পৃথিবীর সবকিছুই আপনার জন্য তৈরি

অন্যান্য বিবিধ

আনিশা ইসলাম শিশির : পৃথিবীর সবকিছুই আপনার জন্য তৈরি। কিন্তু আপনি চাওয়ামাত্র সবকিছু পাবেন না। হাইয়েস্ট সেক্রিফাইজ, হাইয়েস্ট ডেডিকেশন, কঠোর পরিশ্রম, নাছোড়বান্দার মত লেগে থাকার মানসিকতা না থাকলে আপনার সামনে থাকা জিনিসটিও অন্য কারো হয়ে যাবে।

মুসা ইব্রাহীমের পেছনে কেউ ঠেলা দিয়ে তাকে এভারেস্টের চূড়ায় উঠায়নি। আপনার কি ধারণা একটা হেলিকপ্টার নিয়ে তিনি এভারেস্টে উঠে গেছেন? এত্ত সোজা না সবকিছু। লাইফটা তো আর সেই ম্যাগি নুডলসের মত না যে ২ মিনিটে সবকিছু হয়ে যাবে। আপনি যখন Depression এ চিপায় পড়ে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকেন, অন্য কেউ তখন Passion নিয়ে কাজটাতে নাছোড়বান্দার মত লেগে থাকে।

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও শেষ গোলটা করার জন্য শেষ ন্যানো সেকেন্ড পর্যন্ত চেষ্টা করার নামই স্ট্রাগল। আর এর বাইরে বাকি সব ফাও।

সাঁতার না জানা কাউকে যদি পুকুরের মাঝখানে ছেড়ে দেন দেখবেন সে ও হাত পা ছোঁড়াছুঁড়ি করছে। আপনি সাঁতার জানেন না, এটা প্রবলেম না। কিন্তু বাঁচার জন্য অন্তত হাত পা তো একটু ছোঁড়াছুড়ি করবেন। নাকি অন্য কেউ এসে আপনার হাত পা ছোঁড়াছুঁড়ি করিয়ে দিবেন?

আপনি মেসির মত চ্যাম্পিয়ন হতে চাইবেন, কিন্তু অপোজিট টিমে রোনালদো থাকলে আপত্তি জানাবেন- এটা কেমনে হবে ভাই?

আপনি শচীন টেন্ডুলকারের মত জনপ্রিয় ব্যাটসম্যান হতে চান কিন্তু মালিঙ্গা বল করলে খেলতে আপত্তি করবেন- তাহলে তো হবে না বস….‼️

লাইফে অনেক বড় কিছু হতে চান, অথচ অনেক বড় ঝামেলা আসলে আপত্তি জানাবেন তা তো হয় না! আপনি যত দামী গাড়ি নিয়েই রাস্তায় নামেন না কেন, ওয়ার্ল্ড ফেমাস যে ব্র‍্যান্ডের গাড়িই হোক না কেন, স্পিড ব্রেকারে তাকে হালকা একটু থামতে হবেই। লালবাতির সিগন্যালে আপনাকে দাঁড়াতে হবেই, তা সে লক্কর ঝক্কর বাসই হোক কিংবা মার্সিডিজ বেঞ্জ। একটা ২৫ মার্চের কালরাত্রি এসেছিল বলেই আমরা একটা ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় পেয়েছি। পৃথিবীর সকল অর্জন আসে তুমুল বাধা পেরিয়ে, তুখোড় গর্জনের ভেতর দিয়ে৷

মেসি যখন বল নিয়ে দৌঁড়ায় কিংবা রোনালদো যখন গোল দিতে যায় তখন দেখবেন গ্যালারিতে চিৎকার শুরু হয়। তখন মেসি কিংবা রোনালদো একবারও গ্যালারির দিকে তাকান না, তাকে গালি দিলেও না, প্রশংসা করলেও না। কারণ তার ফোকাস দর্শকের মন্তব্য না, তার ফোকাস গোল পোস্ট। এজন্যই তারা আজ সুপারস্টার। আপনি যখন Depression এ চিপায় পড়ে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকেন, এরা তখন Passion নিয়ে কাজটাতে নাছোড়বান্দার মত লেগে থাকে। তফাৎটা বস এখানেই।

যার হাতে কিছুই নেই, তার হাতে অন্তত সময়টুকু আছে। একজন কোটিপতির সাথে গরীবের পার্থক্য টাকায়, ক্লাসের ফার্স্ট বয়ের সাথে লাস্ট বয়ের পার্থক্য মেধায়, রিক্সাওয়ালার সাথে পাইলটের পার্থক্য দক্ষতায়, অফিসের বসের সাথে পিয়নের পার্থক্য পদের ক্ষমতায়।

অথচ একটা জায়গায় সবার সবকিছু সমান, সেটা হলো সময়। যার হাতে টাকা নেই, মগজে ঘিলু নেই, কাজে দক্ষতা নেই; তাদের সবার তো অন্তত সময়টুকু আছে৷ কোন কাজে, কিভাবে, কাদের সাথে এই সময়কে কাজে লাগাচ্ছেন, মূলত সেটাই নির্ধারণ করে দেয় কার পরিচয় কী হবে, কার লাইফস্টাইল কেমন হবে।

বিল গেটসের নাম বললেই টাকা টাকা একটা গন্ধ আসে, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের কথা বললেই জ্ঞানের একটা বাতাস আসে, আইয়ুব বাচ্চুর কথা বললে গিটারের একটা সুর ভাবনায় চলে আসে। আপনার নাম বললে কারো মধ্যে কি সেরকম কোনো একটা ভাব আসে? হ্যালো ডিয়ার বুঝতে পেরেছেন ঠিক কি বুঝাতে চাইলাম?

যদি কিছু একটার অভাব বোধ করেন তবে আপনি বুঝেছেন। আজকের আপনি ভবিষ্যতে একাই একটা ব্রান্ড।একটা উদাহরণ হতে যাচ্ছেন। কাজ শুরু করুন, আর কাজে লেগে থাকুন।