মণিরামপুরে আদালত কতৃক ১৪৪ ধারা অমান্য করে মাটি কাটার অভিযোগ

সারাদেশ

যশোর প্রতিনিধি : যশোর মণিরামপুরে আদালত কতৃক ১৪৪ ধারা অমান্য করে জোরপূর্বক মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইন অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঐ ভূক্তভোগী জমির মালিক ববিতা মন্ডল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তার পৈত্রিক সূত্রে বাজেকুলটিয়া মৌজার আর এস ৩৪৪ দাগের ১৫ শতকের মধ্যে ৫ শতক সত্ত্ববতী ও দখলকারিনী আছেন। ববিতা মন্ডলের পৈত্রিক সত্ত্বদখলীয় জমি জোর পূর্বক বেদখল করার জন্য বাজেকুলটিয়া গ্রামের সুকুমার মন্ডলের ছেলে অর্জুন মন্ডল হুমকি দেয়। অর্জুণ মন্ডলের অবৈধ দখলের হাত থেকে তার পৈত্রিক জমি রক্ষা করার জন্যে ববিতা মন্ডল বাদি হয়ে যশোর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারা মতে ৪৪৬/২০২০ নং মোকদ্দমা করলে বিজ্ঞ আদালত হতে অর্জুন মন্ডলকে নোটিশ করে। নোটিশে মোকদ্দমা নিস্পতি না হওয়া পযন্ত নালিশী জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। মামলাটি এখন যশোর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিবাদী অর্জুন মন্ডল নালিশী জমিতে তার অবৈধ দখল নেওয়ার জন্য ঐ জমিতে মাটি কাটার চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে মামলার বাদি ববিতা মন্ডল অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে বাঁধা দেয় এবং মাটি কাটতে নিষেধ করেন বিবাদী অর্জুণ মন্ডলকে। কিন্তু বিবাদী অর্জুণ মন্ডল কোনো কথা না শুনে ঐ নালিশী জমিতে মাটি কাটছে এবং জমির গাছ বিক্রি করার চেষ্টা করছে। এমনকি তাকে বিজ্ঞ আদালতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী তার ঠাকুর দাদার নরেন্দ্রনাথের নামে ১৪৪ নং বাজেকুলটিয়া মোজার ৭৮ নং খতিয়ানের ৩৪৪ নং দাগের ০৫ শতক বাদীর পূর্বের ওয়ারেশ অন্যান্য শরীকরা অর্জুন মন্ডলের পিতা সুকুমার মন্ডলের নিকট বিক্রি করেন। যাহা বর্তমানে বিবাদী ভোগ দখল করিতেছেন। পরবর্তীতে সকল আসামীগন উক্ত জমির পশ্চিম পাশে জোর পূর্বক অবৈধ দখলের চেষ্টা করিলে বাদী বিজ্ঞ আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পিটিশন মামলা নং পি-৪৫৮/২০, স্মারক নং -১২৩২।
যাহা তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৪৪/১৪৫ ধারা নোটিশ জারী করিয়া বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করিলে সকল আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে গত ২৭/০৭/২০২০ ইংরেজি তারিখ বাদীকে তার স্কুলে যাওয়ার পথে বেআইনিভাবে পথরোধ করিয়া বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে বাদী গালিগালাজ করিতে নিষেধ করিলে ০৭ নং আসামীর নিরঞ্জন মন্ডলের হুকুমে ১ নং আসামী অর্জন মন্ডল বাদীকে চড়-থাপ্পড় ও উপযুপরী কিল ঘুষি মারে এ সময় বাদির ডাক চিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আসামীরা বাদীকে খুন এবং জখমের হুমকি প্রদান করে পালিয়ে যায়।
এদিকে স্থানীয় গ্রামের সালিশ-মিমাংশা নামায় ০২/০৬/২০২০ ইংরেজি তারিখে রাত আনুমানিক ৯টায় বাবু মনোহর মন্ডলের সভাপতিত্বে ববিতা মন্ডল এবং অর্জুন মন্ডলের জমি সংক্রান্ত একটি মিমাংশার মিটিং-এর আয়োজন করা হয়। উক্ত মিটিং চলার সময়ে সকল পর্যায়ের গ্রামের সালিশদ্বাররা তাদের বক্তব্য ব্যাক্ত করেন। এ নিয়ে সালিশে বসার পূর্বেও তাকে (অর্জুণ মন্ডলকে) ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সে সালিশ বৈঠকে হাজির হয়নি। ৫ শতক জমি অর্জুন মন্ডল জোর-জবর দখল করে ভোগ করার প্রতিবাদে গ্রামের সর্ব-স্তরের মানুষ তাকে (ববিতা মন্ডলকে) আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন।
বাদি ববিতা মন্ডল বলেন, আমি পৈত্রিক সূত্রে বাজেকুলটিয়া মৌজার আর এস ৩৪৪ দাগের ১৫ শতকের মধ্যে ৫ শতক জমির সত্ত্ববতী মালিক। কিন্তু অর্জুণ মন্ডল নামের জৈনিক ব্যাক্তি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। পেশাগত দিক থেকে আমি একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। মান-সম্মানের সাথে এলাকায় বসবাস করি। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কোনো সালিশ-বৈঠকে অর্জূণ মন্ডল হাজির হয় না। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ঐ নালিশী জমির উপর আদালত ১৪৪ ধারা জারী করেছে। এবং উভয়পক্ষকে জমিতে যেতে নিষেধ করেছে। আদালতের অবমাননা করে অর্জুণ মন্ডল ঐ জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। বাধা দিতে গেলে আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি বিষয়টির তদন্তপূর্বক সঠিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।
এ ঘটনায় ববিতা মন্ডল যশোর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় অর্জুন মন্ডল, স্বপ্না মন্ডল, সুকুমার মন্ডল, কালাচাঁদ মন্ডল, রিংকু মন্ডল, নিরঞ্জন মন্ডল কে আসামি করা হয় এবং তিনি একই জমিতে ১৪৪ ধারা জারীর আবেদন করলে আদালত আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারী করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী অর্জুন মন্ডল বাড়িতে না থাকায় তার মেয়ে রিংকু মন্ডল এবং তার স্ত্রী স্বপ্না মন্ডল বলেন, এখানে ববিতা মন্ডল কোনো জমি পাবে না। তার কোনো জমি এখানে নেই। ববিতা মন্ডলের ওয়ারেশরা আমাদের কাছে সব জমি বিক্রি করে গেছে।
জানতে চাইলে মণিরামপুর থানার (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে বিচারাধীন মামলায় আদালত যে রায় দেবে, আমরা সেই রায় বাস্তবায়ন করবো। আদালত থেকে ১৪৪ ধারা অমান্য করে নালিশী জমির মাটি কাটার বিষয়ে আপনারা কি পদক্ষেপ নিয়েছেন ? এমন প্রশ্নের তিনি (ওসি) কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেন নি। অভিযোগ পেলে আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।