নড়াইলে পারিবারিক কবরস্থানের নাম পরিবর্তন করে ভুয়া কমিটি ও জাল সই করার অভিযোগ

সারাদেশ

মামুন মোল্লা : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাচুড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড হাড়িয়ারঘোপ বিশ্বাস বাড়ী পারিবারিক কবরস্থানের নাম পরিবর্তন করে হাড়িয়ারঘোপ মধ্যপাড়া কবরস্থান নাম ব্যবহার করে ভুয়া কমিটি করে ও কমিটির সদস্যদের সই জাল করে সরকারি টাকা উত্তলনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়,স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা পরিষদ অধিশাখার স্মারক নং ৪৬.০০.৬৫০০.০৪২.১৪.০৫০.১৭.৫১৪ ও ২৪-৩-২০ তারিখ এর প্রেক্ষিতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এডিপি বরাদ্দের আওতায় ৩৪৫টি প্রকল্পের মধ্যে হাড়িয়ারঘোপ মধ্যপাড়া কবরস্থান সংস্কার বাবাদ এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বারা প্রকল্পটি সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়নের লক্ষে প্রকল্প কমিটি গঠন করে ১৫-৫-২০২০ তারিখের মধ্যে দাখিল করে এ কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করে প্রাক্কলন প্রস্তুত করার জন্য বলা হলো।উলেখ্য যে ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটিতে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা পরিচালনা পরিষদ মনোনিত ব্যক্তি সভাপতি থাকবেন,কমিটিতে একজন ইউ পি সদস্য কে সদস্য হিসাবে রাখতে হবে।প্নকল্প কমিটি দাখিল করার সময় রেজুলেশন চুক্তিপত্র,প্রকল্পের সভাপতির ১ কপি ছবি সহ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটকপি এবং প্রকল্পটির কাজ করার আগের ছবি দাখিল করতে হবে।এদিকে,১২-৫-২০২০ তারিখ বিকাল ৪টা থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মিটিং দেখিয়ে ভুয়া কমিটি করে কমিটির সদস্যদের সই জাল করে জেলা পরিষদে টাকার জন্য আবেদন করেন।কমিটিতে মো:ইলিয়াছ বিশ্বাস,মনিরুল হক,আঃ মান্নান,আতিয়ার রহমান,রওশন আলী,আবু মুছা,ফরিদ আহম্মেদ,রিপন বিশ্বাস,রাজু খান,আবু ইসা,ফসিয়ার রহমান,বিল্লাল হোসেন,নুর মিয়া,মফিজুর রহমান,আসাদুজ্জামান,আমজাদ হোসেন ও আজাদ বিশ্বাস কে সাথে নিয়ে কমিটি দেখান করবস্থান কমিটির সভাপতি মনিরুল হক (মনা মিয়া)।সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কমিটিতে থাকা এবং পারিবারিক কবরস্থানে জমি দানকারী ব্যক্তী আবুল কালাম আজাদ,আতিয়ার রহমান,মশিয়ার রহমান,ইলিয়াছ বিশ্বাস,মুসা বিশ্বাস,মান্নান বিশ্বাস,আসাদুজ্জামান বিশ্বাস,ফসিয়ার রহমান এ প্রতিবেদক কে জানান,এটা আমাদের বিশ্বাস বাড়ি পারিবারিক কবরস্থান এ কবরস্থানের সংস্কারের জন্য আমরা জনিদাতারাই চাঁদা দিয়ে সংস্কার করি কিন্তু কবে কিভাবে কবরস্থানের কমিটি হলো বা কমিটিতে আমরা সই করলাম জানি না।পারিবারিক কবরস্থানে কি ভাবে সরকারি অনুদান পাওয়া যায় ভেবে পাই না,কোন কমিটি করলাম না, কোন কাগজে সই করলাম না,আবার দেখছি আমাদের সই,এমন জালিয়াতির জন্য জালিয়াতকারী জাল সই কারী মনা মিয়ার বিচার চাই বলে জানান গ্রামবাসি।