গুজব উপেক্ষা করে টিকা নিচ্ছে মানুষ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপরাধ জাতীয় সাস্থ্য

ভ্যাকসিন নিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।
সোমবার রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে করোনার টিকা গ্রহণ করেন তারা। এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীনও একই হাসপাতালে করোনার টিকা নেন।
ভ্যাকসিন গ্রহণ করে কিছুক্ষণ অবজারভেশনে থাকার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে শারীরিক কোন সমস্যা অনুভব করছি না। আমি ভ্যাকসিন নিয়েছি, আপনারাও ভ্যাকসিন নিন। ভ্যাকসিন নিতে জনগণের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন বুথগুলোতে ক্রমশই ভিড় বাড়ছে।
পুলিশ সদস্যদের সবাইকে ভ্যাকসিন নেয়ার আহবান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এক অনবদ্যও উজ্জল ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে করোনা মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। বাংলাদেশ পুলিশের অভিভাবক ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) এর সুযোগ্য নেতৃত্বে করোনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হাসপাতালের সেবার মান এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা অবিশ্বাস্য। যার ফলশ্রুতিতে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এক অত্যাধুনিক হাসপাতাল হিসেবে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রদানেও কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল পিছিয়ে নেই। প্রতিদিন ১৮টি বুথের মাধ্যমে ৩ হাজার পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে ভ্যাকসিন প্রদান করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল। এটি কেবল পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এই হাসপাতালকে আরো অত্যাধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রথম শ্রেণির হাসপাতালে পরিণত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল প্রথম শ্রেণির হাসপাতাল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো অনেক বেশি, সু-চিকিৎসা ও সঠিক তত্বাবধানের জন্য সেখানে আজকে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০ এর নিচে। শুধু পুলিশ হাসপাতালই নয় কারোনাকালীন সময়ে আলোর দিশারী ও সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় এবং তার সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে সফলভাবে করোনা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। করোনা মোকাবেলায় সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মহাখালীতে স্বাস্থ্য ভবনে ভার্চুয়ালি দেশব্যাপী করোনার টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। ওইদিনই একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বিচারপতিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ টিকা গ্রহণ করেন। আর গত ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেয়ার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। এরপরের দিন ২৮ জানুয়ারি ঢাকার ৫টি হাসপাতালে একদিনে ৫৪১ জনকে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া হয়।