দিনের প্রথম অনুষ্ঠান প্যারেড স্কয়ারে

এইমাত্র জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মদিন কাল। দিবসটি যথাযথ উদ্যাপনে নানা আয়োজন চলছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উদ্যাপিত হবে।
বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৭-২৬ মার্চ ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।
বুধবার প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে। উক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইবরাহীম মু. সালেহ উপস্থিত থাকবেন।
শুধু রাজধানীতেই নয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে জেলাব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জার্নালের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো-
খুলনা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস (১৭ মার্চ) উদযাপনের লক্ষ্যে খুলনা জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ওইদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর হৃদয় হোক রঙিন’।
ওইদিন সকাল ৮টায় বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া এবং মন্দির, গীর্জাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার করা হবে। সকাল ৯টায় হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার ও এতিমখানায় বিশেষ খাবার পরিবেশন ও মিষ্টি বিতরণ করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে স্মরণিকা, গ্রন্থ, দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করা হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ, সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা, মুজিববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যানার ও ফেস্টুন স্থাপন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। সন্ধ্যায় করা হবে আতশবাজি।
খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৭ মার্চ জেলা স্টেডিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার পরিবারের শহিদ সদস্য এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত হবে। ছয় হাজার ৬৬৬ জন আলেম, সহস্রাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মুসল্লি সমবেত হয়ে আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া ও মোনাজাতে অংশ গ্রহণ করবেন। খুলনা জেলার এক হাজার ৮শ’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, এক হাজার ২শ’ মসজিদের মুসল্লিসহ প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অনলাইন জুম প্রযুক্তিতে এই দোয়া ও মোনাজাতে যুক্ত হবেন।
১৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলোচনা সভা ও শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। খুলনায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থানসমূহে স্থানীয় প্রশাসন আলাদাভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সুবিধাজনক সময়ে শিশুদের রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজনে থাকবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
সন্ধ্যায় খুলনা জেলা তথ্য অফিস বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের এলইডি স্ক্রিনে স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর ওপর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করবে। সুবিধাজনক সময়ে জেলা ও উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পুস্তক ও ডকুমেন্টরি সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শন এবং বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার করা হবে। স্থানীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।