অভয়নগরে সরকারি খাস জমিতে মুদি দোকান দখলবাজদের বিরুদ্ধে ভুমি কর্মকর্তার নোটিশ!

সারাদেশ

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : অভয়নগরে সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মুদি দোকান করে ব্যবসা করে আসছে এক অসাধু ব্যবসায়ী। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র পাল সরকারি খাস জমি উদ্ধারের জন্য দখলদারদের বিরুদ্ধে দখল পুনরুদ্ধারের নোটিশ করেছেন। কিন্তু নোটিশের কোনো জবাব না দিয়ে বহাল তবিয়াতে সরকারি খাস জমি দখল করে দের্দারছে ব্যবসা করে চলেছেন বলে অভিযোগ ঐ অসাধু মুদি দোকানীর বিরুদ্ধে।
সুত্র জানায়, শ্রীধরপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শাহিন পাড়া এলাকায় খড়বটতলা নামক স্থানে সরকারি রাস্তা সংলগ্ন ১ শ’ ৫৬ ফুট সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে তোকাম শেখের ছেলে তহিদুর শেখ গং ভোগ করে আসছে। কিছুদিন পূর্বে তোকাম শেখের ছোট ভাই আব্দুল হাকিম শেখ ঐ সরকারি খাস জমির পতিত কিছু অংশ নিয়ে একটি ছোট্ট দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এসময় তার ভাইপো তহিদুর গং তাকে বাঁধা দেয়। এই নিয়ে স্থানীয় মথুরাপুর ক্যাম্পে শালিস বৈঠক হয়। বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নারায়ণ চন্দ্র পাল আমলে নিয়ে সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ভুমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭০ এর ৫ (১) ধারার পরিপন্থি বলে ২টি নোটিশ করেন। তার কোনো জবাব দেয় নি দখলবাজরা।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ১০/০৩/২০২১ ইংরেজি তারিখে শংকরপাশা গ্রামের তোকাম শেখের ছেলে মোঃ তহিদুর, মোঃ শহিদুল, মোঃ তারিকুল ইসলাম, মেয়ে মোছাঃ রাফেজা আক্তার, মোছাঃ লাভলী এবং মৃত তোফাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হাকিম শেখ কে সরকারি খাস জমি দখল পুনরুদ্ধারের নোটিশ করা হয়। কিন্তু তারা নোটিশের কোনো জবাব না দেওয়ায় পুনরায় ০৭/০৪/২০২১ ইংরেজি তারিখে আবারও নোটিশ করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখিত বিষয়টির বিবরণ হলো অভয়নগর উপজেলাধীন ৫৮ নং শংকরপাশা মৌজার আর এস ১নং খাস খতিয়ানের ৩২০ নং দাগের উপর অবৈধভাবে টিনের ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এ বিষয়ে আপনাকে/ আপনাদেরকে ০৭ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করার জন্য বলা হয় কিন্তু আপনি দখলের স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র/ জবাব দাখিল করেন নি যা সরকারি এবং স্থানীয় কতৃপক্ষীয় ভুমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭০ এর ৫ (১) ধারার পরিপন্থি।
এমতাবস্থায়, নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে নিজ দায়িক্তে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করার জন্য আপনাকে বলা হলো। অন্যথায় আপনার/ আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোঃ তৌহিদুর রহমান বলেন, সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্যে ২টি নোটিশ পেয়েছি। আমি ভালো বলতে পারবো না। তবে বিষয়টি নিয়ে আমার বোন বলতে পারবেন। আপনি পরে কথা বলেন।
জানতে চাইলে মোছাঃ রাফেজা বেগম বলেন, আমরা নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছি। এই জমিটি যে সরকারি, তা আমরা জানতাম না। এখন সরকার যদি আমাদের ভোগ করতে দেয়, তাহলে ভোগ করবো। আর না দিলে, ছেড়ে দিতে হবে।
ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তা ২টি নোটিশ করেছে তা আমি পেয়েছি। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি তা মেনে নেবো।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলাধীন ৫৮ নং শংকরপাশা মৌজার আর এস ১নং খাস খতিয়ানের ৩২০ নং দাগের উপর অবৈধভাবে টিনের ঘর নির্মাণ করে শহিদুল ইসলাম গং ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এই অবৈধ দখলের পুনরুদ্ধার করার ব্যাপারে প্রথমে ৭ দিনের একটি নোটিশ করেছি। অতঃপর তাদেরকে পুনরায় আরও একটি নোটিশ করেছি। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।