হেফাজত ইস্যু : ‘কৌশলী’ সরকার

এইমাত্র জাতীয় রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালানোয় বিভিন্ন মহল থেকে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজত ইসলামের বিরুদ্ধে এখনই ‘অ্যাকশনের’ যাওয়ার দাবি উঠলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে নানা কৌশল হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এক্ষেত্রে সংগঠনটি ধ্বংসাত্মক কর্মকা-, বিভিন্ন কেলেঙ্কারির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া এবং অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচারণা বাড়ানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে মামুনুল হকের ‘নারী কেলেঙ্কারির’ অভিযোগে সংগঠনটির ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে সেটি ধরে রাখতে চাচ্ছে সরকার।
এজন্য মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারি এবং ঢাকায় যে নাশকতা ও সংঘাত হয়েছে-সেই মামলাগুলোও সামনে আনা হচ্ছে।
ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী না হওয়ায় ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে মাঠে না দাঁড়িয়ে কৌশলী ভূমিকায় নিয়ন্ত্রণ করা নিরাপদ বলে মনে করছেন সরকারের নীতি-নির্ধারকরা। তবে হেফাজতের আন্দোলনের নামে আর কোনো সহিংসতা ঘটালে সেটি কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলেও জানিয়েছেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে গত ২৬ মার্চ থেকে তিনদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং রাজধানীর ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ধর্মকে ভিত্তি করে হেফাজতে ইসলাম ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা স্বাধীনতা বিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত। এরা মূলত আইএসআই ও পাকিস্তানের এজেন্ট। তারা বিএনপি-জায়ামাতের অনুসারী। তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- সারা বিশ্ববাসী দেখেছে। যারা এই ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত ছিল, সবাইকে আইন অনুযায়ী কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তি প্রতিরোধ করার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
সম্প্রতি হেফাজত ইসলাম যে সহিংসতা করেছে সেসব ঘটনায় ২৫টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনার জন্য হেফাজতকে দায়ী করা হলেও মামলাগুলোতে সংগঠনের নেতাদের নাম ছিল না।
তবে বায়তুল মোকাররম এলাকায় সহিংসতার অভিযোগে মামুনুল হকসহ হেফাজতের ১৭ জন নেতার বিরুদ্ধে গত সোমবার একটি মামলা করা হয়। এসব অভিযোগেই সরকার এখন মামুনুল হক এবং হেফাজতের নেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রম গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের সাংগঠনিক শক্তি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে সহিংসতার ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপের ব্যাপারে মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক শেষে হেফাজতের আন্দোলনের নামে কোনো সহিংসতা ঘটালে সেটি কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, নানা অজুহাতে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। বৈঠকে এসব বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে যেখানেই কোনো সহিংসতা দেখা দেবে, সেখানেই কঠোর অবস্থানে যাবে প্রশাসন। এক্ষেত্রে আর কোনো ছাড় নয়।
তিনি আরো বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানেই নাশকতা হবে আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। যারা নাশকতা করবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যারা চিহ্নিত হবেন, দোষী সাব্যস্ত হবেন-তার বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে করে তারা এই ঘটনা সংগঠিত করার প্রয়াস না পান।
হেফাজতের আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ে সরকার উদ্বিগ্ন সেটি ইঙ্গিত করে উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা প্রতিরোধ করাই সরকারের ‘চ্যালেঞ্জ’ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার এক ভিডিও কনফারেন্সে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাভাইরাসের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা প্রতিরোধকরাই এখন সরকারের ‘চ্যালেঞ্জ’। এ দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি কাজের সু-সমন্বয় এবং দলের ঐক্য আরো সুসংহত করা জরুরি কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেদাভেদ ভুলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ লড়াইয়ের সাহসী কা-ারি শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।