মিচকে শয়তান

সাহিত্য

মোস্তাফিজুর রহমান : কূটবুদ্ধি ও মিষ্টভাষার মাধ্যমে অন্যের ভাল কর্মকাণ্ডকে ক্ষণিকের জন্য স্থবির করা যায় কিন্তু আটকে রাখা যায়না। কারণ নিদিষ্ট একটা সময়ের পরে মস্তিস্ক তার কূটকৌশলের খরস্রোতা হারিয়ে ফেলে। সরল প্রকৃতির মানুষগুলো অন্ধত্ব বরণ করে চলে বিধায় কূটবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষগুলো তাদের সরলতাকে সুবিধাজনকভাবে ব্যবহার করে লক্ষ্যে না পৌছানোর জন্য সরল পথকে অবরুদ্ধ করে দেয়। কারণ এরা জানে যে, ভাল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কেউ যদি সামাজিক যশ, খ্যাতি, ও সুনাম অর্জন করে ফেলে, তাহলে কূটবুদ্ধির বাজার মন্দা যাবে এবং তাদের কদরের মাত্রা শূণ্যে নেমে আসবে বিধায় এরা সার্বক্ষণিক মানবিক ও মঙ্গলময় কর্মকান্ডকে কৌশলী হয়ে নিরুৎসাহিত করে থাকে, যাতে সরাসরি দোষী না হয়।

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র আজ অনেকক্ষেত্রেই এমন কূটকৌশলীদের আয়ত্তে। এতদিন জানতাম এক ফকির অন্য ফকিরের শত্রু কিন্তু তারাও ইদানীং জমায়েত হয়ে কোরামের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তিতে অর্জন বৃদ্ধি করেছে কিন্তু সুস্থ মস্তিষ্কের বেশীসংখ্যক মানুষ আজ মঙ্গলকামী মানুষের মানবিক কর্মকাণ্ড ভেস্তে দেওয়ার জন্য নানান অযুহাতে বিপথে পরিচালিত করে নিজ ভিত্তি মজবুত করার পায়তারায় ব্যস্ত। মস্তিষ্কের বিচক্ষণতা স্থায়ী নয় জেনেও এরা মুখোশ পরে আত্নসমৃদ্ধির জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। আর কতদিন মস্তিস্কের জোর থাকবে মামু, একবারও কি ভেবে দেখেছো!

অন্যের সাথে যৌক্তিক প্রতিযোগিতা ভাল কিন্তু অন্যের কল্যাণকর কর্মকাণ্ডকে কূটকৌশলের মাধ্যমে নিরুৎসাহিত করে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার মধ্যে যে নোংরামি দৃশ্যমাণ হয়, তা হয়তো অনেক মিচকে শয়তান ভুলে গিয়েছে। পাপের প্রায়শ্চিত্ত যখন দৃশ্যমাণ হবে, তখন মামুদের এই বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা মোবারক কেমন হবে, তা বিভিন্ন জনের অনৈতিক কর্মকান্ডের ফলাফল হিসেবে আমরা অনেকেই দেখার সৌভাগ্য বরণ করেছি।

অন্যের মানবিক ও কল্যাণকর কর্মকাণ্ডকে নিরুৎসাহিত না করে পারলে মানবিক মানুষ হয়ে পাশে দাড়ান, এতে আপনার সম্মানবৃদ্ধি পাবে এবং অভাবগ্রস্থ মানুষগুলো অন্যের সহযোগিতা নিয়ে অভাববোধ হ্রাস করার সুযোগ পাবে। কেউ যদি নিজকে খ্যাত বানানোর স্বপ্ন দেখে থাকেন, তাহলে অন্যের বন্ধুর পথকে সহজীকরণ করতে উদ্দুদ্ধ হোন, তাহলেই অন্যরা আপনাকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে মেনটর ও বিখ্যাত হিসেবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অধিষ্ঠিত করবে।