর্মহীন শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে তারা নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে প্রণীত ইলেকট্রনিক পদ্ধতির চাহিদামতে তাদের সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি আপলোড করবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো সকল সেক্টরের সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি কর্মহীনতার মুখে পড়েছেন অথবা অসুস্থ বা অন্য কোন কারণে দুঃস্থ হয়ে পড়েছেন, তাদেরকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানে উৎসাহিত হবেন। সরকারের এ কার্যক্রম চলমান থাকবে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ও জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি বেগম সামসুন নাহার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে, এম আব্দুস সালাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান চার্জ ডি এ্যাফেয়ার্স Ms. Constanza Zaehringer, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর হেড অব কো -অপারেশন Mr. Maurizio Cian এবং বিজিএমইএ এর সেক্রেটারি কমোডোর (অবঃ) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ.কে.এম. মিজানুর রহমান । অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ০৪ টি শিল্প সংগঠন: বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, লেদারগুডস এন্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এবং বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস এন্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার এসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ) এর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।