এলজিইডি’র নির্মানাধীন রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার

সারাদেশ

কাজ না করে অবহেলায় ফেলে রাখায় নিদ্রিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন হলো না, পথচারীরা চরম দুর্ভোগে

 

 

সুমন হোসেন, যশোর প্রতিনিধি : অভয়নগরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্মানাধীন একটি প্রকল্পের ৪টি প্রাকেজের রাস্তা কার্পেটিং ও পিচ দ্বারা রাস্তা গুলোর নির্মাণে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাস্তা নির্মাণে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দীর্ঘদিন ধরে কাজ না করে ফেলে রাখায় সাধারন মানুষের ভোগান্তির যেন অন্ত নেই। রাস্তা গুলো নির্মাণের কাজটি করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঝিনাইদহ জেলার কাঞ্চননগর উপজেলার মেসার্স ইমন এন্টারপ্রাইজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ মেসার্স ইমন এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী আবু তালেব নিজে কাজ না করে মনিরামপুর উপজেলার আনিসুর রহমান নামের জৈনিক ঠিকাদার কাজটি করছেন। যে কারনে কাজের মান খুব খারাপ হচ্ছে।
এ দিকে রাস্তা নির্মাণ কাজের উপযুক্ত সময় হওয়ায় এবং আবহাওয়া-জলবায়ু অনূকুলে থাকলেও রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখার জন্যে সাধারন মানুষের চলাচলের ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে ঐ কাজের অগ্রগতি শতকরা ৩০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে, যা অত্যন্ত মন্থর গতি। এখনও বাকি রয়েছে শতকরা ৭০ ভাগ কাজ। রাস্তাটির নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে মনিরামপুরের আনিসুর রহমান নামের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। স্ট্রিমেট অনুযায়ী ১নাম্বার ইট দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও ঐ রাস্তায় থাকা পুরাতন ইট পুনরায় ভেঙ্গে স্যালবেজ (ম্যাগাডাম) করা হয়েছে। নি¤œমানের ইট দিয়ে কাজ করা নিয়ে এলাকাবাসী কয়েক দফা কাজ বন্ধ করে রেখেছেন। তারপরও জোর খাটিয়ে ঠিকাদার আনিসুর রহমান রাস্তায় থাকা ইট দিয়ে কাজ করেছেন।
সূত্র জানায়, ঐ রাস্তার চুক্তিমূল্যে ২কোটি, ৪৯লক্ষ, ১৮হাজার, ৭শ’ ৬টাকা এবং প্রাকল্লিত মূল্যে ২কোটি, ৩৯লক্ষ, ৬৬হাজার, ৬শ’ ৯৭টাকা। প্রকল্পের নাম (জে আর আর আই ডি পি) প্রজেক্টের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলাধীন (ক) প্রেমবাগ বাবলাতলা রাস্তা থেকে প্রেমবাগ কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত ৭৫০-৯৩৮মিটার রাস্তা, কাজের আইডি-২৪১০৪৪০০৭, (খ) একতারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পায়রা যাওয়ার মহি মুন্সির মোড় ভায়া বাকারডাঙ্গা রাস্তা পর্যন্ত ১কিলোমিটার, আইডি-২৪১০৪৪০১৩, (গ) হিদিয়া মাদ্রাসা থেকে খোড়লিয়া বাজার পর্যন্ত ১৩০০ মিটার, আইডি- ২৪১০৪৪০১৭, (ঘ) নাউলী বাজার থেকে হানোরগাড়ি ঘাট ভায়া মধুর দোকান পর্যন্ত ৭৭০ মিটার রাস্তা, যার প্যাকেজ নাম্বার- (জে আর আর আই ডি পি/১৯ জে এস আর/ডাব্লু-৫২) (টিআইডি-৪১০০০৩)- এর কাজ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে। স্মারক নং-৪৬.০২.৪১০৪.০০০.০০.০০২.২০২০-৮০৬, তারিখ- ০১-১২-২০২০ ই্ংরেজী। যশোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যাদেশ পত্রের স্মারক সংখ্যা- ৪৬.০২.৪১০০.০০০.১৪.০৬৪.২০-২৫৮৯, তারিখ-১২.০৫.২০২০ ইংরেজী। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজটি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সঠিক সময়ে কাজ না করায় উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম সরদার কয়েক দফায় পত্র মারফতে দ্রুত কাজ শেষ করা কথা বলেন। প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সর্বশেষ একটি পত্রে নোটিশ করা হয়। উল্লেখ্য কার্যাদেশ অনুযায়ী রাস্তা নির্মণের কাজ শুরু করে গত ১৯-০৫-২০২০ ইং তারিখে এবং কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে ১৪-০১-২০২১ ইং তারিখে। কিন্তু ০১-০১-২০২১ তারিখ পর্যন্ত শতকরা ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। যা অত্যন্ত মন্থর গতি। এমতাবস্থায় কাজটি বন্ধ থাকাতে জন সাধারনের চলাচলের বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। অত্র দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী / কার্য-সহকারী মারফাত যানা যায় তিনি কাজটি বন্ধ রেখেছেন। কার্যাদেশ বর্ণিত নিদ্ষ্টি তারিখের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য প্রকল্পের কাজের সময়-সীমা বৃদ্ধির জন্য নি¤œস্বাক্ষরকারী কতৃক কোনোরুপ সুপারিশ করা হবে না।
