মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ও মসজিদ উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ

ঢাকা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিটি মেয়র ডা. আইভীর পরিবারের বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর এবার তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ও মসজিদ উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা নগরীর চাষাঢ়ার বাগ-এ জান্নাত জামে মসজিদের সামনের রাস্তায় ওলামা পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ অভিযে২াগ করা হয়। সমাবেশে হেফাজত নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর মাত্র ৭ দিন আগে শত কোটি টাকা মূল্যের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ এনে মেয়র আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নগরের দেওভোগ লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়ার পাশে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানীনগর মাদ্রাসার মোহতামিম ও নারায়ণগঞ্জ হেফাজত ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশিরউল্লাহ বলেন, ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থানে একটি মাদ্রাসা ছিল। সেটি সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী উচ্ছেদ করেছেন। এ ঘটনায় আমরা খুব আঘাত পেয়েছি। কিন্তু সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী এবার নগরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া বাগ-এ জান্নাত জামে মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসা উচ্ছেদে চিঠি দিয়েছেন। এমনকি তিনি নিজে এসে নাকি মাদ্রাসাটি উচ্ছেদে তাগাদা দিয়ে গেছেন। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, মসজিদ মাদ্রাসায় হাত দিলে দেশের আলেম ওলামারা বসে থাকবেন না। আল্লাহর ঘর রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত দেওয়ার ইতিহাস আমাদের জন্য সামান্য বিষয়। তাছাড়া চাষাঢ়া বাগ-এ জান্নাত মসজিদটিও তিনি ভেঙে দিতে চান। মসজিদ ভেঙে দিয়ে তিনি নিচতলায় মার্কেট করে উপর তলায় মসজিদ করতে চান।

তিনি বলেন, ফতোয়ার কিতাবে স্পষ্ট আছে, কোনও মুসলমান যদি অন্য কোনও ধর্মের অনুসরণ বা অনুকরণ বা অন্য ধর্মের মতো প্রার্থনা বা মাজার বা মন্দিরে সেজদা করে তাহলে সে শিরক করলো। সে মুশরিক হয়ে গেল। তিনি আইভীর মাথায় সিঁদুর দিয়ে প্রণাম করা ছবিটি দেখেছেন জানিয়ে বলেন, আইভী মুসলাম আছে কিনা তা তাকেই পরিষ্কার করতে হবে। আর আল্লাহর দরবারে তওবার দরজা খোলা রয়েছে।

মহানগর ওলামা পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতের বর্তমান সভাপতি মাওলানা ফৌরদাউসুর রহমান সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাবান নন। প্রধানমন্ত্রী এই মাদ্রাসাকে মাস্টার্স সম্মাননা দিয়েছেন। আর আপনি আসছেন মাদ্রাসা উচ্ছেদ করতে। আপনি যত শক্তি নিয়েই আসেন, মাদ্রাসা উচ্ছদ করতে সফল হবেন না।

তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করেন। ভোটের জন্য কখনো হিন্দু সাজেন, আবার কখনো মুসলমান।

মসজিদ কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু বলেন, চাষাড়া এলাকার মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করেন। ছোট বেলায় দেখেছি টিনের ঘরে নামাজ হতো। পরে মুসল্লিদের অনুদানে মসজিদটি এখন তিনতলা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের মেয়র এখানে মসজিদ ভেঙে শপিংমল আর পার্ক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তার এই উদ্যোগ কখনও বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।

স্থানীয় ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, প্রয়োজনে কাউন্সিলর পদ থেকে অব্যাহতি নেবো। কিন্তু মুসলামানের প্রাণে আঘাত দেওয়াকে বরদাশত করবো না। শরীরের রক্ত ঢেলে দিবো, কিন্তু মসজিদ মাদ্রাসা ভাঙতে দিবো না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোসাইন কাসেমী, সহ-সভাপতি মাওলানা ইসমাইল আব্বাসী, ওবায়দুর রহমান খান নদভী, মুফতি হারুন অর রশীদ, মীর আহমেদ, মুফতি দেলোয়ার হোসেন, মুফতি আনিস আনাসারি, সাজ্জাদ হোসেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

অভিযোগের বিষয়ে মেয়র আইভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাসদাইর কবরস্থান জামে মসজিদের মাদ্রাসা আমি উচ্ছেদ করিনি। বরং যারা মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন তারাই স্বেচ্ছায় নতুন মসজিদ নির্মাণ শুরু হলে মাদ্রাসাটি সরিয়ে নেন।

বাগ-এ জান্নাত জামে মসজিদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে দুই হাজার চারশ’ বর্গফুট জমিতে মসজিদ গড়ে তুলতে ওই সময়ের পৌর কমিশনার তারা মিয়া সরদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর তারা অনুমোদন না নিয়েই ২০ শতাংশের জমির ওপর মসজিদ এবং ১১ শতাংশ জমির ওপর মাদ্রাসা নির্মাণ করেছে। আমি মসজিদ কমিটিকে বলেছি, যার সম্পত্তি তার অনুমতি ছাড়া মসজিদ নির্মিত হলে সেখানে নামাজই হওয়ার কথা নয়। তাই মসজিদ কমিটিকে বলেছি তারা যেন কাগজপত্র ঠিক করে সঠিক নিয়মে মসজিদটি নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।

এরআগে, শত কোটি টাকা মূল্যের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ এনে মেয়র আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নগরের দেওভোগ লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়ার পাশে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।