ভালোর ঠিকানা

অন্যান্য বিবিধ

আনিশা ইসলাম শিশির : একটা মানুষ তাঁর জীবনের শেষ সময়টুকু পর্যন্ত ভালোবাসাতেই বসবাস করে। অথচ আমরা আমাদের চাওয়া-পাওয়া অধিকার অভিযোগ এবং বিদ্রোহ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকি যে জীবনের এই সবথেকে বড় সম্পদটিকে ঠিক করে বুঝে উঠতে পারি না।

ভালোবাসা আসলে কি? দুটি মানুষের সঙ্গে দুটি মানুষের ঠোঁটের আপোষহীন সন্ধি? নাকি উভয়ের সঙ্গে উভয়ের শারীরিক অথবা মানসিক মিলন? না। ভালোবাসা যে শুধু নির্দিষ্ট দুটি মানুষের মনের মধ্যেই সৌন্দর্যের দুর্গ তৈরি করে, তা কিন্তু নয়। আস্থা, বিশ্বাস, ইত্যাদি সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতপক্ষে মানুষের প্রতি মানুষের একটা মানসিক দূরত্বহীন যত্নের নামই ভালোবাসা।

ভালোবাসার নিজস্ব অথবা নির্দিষ্ট কোনো শরীর নেই। ভালোবাসা অনেকটা ঠিক জলের মতো। কুঁজোতেও রাখলে জল। গ্লাসে রাখলেও জল। আকারটাই যা বদলে যায়। কিন্তু দুটি ক্ষেত্রেই জীবনদায়ী।

আমরা বাঁচার জন্য জল খাই। কিন্ত জলকে আলাদা করে কিছু মনে রাখি না। এই জলের মতোই আমাদের জীবনের চারপাশে আমাদের ছায়ার মতো রোজ যে মানুষগুলো জড়িয়ে থাকে, তাঁদেরও আমরা আলাদা করে মনে রাখিনা। এই মানুষগুলো আমাদের বাবা, মা, ভাই, বোন, বন্ধু এবং আত্মীয়।

আমাদের ব্যস্ততম জীবনের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মতো এই মানুষগুলোকে কখনোই বলা হয়ে ওঠে না, বাবা, মা, বা আত্মীয়, তোমাকে ভালোবাসি। ভাই, বোন, অথবা বন্ধু, তোকে ভালোবাসি। ভালোবাসা দুটি মানুষের মিলন সম্পদই শুধু নয়, ভালোবাসা আমাদের প্রতিটি মানুষের ভালোর ঠিকানা।