সুবিধাবাদী

অন্যান্য বিবিধ

মোস্তাফিজুর রহমান : খুব ঘনিষ্ঠতার ভবিষ্যৎ তিক্ততায় রূপ নেয়। জাগতিক নানাবিধ প্রয়োজনে এক অন্যের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের বিকল্প নেই কিন্তু মাত্রার বিষয়টি সার্বক্ষণিক লাগামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। কারণ মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা ক্রমান্বয়ে আপনার রিজার্ভ থলিতে পদচারণার জন্য আনঅপসড এক্সেস বিলং করে। আপনার চরিত্রের প্রতিটি দুর্বল দিক আপনার ঘনিষ্ঠ জনের জন্য এক একটি শক্তিশালী অপশন। সময়ের ব্যবধানে মতানৈক্য বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন হলে ক্রমান্বয়ে থলের বিড়াল বেরুতে শুরু করে যা বাস্তবতার চেয়ে অধিক প্রলেপে সম্প্রচারিত হয়ে থাকে। আপনি যে সকল বিষয়ের সাথে কোনদিনই সাক্ষাৎ করেননি, সে সকল বিষয়ও আপনার কর্মতৎপরতা সাথে জুড়ে দিয়ে চারিত্রিক অবক্ষয় সৃজন করার জন্যে সময়ের ঘনিষ্ঠ জনেরাই যথেষ্ট।

দূরসম্পর্কের কেউ আপনার চারিত্রিক আমলনামা নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেনা। যারা আপনার সাথে ঘনিষ্ঠ হয়, তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু ইনটেনশন থাকে। নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে কাঙ্খিত লক্ষ্যের অর্জন না হলেই ঘনিষ্ঠজন আপনার চরিত্রের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে রিহার্সেল শুরু করবে। এমন উদ্দুদ্ধ পরিস্থিতিতে আপনাকে হয়তো তার চাহিদা পূরণ করতে হবে নতুবা রূপকথার গল্প শোনার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এবার সিদ্ধান্ত নিন সম্পর্কের মাত্রা কতটুকু পর্যন্ত গড়াবেন। কাউকে খুব সহজে আপন ভাবার যেমন কারণ নেই, ঠিক নির্ভরশীলতায় না জড়িয়েও উপায় নেই বিধায় নিজস্ব কিছু বিষয় নিজের মনগহবরে তালাবদ্ধভাবেই রাখুন। আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপদ মানেই, আপনি নিরাপদ।ঘনিষ্ঠজনদের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিহার করুন এবং নিজস্বতাকে অটুট রাখুন তাহলেই জীবনের ছন্দপতন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আল্লাহ সকলকে সুরক্ষিত রাখুক।