দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযান

অপরাধ

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিআরটিএ-এর মিরপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও ইন্সপেক্টর জিল্লুর রহমান-এর বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধভাবে আমদানিকৃত মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে সহায়তা এবং বিআরটিএ-এর ঢাকা মেট্রো সার্কেল কার্যালয়ের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দালালদের সাথে যোগসাজশে মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক, সজেকা, ঢাকা-১-এর সহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবীর-এর নেতৃত্বে রোববার এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের লক্ষ্যে দুদক টিম সরজমিনে বিআরটিএ কার্যালয়সমূহ পরিদর্শনপূর্বক প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, কাগজপত্র পরীক্ষা ও তথ্যানুসন্ধান করেছে। সত্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য ব্যক্তিদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে রেকর্ড করেছে দুদক টিম। উক্ত দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে কিনা এবং তা হয়ে থাকলে এর সাথে কারা জড়িত তা উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও তথ্য প্রমাণসমূহ পরীক্ষা করে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম।

মামুন উর রশিদ, ইন্সপেক্টর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চট্টগ্রাম-এর বিরুদ্ধে লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য ঘুষ দাবির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ হতে অপর একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরজমিনে উক্ত দপ্তর পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বিস্তারিত আলোচনাপূর্বক তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে দুদক টিম। এ ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগসমূহ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম।

এছাড়া, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতি ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা না দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করা, প্রকল্প কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে খামারীদের প্রণোদনার অর্থ আত্মসাৎ, সহকারী পরিদর্শকের বিরুদ্ধে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে আসা গ্রাহকদের নিকট ঘুষ দাবি ও নানাভাবে হয়রানি করা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেতুর টোলের অর্থ হরিলুট, জেলা সমাজসেবা অফিসের সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার অর্থ আত্মসাৎ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাঘাটা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুধে দায়িত্বে অবহেলা, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি, কারাগারের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সরকারি কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে সেবা প্রার্থীদের নিকট হতে বিভিন্নভাবে ঘুষ আদায়, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নদী দখল, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গৃহহীনদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা ঘর হতে সুবিধাভোগীদের বিতাড়িত করে ঘুষের বিনিময়ে অন্যকে দখল পাইয়ে দেয়া এবং তহশিলদারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগের প্রক্ষিতে মহাপরিচালক-স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; মহাপরিচালক-প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর; মহাপরিচালক-ডাক অধিদপ্তর; মহাপরিচালক- বাংলাদেশ রেলওয়ে; মহাপরিচালক-সমাজসেবা অধিদপ্তপর; মহাপরিচালক-ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর; বিভাগীয় কমিশনার-খুলনা; মহাপরিদর্শক-কারা অধিদপ্তর; মহাপরিদর্শক-নিবন্ধন অধিদপ্তর; জেলা প্রশাসক, গাজীপুর-নীলফামারী-সুনামগঞ্জ-কে বিষয়সমূহ অবহিত করে যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।