মুন্সী গোলাম মোর্তজা পিকু

অন্যান্য বিবিধ

কাজি আরিফ : আমাদের অগ্রজ। আমাদের শৈশব কৈশোর একসাথে কেটেছে। ছোটবেলা থেকে পিকু ভাই আনমনে ছবি আঁকা নিয়ে ভাবত, আঁকার ব্যপারে আগ্রহ প্রকাশ করত। কিন্ত আমাদের সমাজে একটা ছেলে কিছু না করে মানে চাকুরীবাকুরী না করে, সনাতনী পড়াশুনা না করে শুধু ছবি আঁকবে তা কেউ মেনে নেয়না।

পুরোপুরি স্রোতের বাইরে গিয়ে অনেক অভাব অনটন সহ্য করে খুলনা আর্ট কলেজে ভর্তি হয় পিকুভাই। গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে নড়াইলে এস এম সুলতানের কাছে গিয়ে সরাসরি তালিম নিত।আর বই পড়ত। শিল্প,সাহিত্য,ধর্ম,দর্শন বিষয়ে তার অগাধ জ্ঞান ছিল। মাঝে মধ্যে আলাপে বসলে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে তা ধরতে পেতো না আমাদের মত সাধারণ মানুষেরা। তাই তাকে আমাদের কাছে দুর্বোধ্য লাগত। কখনো কখনো পাগল মনে হত।

এরমধ্যে আর্ট কলেজের ফাইনাল শেষ করা হলনা। দৈন্যতা আর অভাব হামলে পড়ে সংসারে।
আর্থিক সংগতির সাথে তার উচ্চমার্গের ভাবনা যায়না বলেই তাকে হয়ত ছিটকে পড়তে হয় তথাকথিত সমাজ থেকে।

পিকু ভাই অনেকটা নিরুদ্দেশে চলে গেছে।
চালচুলোহীন একা মানুষ যাযাবরের মত পথে ঘুরে বেড়ায়, পথে খায়, পথেই হয়ত ঘুমায়। ছিটকে পড়া মানুষকে কেই বা মনে রাখে। এ সমাজ বড় স্বার্থপর।

গত বছর জানুয়ারিতে হটাৎ তার সাথে ঢাকার নীলক্ষেতে দেখা। রোদপোড়া চেহারা। দেখে মায়া লাগল। আলাদা ডেকে হাতের মধ্যে যা সামান্য কিছু টাকা পয়সা ছিল জোর করে দিলাম। তারপর, হারিয়ে গেল ভিড়ে।

এরপর, নীলক্ষেত, শাহবাগে গিয়ে অনেক খুঁজেছি দেখা মেলেনি। জানিনা, কোথায় আছে কেমন আছে। করোনার এই দিন গুলিতে কোথায় কেমন কাটছে তার।
ভাগ্যিস, একটা ছবি তুলে রেখেছিলাম।

আচ্ছা, এই মানুষটাকে আমরা কি পুনর্বাসন করতে পারিনা? একটাই তো মানুষ। সে তো কারো কোনদিন ক্ষতি করেনি। নিজের মধ্যেই বাস করত সারাজীবন। তবুও একটা মানুষকে আমরা ধারন করতে ব্যর্থ হবো কেন? তাকে কেন পথে পথে ঘুরতে হবে? কেন পথে ঘুমাতে হবে?