স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ ও মশার লার্ভা পাওয়ায় সোয়া লক্ষ টাকা জরিমানা

রাজধানী

নিজস্ব প্রতিনিধি : সরকার ঘোষিত লকডাউনের ৩য় দিনেও স্বাস্থ্যবিধিসহ লকডাউনে আরোপিত অন্যান্য আরোপিত শর্তাবলি তদারকি এবং মশার লার্ভার বিরুদ্ধে বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। ঢাদসিক এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের (আনিক) পাশাপাশি করপোরেশনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসব অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে আদালত কিছু এলাকায় স্বাস্থ্য বিধি না মানা এবং কিছু স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় প্রায় সোয়া লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

বুধবার করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা নগরীর ধানমন্ডি এলাকায় মশার লার্ভার সনাক্তকরণে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি ১৭টি ভবন পরিদর্শন করেন। অভিযানে আনোয়ার কোং লিঃ এর একটি নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্ট এর জমানো নোংরা পানিতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়ায় ১টি মামলা দায়ের ও নগদ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

ঢাদসিক এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ বুধবার ০৫ নং অঞ্চলের আওতাধীন স্বামীবাগ এলাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল খুঁজে লার্ভা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময়ে ৪০ ও ৪১ নং ওয়ার্ডে মোট ৩৫টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ০২টি বাড়িতে পানি জমে থাকায় তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি অপসারণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জমে থাকা পানিতে লার্ভার উপস্থিতি না থাকায় জরিমানা করা হয় নি। পরবর্তীতে নবাব টাওয়ার নামক একটি অ্যাপার্টমেন্টের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে লার্ভা পাওয়ায় ১টি মামলা দায়ের ও নগদ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফান উদ্দিন আহমেদ ওয়ারী এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান, ওষধের দোকান ও জরুরী সেবা সংশ্লিষ্ট ব্যাতীত ২০টির অধিক দোকান বন্ধ করে দেন। এ সময় তিনি মানুষজনকে মাস্ক পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন।

পাশাপাশি ঢাদসিক এর সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল মুক্ত করেন।

ঢাদসিক এর আঞ্চল-১ এর আনিক মেরিনা নাজনিন বুধবার কাটাবন, ধানমণ্ডি ও গ্রীন রোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা ভঙ্গ করে খাবার পরিবেশন, রাস্তা দখল করে গাড়ি রাখায় মোট ৬টি মামলা দায়ের এবং নগদ ২৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

অভিযান প্রসঙ্গে অঞ্চল-১ এর আনিক মেরিনা নাজনিন বলেন, “আজকের অভিযানে কাঁটাবনের অষ্টব্যঞ্জন রেস্টুরেন্টের ভেতরে ৮ জন ব্যক্তিকে খাবার পরিবেশন করায়, ধানমণ্ডির কেএফসি’র কর্মীরা ফুটপাথ দখল করে তাদের মোটর সাইকেল রাখায় এবং গ্রিন রোডের বেস্ট বাই নামক ভ্যারাইটি শপ অনুমেদনহীনভাবে খোলা রাখায় জরিমানা করেছি। আজকের অভিযানে মোট ৬টি মামলা দায়ের এবং সেসব মামলায় মোট ২৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।”

অঞ্চল-২ এর আনিক সোয়ে মেন জো বলেন, “বুধবার খিলগাঁও-বাসাবো এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আমরা বিভিন্ন অলিতে-গলিতে যেমন অভিযান পরিচালনা করেছেন তেমনি গণপরিবহনে স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে কিনা সেটাও তদারকি করেছি। এ সময় গণপরিবহনগুলোতে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে যাতায়াত করা এমন ৪ পরিবহন চালককে মাস্ক না পরার অপরাধে উপস্থিত জনতার সামনে কান ধরে উঠবস করানো হয় এবং পরবর্তীতে মাস্ক পড়ার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর মাস্ক না পরা এমন ৬ যাত্রীকে ঘন্টাখানেক আটক রাখা হয় এবং আর মাস্ক না পরে বের হবেন না, এমন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও অনুমোদিত প্রায় ৬০টি দোকান অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

অঞ্চল-৩ এর আনিক বাবর আলী মীর বলেন, বুধবার আমরা নগরীর কামরাঙ্গীরচর ও বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। এ সময় মাস্কবিহীন শতাধিক পথচারীকে মাস্ক পরতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স বিহীন ব্যবসা করার অপরাধে একটি মাংসের দোকান থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”

অঞ্চল-৪ এর আনিক মো. হায়দর আলী বুধবার নগরের বাবুবাজার ব্রিজ, সদরঘাট টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকা, লক্ষীবাজার, তাঁতী বাজার মোড় ও রায় সাহেব বাজার মোড়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এসময় অননুমোদিত ২০টি দোকান ও শপিং মল বন্ধ করে দেন।

আনিক-৪ মো. হায়দর আলী বলেন, “সন্ধ্যার পরে আমরা আবার অভিযান শুরু করি। সন্ধ্যা সাতটার পরে নাজিরা বাজার এলাকায় অননুমোদিত দুটি দোকান খোলা রাখার অপরাধে ২টি মামলা দায়ের ও নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।”

এছাড়াও ঢাদসিক এর অন্যান্য অঞ্চলের আনিকবৃন্দ বুধবার নিজ নিজ অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ সরকার ঘোষিত লকডাউনে আরোপিত শর্তাবলি মেনে চলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন। একইসাথে সেসব অঞ্চলগুলোতে অনুমোদনবিহীন ভাবে খোলা রাখা প্রায় শতাধিক দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে আজকের অভিযানে ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও আড়াই শতাধিক অননুমোদিত দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।