ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ প্রতিশ্রুতি বায়স্তবায়ন

অর্থনীতি এইমাত্র জাতীয় জীবন-যাপন সারাদেশ

 

বিশেষ প্রতিবেদক : এক যুগ আগে নির্বাচনি ইশতেহারে রূপকল্প-২০২১ ঘোষণার মাধ্যমে লোডশেডিংপীড়িত জনগোষ্ঠিকে আলোর স্বপ্ন দেখায় আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় এসে সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেছে দলটি। আর এ সাফল্যের সুফল পৌঁছেছে মাঠ-ঘাট-চরাঞ্চল ও দুর্গম পাহাড়ে। বাস্তবে রূপ নিয়েছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, শতভাগ বিদ্যুতায়িত জেলা বা উপজেলার স্বপ্ন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩ হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ২০০৯ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে দেশে ৯৭ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে।
মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে হাতে নেয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। দেশে ৪৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে আরো ১৬ হাজার ৮৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
এছাড়াও ২ হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম আরো ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। অদূর ভবিষ্যতে ১৯ হাজার ১শ’ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আরো ১৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে মেগা প্রজেক্টের। কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে যৌথ উদ্যোগে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পাবনার রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে।
মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পাওয়ার লক্ষ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য সূত্র থেকে আসছে। ৫৮ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রিড বহির্ভূত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবেই উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ-মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মাত্র ১২ বছরেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।
বিদ্যুৎ খাতের গবেষণা ও পরামর্শক সংস্থা পাওয়ার সেলের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন ১৪১টি, ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিলো ২৭। এ সময়ে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট থেকে পৌঁছেছে ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়ার আগে ৪৭ ভাগ মানুষ ছিল বিদ্যুতের আওতায় ছিল। এখন তা হয়েছে ৯৯ ভাগ। আর মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ আড়াই গুণ হয়েছে।
উৎপাদনের পাশাপাশি বেড়েছে বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা। গত এক যুগে নতুন করে বিদ্যুতের সুবিধায় এসেছে ২ কোটি ৮৩ লাখ গ্রাহক। আর বিতরণের ক্ষেত্রে সিস্টেম লস ১৪ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে সাড়ে ৮ শতাংশে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, মাঠ-ঘাট-চরাঞ্চল পেরিয়ে দুর্গম পাহাড়ে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে নানা সাফল্যের পর বর্তমান সরকারের সামনে এবার চ্যালেঞ্জ সবাইকে কম দামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়া।