ভ্যানচালক খলিল মোল্যা বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখার ফলে চলাচলের খুব সমস্যা হয়। ধুলোর জন্যে কিছু দেখতে পারি না। এ নিয়ে কয়েকজন দুঘর্টনার স্বীকারও হয়েছে। কাজটি দ্রুত শেষ হলে খুশি হতাম। এজন্যে অনেক যাত্রী কমে গেছে।
রাস্তার কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আনিসুর রহমান বলেন, বিল না পাওয়ার জন্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয় নি। ঐ রাস্তায় ব্যবহারিত পুরাতন বাতিল ইট দিয়ে স্যালবেজ (ম্যাগাডাম) করার কথা বললে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) স্যার ইট গুলো বিক্রি করেছে। কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ফান্ড না থাকার জন্যে কাজ করতে পারছি না। নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহারের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। বিল পাওয়ার পর পরবর্তী কাজ করবো।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মনজুরুল হক বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইমন এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্তাধিকারী আবু তালেব কে বার বার কাজ শেষ করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তারা গাফিলাতি করে, কাজটি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছেন যা মোটেও ঠিক নয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আনিসুর রহমান নামের জৈনিক ব্যাক্তি কাজটি করছেন। তবে কাজের মান খারাপ হওয়ায় কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিদ্রিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারে নি। নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম সরদার জানান, কাজ যথা সময়ে শেষ করার জন্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ২বার নোটিশ করা হয়েছে। তবে এখনও নোটিশের কোনো জবাব পওয়া যায় নি। বিলম্বে কাজ শেষ করার যুক্তিযুক্ত কারন কতৃপক্ষের কাছ তুলে ধরতে ব্যার্থ হলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
এই বিষয়ে যশোর নির্বাহী প্রকৌশলী এখতেয়ার উদ্দিন জানান, ফান্ড না থাকার জন্যে কাজটি যথা সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ কারনে নিদ্রিষ্ট সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কজি শেষ করতে পারি নি। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইমন এন্টারপ্রাইজ সময় বৃদ্ধির জন্যে আবেদন করেছিলো। তাদের কে মার্চের মধ্যে শেষ করার শর্তে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর ঐ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) নির্বাহী প্রকৌশলী কবীর ঢাকা থেকে মুঠোফোনে জানান, আমি নতুন এসেছি। এই বিষয়ে কিছুই জানি না। যে বিষয়টি জানি না, সেখানে ইট বিক্রি করবো কিভাবে। খবর নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবো। ঠিকাদারের ভাষ্য অনুযায়ী রাস্তার ইট বিক্রি করেছেন কি না বললে তিনি বলেন, নির্মানাধীন রাস্তাটি এইচবিবি করা থাকলে তার ইট গুলো স্ট্রিমেটে দাম ধরে ঠিকাদারকে কাজ করতে বলা হয়। সেভাবে হয়তো কাজটি করা হচ্ছে। এ নিয়ে সব তথ্য যশোর নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট থেকে সংগ্রহ করেন। আমার কিছুই জানা নেই। ফান্ড না থাকার জন্যে কাজটি নিদ্রিষ্ট সময়ে শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।