বিশ্বের ইতিহাসে নতুন সংযোজন

এইমাত্র জাতীয় জীবন-যাপন সারাদেশ

৭০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি উপহার

গৃহহীনদের নতুন ঘর মুজিববর্ষের সবচেয়ে বড় উৎসব

প্রতিটি মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করবে সরকার

মোট ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ টি পরিবার ঘর পাবে

উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে।

যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রায় ৭০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি করে দিয়েছে সরকার। সরকারের এই উদ্যোগ বিশ্বের ইতিহাসে নতুন সংযোজন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এই প্রকল্পের পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের বিশাল অর্জন।
শনিবার সকালে এসব বাড়ি হস্তান্তর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একযোগে এতগুলো পরিবারকে ঘর উপহার দেয়া বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।
ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর দেয়াই মুজিববর্ষের সবচেয়ে বড় উৎসব। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তিতে দেশের একটি পরিবারও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না বলেও জানান শেখ হাসিনা। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ হিসেবে এই ঘর উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
দুই শতাংশ করে জমি রেজিষ্ট্রেশনসহ এই ঘর হস্তাস্তর করা হয়। দেশের ৪৯২ উপজেলায় এই কার্যক্রম স্থানীয় ভাবে সমন্বয় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষে একসঙ্গে এতগুলো মানুষকে ঘর দেয়ার উৎসবের চেয়ে আর বড় কোন উৎসব হতে পারে না। আজ আমার জন্য আনন্দের দিন। যেসব মানুষের ঠিকানা ছিল না, ঘর ছিল না, তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে পারছি।
আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের মোট ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ টি পরিবারকে ঘর করে দেবে সরকার। দারিদ্র্য বিমোচনে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে সরকারের এমন উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পাকা বাড়ি পেল ৭০ হাজার পরিবার : মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমার অত্যন্ত আনন্দের দিন। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করতে পারা বড় আনন্দের।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কথাই ভাবতেন। আমাদের পরিবারের লোকদের চেয়ে তিনি গরীব অসহায় মানুষদের নিয়ে বেশি ভাবতেন এবং কাজ করেছেন। এ গৃহ প্রদান কার্যক্রম তারই শুরু করা।
এ সময় লাইভে যুক্ত ছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা। এছাড়াও দেশের সব উপজেলা অনলাইনে যুক্ত হয়।
প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সেমিপাকা বাড়ি। প্রতিটি বাড়িতে থাকছে দুটি শোবার ঘর, একটা রান্নাঘর, একটা ইউটিলিটি রুম, একটি করে বারান্দা ও টয়লেট। ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি ছাড়াও প্রতিটি ঘরে থাকবে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা।
জানা গেছে, প্রথম ধাপে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমি দিয়ে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত এমন পরিবারের সংখ্যা (জুন ২০২০ পর্যন্ত) ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি। আর ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত অর্থাৎ যার ১-১০ জমি আছে কিন্তু ঘর নেই বা ঘর আছে খুবই জরাজীর্ণ এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি। ‘ক’ ও ‘খ’ দুই শ্রেণিতে মোট পরিবারের সংখ্যা ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২।
দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না এমন ঘোষণা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ২০২০ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুজিবর্ষে দেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না।
সরকার সকল ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী শুরু হয় প্রতিটি অঞ্চলে গৃহহীনদের তালিকা তৈরির কাজ। তালিকা তৈরি শেষে শুরু হয় করে বাড়ি নির্মাণের কাজ। এরইমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার বাড়ির কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এই কাজ করছে। খাসজমিতে গুচ্ছ ভিত্তিতে এসব ঘর তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব ঘরের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘স্বপ্ননীড়’, কোথাও নামকরণ হচ্ছে ‘শতনীড়’, আবার কোথাও ‘মুজিব ভিলেজ’।