সেই খালি পা, এক তোড়া ফুল আর আমার ভাইয়ের রক্তে রাংগানো গান

জাতীয়

শাহানাজ বিভা : প্রভাত ফেরী এই যুগল শব্দদুটি কখন কিভাবে হীম করা রক্তের সাথে মিশে গেছে সেটা বলতে পারব না। তখন হয়ত জানতামও না প্রভাত ফেরি কি!! অথচ সাদা কালো পোশাকে হাতে ফুল নিয়ে খালি পায়ে অনেক পথ পেরিয়ে কন্ঠে আমার ভাইয়ের রক্তে রাংগানো গান গাইতে গাইতে শহীদ মিনার যেতে হবে সেটাই ছিল বুদ্ধি হবার পর থেকেই একটা রুটিন। বিশাল বড় পরিবার এ ভাই -বোন, কাজিনরা আর এলাকার আর সব সংস্কৃতিমনা সবাই একসাথে। সেসময় আমাদের এলাকায় ফুল বিক্রি হত না…সেকারণে যারা ফুলের বাগান করে রাতের অন্ধকারে অভিনব পন্থায় তাদের বাগান থেকে ফুল চুরি করতাম প্রতি বছর। রাতেই ফুলের তোড়া বানিয়ে রাখত বড়রা। শীত এলেই আমাদের বাগানটাকে রেডিমেড ফুল সহ গাছ কিনে সাজাতাম আর বিশ ফেব্রুয়ারি রাতে জেগে পাহারা দিতাম যদিও অন্যের ফুল চুরি করে কোন বারই নিজের বাগান শেষ রক্ষা করতে পারিনি। কত কি যে নেশা ছিল তখন। আর ছিল প্রভাত ফেরি শেষে সবাই মিলে আমাদের চাঁদেরহাট সংগঠন এর পক্ষ থেকে লুচি তরকারি খাওয়া। তারপর বাড়ি ফিরে উদাস হয়ে যেতাম। এই সুন্দর সর্ণালী দিনগুলো কখনো হারিয়ে যেতে পারে কখনোই মনে আসে নি।
নতুন করে প্রতিবছর একুশ আসে একুশ যায় আর দিন দিন বদলে যায় আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা।