মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে

এইমাত্র জাতীয় জীবন-যাপন সারাদেশ সাস্থ্য

ভারতের পরিস্থিতি মর্মান্তিক

 

 

বিশেষ প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার না করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রয়োজনে মানুষকে একসাথে দুটি মাস্ক পরারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোমবার তথ্য অধিদফতরের এক বিবরণীতে একথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, জরুরি কাজে কেউ ঘরের বাইরে গেলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে তাকে মাস্ক ব্যবহার করার জন্য সরকার বারবার নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে, অনেকেই এ নির্দেশনা অমান্য করছেন। এক্ষেত্রে বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার না করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে দুটি মাস্ক একসাথে পরতে পরামর্শ দিচ্ছে সরকার।
এদিকে বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৭৮ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২২৮ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩১ জন। এতে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৫৯ জনে।
করোনাভাইরাস নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ৫ হাজার ২৩৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯২৭ জন।
এর আগে সোমবার (২৬ এপ্রিল) করোনায় ৯৭ জন মারা যান ও নতুন করে ৩ হাজার ৩০৬ জন করোনা আক্রান্ত হন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা গেছেন ১০ হাজার ৯৬৬ জন এবং নতুন করে প্রায় ৭ লাখ মানুষের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৩১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৪ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৮৮৪ জন। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ কোটি ৬০ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪৭ জন।
করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬১১ জনের।
আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৭৩৫ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৯৭ হাজার ৮৮০ জন।
আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিল এখন পর্যন্ত করোনায় এক কোটি ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৬ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার ২০৪ জনের।
আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬ জন। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত মারা গেছেন ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৬ জন।
আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া রয়েছে পঞ্চম স্থানে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪৭ লাখ ৭১ হাজার ৩৭২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮৮ জন।
এদিকে আক্রান্তের তালিকায় তুরস্ক ষষ্ঠ, যুক্তরাজ্য সপ্তম, ইতালি অষ্টম, স্পেন নবম এবং জার্মানি দশম স্থানে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।
চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। প্রজ্ঞাপন জারি হলে আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই লকডাউন বহাল থাকবে।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বিধিনিষেধের মধ্যে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আট দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সেই মেয়াদ শেষ হয় গত বুধবার (২১ এপ্রিল) মধ্যরাতে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় লকডাউনের মেয়াদ আগামী ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
ভারতের করোনা পরিস্থিতি মর্মান্তিক : করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে ভারতের বিদ্যমান পরিস্থিতিকে হৃদয় বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস অ্যাধানম ঘেব্রেইয়েসাস। দেশটিতে দৈনিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ পার, অক্সিজেন সংকটের পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কারণে সোমবার তিনি এই মন্তব্য করেন। এনডিটিভি।
ভারতে দৈনিক করোনা সংক্রমণের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে আগেই। দেশজুড়ে চলছে অক্সিজেনের হাহাকার। ভেঙে পড়েছে খোদ রাজধানী নয়াদিল্লির চিকিৎসা সেবা। এমনকি মৃত্যুর পরেও মৃতদেহ দাহ করতে সৃষ্টি হয়েছে লম্বা লাইনের। কবরস্থানের দেখা দিয়েছে জায়গা সংকটের।
সোমবার ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘হৃদয় বিদারক’ উল্লেখ করে ডব্লিউএইচও’র প্রধান বলেন, ‘মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ভারতে অতিরিক্ত জনবল পাঠাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। অনেক জায়গায় সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে অনেক দেশ এখনও কোভিড-১৯ এর কারণে তীব্র সংকটে রয়েছে। ভারতের পরিস্থিতি হৃদয় বিদারক।’
টেড্রোস অ্যাধানম বলেন, ‘আমরা যা যা করতে পারি তা করছি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ করা হচ্ছে। ভারতে অক্সিজেন কন্টেইনার, মোবাইল ফিল্ড হাসপাতাল এবং ল্যাবরেটরি পাঠানো হচ্ছে। এছাড়াও দেশটিতে ২ হাজার ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে পাঠিয়েছে ডব্লিউএইচও।’
গত ৯ সপ্তাহ ধরে বিশ্বব্যাপী করোনার দৈনিক সংক্রমণের হার বাড়ছে। এর বেশিরভাগই ভারতে। দেশটিতে শনাক্ত করোনার নতুন ধরণ নিয়ে চিন্তিত সারাবিশ্ব। ইতোমধ্যেই ভারতে করোনা টিকা তৈরির কাঁচামাল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া ভারতের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, পাকিস্তান, জার্মানি, ফ্রান্সসহ অনেক দেশ। সাহায্যের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে গুগুল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানও।