ঢাকা ওয়াসার পিপিআই’র প্রকল্পের ত্রাস রাজস্ব পরিদর্শক খায়রুল হাসান নিপুর কত সম্পদ?

অপরাধ অর্থনীতি জীবন-যাপন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ওয়াসার ভিভিআইপি রাজস্ব পরিদর্শক খায়রুল হাসান নিপুর ঢাকার শহরে কি নেই? বহুতল বাড়ি, একাধিক ফ্লাট, প্লট, গাড়ি আর গ্রামের বাড়িতে প্রচুর জায়গা জমি। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাজস্ব পরিদর্শক খায়রুল হাসান নিপু আজ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। ওয়াসায় আন্ডার বিল করে, মিটার টেম্পোয়ারিং ও অবৈধ সংযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অপরদিকে সরকারের বিপুল পরিমাণ অংকের টাকার রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে। সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা ওয়াসার পিপিআই’র প্রকল্পের ত্রাস ছিল নিপু। নিয়োগ, বদলী, সাইট বরাদ্দের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিল নিপু। প্রকল্পের শেষ দিকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে যোগসাজস করে পিপিআই’র কোটি কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব জোন-৬ এর ভিআইপি রাজস্ব পরিদর্শক ও ওয়াসার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী খ্যাত নিপুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব পরিদর্শক নিপু ঢাকা ওয়াসার ৬নং জোনে কর্মরত। পুরানাপল্টন হোল্ডিং ১৭১, পুরানা পল্টন লাইন হোল্ডিং ১ হতে ২৬/৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, সেক্রেটারিয়েট রোড-এ তিনি বিলিং ও রাজস্ব আদায়ের কাজ করেন। ব্যক্তিগত একাধিক সহকারী দিয়ে সাইট পরিচালনা করেন। সাইট পরিদর্শনে তিনি কখনও যাননা। তার নিয়োগকৃত প্রধান ব্যক্তিগত সহকারী এনায়েতকে দিয়ে ডিউটি করান। বহিরাগত দিয়ে কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনী। ৫ জুলাই ২০১৮ ইং তারিখে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এক আদেশের মাধ্যমে বহিরাগত নিয়োগ নিষিদ্ধ করে। যার স্মারক নং রা/৮২০২ প্র:রা:ক:-৫/৭/২০১৮ইং।

জানা গেছে, তার চাকুরীর বেতনের সহিত বর্তমান যে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ঢাকা শহরের মিরপুরে ২টি ফ্লাট ও মিরপুরে পিপিআই প্রকল্পের দুর্নীতির শিরোমনি হাবিব উল্লা ভুইয়ার সাথে যৌথভাবে ৬তলা ভবন নির্মানাধীন। ঢাকায় রয়েছে একাধিক প্লট। বরিশার জেলার মুলাদি উপজেলার হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান নিপু গ্রামের বাড়িতেও প্রচুর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ছেলে-মেয়েরা ব্যয়বহুল বেসরকারী কলেজ বিশ^বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করে। ফকিরাপুলে তার অফিস হলেও তিনি কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনে প্রতিদিন অবস্থান করেন। হাজিরা খাতায় একদিন এসে অনেক দিনের স্বাক্ষর করেন।

ওয়াসা ও এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, নিপু অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের মালিক। চতুর নিপু আইনগত ঝামেলা এড়ানোর জন্যে নিজের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও আত্মীয় স্বজনের নামে সম্পদ গড়েছেন। তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স তদন্ত করলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টগণ মনে করেন। তার সর্বসাকুল্যে বেতন ৩৫হাজার টাকা। অথচ তার ব্যক্তিগত সহকারির বেতন ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারির সম্পদ ও বিলাসী জীবন যাপন দেখে খোদ ওয়াসার কর্মকর্তরাও অবাক। খায়রুল হাসান নিপুর আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তদন্তের জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার সাধারণ কর্মচারীগণ।