ধরিত্রী বাঁচাতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঁঠায় নামানোর দাবি জানালো সবুজ আন্দোলন

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিনিধি : খনিজ জ্বালানীর ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার নিশ্চিত করলে আমাদের এই প্রিয় ধরিত্রী নিরাপদ করা সম্ভব। ধরিত্রী বাঁচাতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় আনার দাবি জানালো সবুজ আন্দোলন। আজ ২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই দাবি করলেন পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার।

ধরিত্রী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য “রিস্টোর আওয়ার আর্থ”। সবুজ আন্দোলন প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে কাজ করে আসছে। ইতোমধ্যে সারা বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় জনসচেতনতা তৈরি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উপরে জোর দিয়ে আসছে। আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের পক্ষে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল আদায় জোরদার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে সংগঠনের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের দিবস সারা পৃথিবী পালন করছে। কিন্তু সবুজ আন্দোলনের কাছে বছরের প্রত্যেকটা দিনই ধরিত্রী দিবস। কারণ আমরা প্রতিদিনই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জনগণের মাঝে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি। আমরা শিল্পোন্নত দায়ী রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে বলবো, অনতিবিলম্বে পৃথিবীর সকল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করুন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার নিশ্চিত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ ও শিল্পোন্নত দায়ী রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের পক্ষে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলো:
১) অনতিবিলম্বে সারা পৃথিবীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করা অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেক ও ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় আনতে হবে।
২) নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। দেশের সমুদ্র উপকূল ও নদীর পাড় জুড়ে “উইন্ড পাওয়ার” প্লান্ট স্থাপনের জন্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৩) নেদারল্যান্ডের মত দেশের দক্ষিনে বেড়ি বাঁধ নির্মাণ ও মিঠা পানি সংরক্ষণে নদী ও দিঘি খনন করতে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।
৪) সারাদেশে সামাজিক বনায়ন নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।
৫) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্ভাব্য ৬ কোটি বাস্তুহারা মানুষের পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে দায়ী রাষ্ট্রকে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।
৬) বায়ু পানি মাটি দূষণ রোধে বাংলাদেশ সরকারকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৭) প্রত্যেক বিভাগীয় শহর, জেলা ও পৌর এলাকায় অগ্রগতি অধিকার ভিত্তিতে বর্জ্য অপসারণ, ই-বর্জ্য রাখার জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ ও বর্জ্য পুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।