কবরস্থানে জমিদানকারী আতিয়ার রহমান জানান,আমাদের জমি দিয়ে নিজেদের পারিবারিক কবরস্থান করেছি এটা তো বাইরের লোকদের জন্য না কিন্তু কবরস্থানের সভাপতি সেজে মনিরুল হক (মনা মিয়া) আমাদের সই জাল করে ঘরে বসে কমিটি করে জেলা পরিষদে কাগজ জমা দিয়ে সরকারি টাকা উত্তলনের পাইতারা করছে।আতিয়ার রহমান আরো বলেন,আমি মনিরুল হক মনা মিয়া কে (১৬এপ্লিল) শুক্রবার বলি তুমি কবরস্থানের প্রাচিরের প্লাস্টারের কাজ করছ কি আমাদের নিজেদের ফান্ডের টাকা দিয়ে, না কি,তখন মনা মিয়া বলে কিছু জানি না,তোকে আমার কি বলতে হবে,পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমি বাড়ি চলে যায়,বিকালে আমাকে পুলিশ দিয়ে হেনস্তা করতে চেষ্টা করে লম্পট মনা মিয়া।
পরে পুলিশ আমাকে ফোন করলে তার সাথে দেখা করে ঘটনাটি জানালে তিনি মনা মিয়ার কাছ থেকে কবরস্থান দেখিয়ে টাকা উত্তলনের কাগজ এনে দেন,পরে কাগজ দেখে আমরা গ্রামবাসি জানতে পারি কত বড় জালিয়াতী করেছে ভন্ড মনা মিয়া।
গোরস্থানের টাকা কি ভাবে মেরে খায় বুঝতে পারছি না জালিয়াতী দূর্নিতিবাজ মনা মিয়ার বিচার চাই এমন নেক্কার জনক ঘটনার তিব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ জানান গ্রামবাসি।কবস্থান কমিটির কেশিয়ার মো:ফরিদ আহম্মেদকে 01931604284 নাম্বারে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।৮নং হাড়িয়ারঘোপ ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান (মাফিজ) এর কাছে কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমি কমিটির বিষয়ে কিছু জানি না কিন্তু মনা মিয়া আমাকে বলেছিল এবং কবরস্থানে অনেক টাকা খরছ করেছে বলে জানি তবে আমি কোন কমিটিতে সই করিনি,কবরস্থান কমিটিতে একজন ইউপি সদস্যকে রাখতে হয় তাই হয়তো রেখেছে।করবস্থান কমিটির সভাপতি মনিরুল হক (মনা মিয়া)র বাড়িতে বার বার গিয়েও মনা মিয়াকে পাওয়া যায়নি পরে,01911030919 নাম্বারে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি পরে মনা মিয়া নিজে ফোন করে জানান,আমি কিছু জানি না,আপনি গ্রাম বাসির কাছ থেকে যা যা সুনেছেন তাই আপনি রিপোর্ট করেন তবুও আমি কিছু আপনাকে বলবো না বলেও জানান।কালিয়া থানার এএসআই মো:সজীব এহেন ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন,(১৬এপ্লিল) শুক্রবার করবস্থান কমিটির সভাপতি মনিরুল হক (মনা মিয়া)আমাকে ফোন করে বলেন,মনা মিয়াকে আতিয়ার রহমান নামের একজন মারধোর করেছে খবর সুনে তাৎক্ষণিক হাড়িয়ারঘোপ কবরস্থানে যায় এবং সেখানে কাউকে পাইনি পরে আসেপাশের লোকজনের কাছে সুনতে বা জানতে পারি কোন প্রকার মারামারি হয়নি।তার পরেও আমি আতিয়ার রহমান কে ফোন করে আমার সাথে দেখা করতে বলি,পরে ঔদিন আতিয়ার রহমান আমার সাথে দেখা করে আমাকে সকল বিষয়ে বলেন এবং আমি মনা মিয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে মনা মিয়া আমাকে কবরস্থান কমিটির একটি কাগজ ধরিয়ে দেন পরে ঝামেলার মিমাংশা করার জন্য কাগজটি আতিয়ার রহমানের কাছে বুঝে দেই,তখন আতিয়ার রহমান বলেন,স্যার আমরা কমিটিতে সই করি নি,কিভাবে আমাদের সই কমিটির কাগজে বলেও জানান।সেই সাথে আতিয়ার রহমান বলেন,আমি সহ আমাদের কেউই এ কমিটিতে সই করেননি কিন্তু আমি আতিয়ার রহমান ও মনা মিয়াকে বলেছি নিজেদের ব্যপার নিজেরাই মিটমাট করে নেন,নাহলে আপনাদের বিরুধ্যে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাদ্ধ্য হবো।