দুদকের মামলায় গ্রেফতার ৪

অপরাধ আইন ও আদালত

নিজস্ব প্রতিনিধি : মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে দুদকের উপপরিচালক মোঃ গুলশান আনোয়ার-এর নেতৃত্বে একটি টিম ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস – এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডি সৈয়দ আবেদ হাসান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর ভিপি নাহিদা রুনাই ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর সিনিয়র ম্যানেজার রাফসান রিয়াদ চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে।

এ বছরের জানুয়ারি মাসে দুদকের দায়ের করা একটি মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। ঐ মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পরের সহায়তায় প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির আশ্রয়ে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভূয়া/অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠান “আনান কেমিক্যাল লি:” এর নামে জাল রেকর্ডপত্রাদি প্রস্তুত করে তা সঠিক হিসাবে ব্যবহার করে উক্ত অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভূয়া ঋণ পেতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের গ্রহীতা “আনান কেমিক্যাল লি:” এর পরিচালকগণ ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মাধ্যমে ৭০.৮২ কোটি টাকার (সত্তর কোটি বিরাশি লক্ষ টাকা) ভূয়া ঋণের কাগজপত্র প্রস্তুত করে তা সঠিক হিসাবে ব্যবহার করে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড কর্মকর্তা ও বোর্ড সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ৭০.৮২ কোটি টাকা (সত্তর কোটি বিরাশি লক্ষ টাকা) উত্তোলনপূর্বক আতœসাৎ করেন এবং পরবর্তীতে, বিভিন্ন লেয়ারিং এর মাধ্যমে উক্ত অর্থ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর ও রুপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপনপূর্বক পাচার করে দÐবিধি, ১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২), (৩) ধারায় অপরাধ করেছেন।

দুদক কর্তৃক আসামি গ্রেফতার : দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সারাদেশে আজ ৯টি অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বড়দুশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত অনুদানের টাকা বিভিন্ন ভাবে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক, সজেকা, কুমিল্লা-এর উপসহকারী পরিচালক আহামদ ফরহাদ হোসেন-এর নেতৃত্বে আজ (১৬-০৩-২০২১ খ্রি.) এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের লক্ষ্যে দুদক টিম সরজমিনে উক্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনপূর্বক প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, কাগজপত্র পরীক্ষা ও তথ্যানুসন্ধান করেছে। সত্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে রেকর্ড করেছে দুদক টিম। উক্ত দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম সংঘটিত হলে তা উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও তথ্য প্রমাণসমূহ পরীক্ষা করে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম।

এছাড়া, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের জায়গায় অবৈধভাবে বহুতল ভাবন নির্মাণ পূর্বক ভাড়া দেওয়া, ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের জমির খাজনা আদায়ে ঘুষ দাবি, নকল নবিশ-এর বিরুদ্ধে সরকারি জমি অন্য ব্যক্তির নামে বন্দোবস্ত দেয়া, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখল ও খাল দখলপূর্বক বহুতল ভবন নির্মাণ, ভূমি কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রাহকের জমি খারিজ বাবদ ঘুষ দাবি এবং ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জোর পূর্বক অন্যের জমি দখলে অভিযোগের প্রক্ষিতে জেলা প্রশাসক, খুলনা-কিশোরগঞ্জ-কক্সবাজার-কমিল্লা-জামালপুর-যশোর-কে বিষয়সমূহ অবহিত করে যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে তাগিদপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।