থেমে নেই মেগা প্রকল্প

অর্থনীতি এইমাত্র জাতীয়

লকডাউন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশব্যাপী লকডাউনেও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের বড় প্রকল্পগুলো চালু আছে। এসব প্রকল্পে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে দেশীয় শ্রমিকদেরও করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে থেকে সতর্ক থাকায় প্রকল্পগুলোতে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের মেগা প্রকল্পগুলোতে আগে থেকেই কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। কোনও বিদেশি নাগরিক এলে তার জন্য করোনা নেগেটিভ সনদের পাশাপাশি সঙ্গনিরোধ নীতিও কঠোরভাবে মেনে চলা হয়েছে। এতে আক্রান্ত কেউ প্রকল্পে প্রবেশ করতে পারেনি। শ্রমিকদেরও প্রকল্প এলাকা থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। কেউ ছুটিতে গেলে তার ক্ষেত্রেও আইসোলেশন নীতি মেনে চলা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব বিদেশি নাগরিক প্রকল্পগুলোতে কাজ করছেন সেগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এখন মেগা প্রকল্পের মধ্যে রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার প্রকৌশলীরা রয়েছেন। মাতারবাড়ীতে রয়েছেন জাপানি নাগরিকরা। রামপালে কাজ করছেন বেশ ক’জন ভারতীয় প্রকৌশলী।
অন্যদিকে বিসিপিসিএল-এর পায়রা, এবং বিপিসির গভীর সাগর থেকে তেল খালাস প্রকল্প সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টার্মিনালে কাজ করছেন চীনা নাগরিকরা।
এরমধ্যে রাশিয়া এবং চীন নিজেদের ব্যবস্থাপনায় তাদের দেশ থেকে ভ্যাকসিন এনে কর্মীদের দিয়েছে। বাকিদের দেশেই সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। সরকারের জরুরি খাত হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ করছে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল)। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আবসার উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৭ হাজার ৮০০ লোক কাজ করছে। ৬৬০ করে দুই ইউনিটের ১৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির কাজের প্রায় ৬৮ ভাগ শেষ হয়েছে। বিদেশিদের বিশেষভাবে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। এখনও নিবন্ধন চলছে।
তিনি আরও বলেন, কাজ থেমে নেই। কয়লার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১টি কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে। সামনে হয়তো আরও প্রস্তাব পাবো।
জানতে চাইলে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ আব্দুল মাওলা বলেন, আমাদের প্রথম পর্যায়ে দুই ইউনিটের কাজ শেষ। দ্বিতীয় ফেজের কাজ শুরু হচ্ছে। প্রথম দুই ইউনিটের টুকটাক কাজের জন্য এখন সাইটে ৮০০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও সৌন্দর্য বর্ধন, গাছ লাগানো এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ করছেন তারা।
মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টার্মিনাল এবং রূপপুরেও কাজ চলছে পুরোদমে। সম্প্রতি রাশিয়া থেকে রূপপুর কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টরসহ বেশ কিছু যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে রাশিয়া। প্রথম ইউনিটের কাজ হয়ে গেছে অনেকখানিই। মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক নিয়োগও শেষ হয়েছে। নির্মাণের সময় মালামাল আনা নেওয়ার জন্য একটি অস্থায়ী চ্যানেলও খনন করা হয়েছে।
গতবছর মার্চে লকডাউনের পর দেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির সব মেগা প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বিদেশের প্রায় সব কর্মী যার যার দেশে চলে যান। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও তাদের কাজে ফেরাতে বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিভাগকে বেশ বেগ পেতে হয়। এবার সেসব বিবেচনা করে কোনও কর্মীকে ফেরত যেতে দেওয়া হয়নি।