সতীত্ব

অন্যান্য বিবিধ সাহিত্য

মোস্তাফিজুর রহমান: বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য মতভেদের কারণে অগণিত লেখার সৃজন হয়। তন্মধ্যে পুরুষের শুভ পরিনয়ের পূর্বে নারীর সতীত্বের যাচাই নিয়েও ব্যক্তি মূল্যায়নে আছে নানা মত ও পথ। বাহ্যিক চরিত্রের সংরক্ষিত মাপকাঠি ও রক্ষণশীলতার মূল্যায়নে আমাদের সাব কন্টিনেন্টে নারীদের সতীত্ব মূল্যায়িত হয়ে থাকে। আজব সমস্ত বিষয়ে নানা জনের ভিন্নভিন্ন গবেষণার ফলাফল আর মুখরোচক কথায় উত্তম চরিত্রের নারীকেও মাঝেমধ্যে কলংকের বোঝা নিয়ে নরকসম যন্ত্রনায় জীবন পার করতে হয়। এ সমস্ত মনগড়া অপবাদ ও অরুচিকর কথার প্রতিবাদ করতে সমাজপতিদের বিবেকের চোখ তখন রঙীন চসমায় মোড়ানো থাকে বিধায় সঠিকটা অতলেই থেকে যায়। মিথ্যা অপবাদের এই দায় নেওয়ার কেউ নেই!

ইসলাম নারীকে পর্দা করতে বলেছে এটাই সত্য কিন্তু রক্ষনশীলতা ও সতীত্বধর্ম এক জিনিস নয়। নারীর খোলামেলা চলাফেরায় নারীর বিভিন্ন বাহ্যিক অংগগুলো পুরুষের দর্শন মানেই বিভিন্ন অংগের গোনাহ, যেটা প্রদর্শনকারিনী ও দর্শনকারী উভয়ের জন্য মাত্রাভেদে প্রযোজ্য। নারীর খোলামেলা চলাফেরাকে আমরা সতীত্বহানি হিসেবে চালিয়ে দিয়ে পছন্দ অপছন্দের বিভেদ করছি। কেউ কি নারীর সতীত্বহানি চোখে দেখেছেন। যদি আপনি দেখে থাকেন তাহলে আপনি কে? আপনার অবস্থান কোথায় ছিলো? নিশ্চয়ই আপনি নিজে এই কর্মে লিপ্ত ছিলেন, না হলে দেখলেন কি করে! যদি দেখে না থাকেন, শুধু শুনে থাকেন, তাহলে এটা নিছক অপবাদ।

সতীত্বহানি খোলামেলা যায়গায় হয়না, খোলামেলা যায়গায় শ্লীলতাহানি হয়ে থাকে। শ্লীলতাহানি হলো নারীর বাহ্যিক অংগসমূহের সাথে পুং জাতের অনভিপ্রেত হস্তশিল্পের আক্রমনাত্মক সৃংস্কৃতি, যেটা ইসলাম ও রাষ্ট্রীয় আইন কোনভাবেই সমর্থন করেনা কিন্তু এমন ঘটানা অবস্থার প্রেক্ষিতে মাঝেমধ্যেই দৃশ্যমাণ, এটাই হলো শ্লীলতাহানি। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আমাদের মা বোন স্ত্রী অনেকেই পড়তে পারে, যেটা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।

আপনি পুরুষ। আপনি প্রদীপ্ত যৌবনে নিজ রতিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কোন নারীর ইচ্ছা, অনিচ্ছায় বা মিথ্যা প্রলোভনে আকৃষ্ট করে প্রথমে শ্লীলতাহানি ও পরবর্তীতে সতীত্ব হরন করেছেন, সেই আপনিই আপনার শুভ পরিণয়ের পূর্ব সমীক্ষায় বিপরীত লিঙ্গের মানুষটার সতীত্বের প্রশ্নে বিশাল এসাইনমেন্টকে প্রায়োরিটি দিয়ে সতী আর অসতীর সামাজিক সীল মারায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নারীদের ক্ষেত্রেও এমন পুরুষ ঠকানোর বিড়ম্বনার নজির আছে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে।

আহারে সতী আকৃষ্টতা! ভাবলে অবাক লাগে। যে নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে, বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সতীত্ব নষ্ট করেছেন, বিবাহের পূর্বে তার কথাটাকি একবারও ভেবেছেন! আপনি অন্য কোন সতীকে বিয়ে করলেন, আপনার পছন্দের সতী অন্যের নিকট কতটা সম্ভ্রম বিকিয়েছে, তার এসেসমেন্ট নিশ্চয়ই আপনার হাতে নেই। অর্থাৎ মানুষের প্রচারে আস্থানির্ভর হয়ে সতী আর সতীত্বের মাঝে জলঘোলা করে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন। যেটা আপনি অন্যকে দিয়েছেন, ঠিক তেমনটাই ফেরত পাবেন। এবার সতী, অসতী আর সতীত্বের হিসেব মিলিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করুন, সময়ের ব্যবধানে আপনার কথিত সতী ও সতীত্বের পুরোনো ব্যাখা ও রামলীলার চিত্র অনেকেই আপনার নিকট স্বপ্রণোদিত হয়ে পৌছে দিবে।

নারীকে সম্মান করতে শিখুন, সামাজিক অপবাদ ও হীনমন্যতা পরিহার করুন, নিজের প্রতি আস্থা বিশ্বাস বৃদ্ধি করুন। নারীর সতীত্ব নিয়ে ভালবাসা থাকলে খুব শুরু থেকেই সুযোগের সদ্ব্যবহার বাদ দিয়ে সেক্সুয়াল এবিউস থেকে দূরে থাকুন, তাহলেই আপনার মতো সতীত্ববান একজন নারীকে অর্ধাঙ্গীনি হিসেবে জীবনের সাথে জড়াতে পারবেন।