ওয়াসার দুর্নীতিবাজ ইন্সপেক্টর রক্তিম অবশেষে ওএসডি

অপরাধ রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব জোন-১ এর সাবেক ভিআইপি রাজস্ব পরিদর্শক মুক্তি আহমেদ রক্তিম এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তার লাগামহীন অনিয়ম দুর্নীতির কারনে কর্তৃপক্ষ তাকে ৬ নং রাজস্ব জোনে ওএসডি করে রেখেছেন। তাতেও তার অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রক্তিম রাজস্ব পরিদর্শক হিসেবে ঢাকা ওয়াসার ১নং জোনে কর্মরত ছিলেন কিন্তু জোনের যাত্রাবাড়ীস্থ কার্যালয়ে তিনি অফিস করতেন না। ওয়াসার মতিঝিল অফিসে তিনি একটি রুম দখল করে রেখেছিলেন। রুমের তালা চাবিও তার কাছে থাকতো। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি হিসেবে একক রুম ব্যবহারের এখতিয়ার তার নেই।সাইট পরিদর্শনে তিনি কখনও যাননা। তার নিয়োগকৃত ব্যক্তিগত সহকারী কামরুলকে দিয়ে ডিউটি করান। আরও জানা গেছে, তিনি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মহানগর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি সরকারী অফিসে বসে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার উপরস্থ কর্মকর্তাদের গণ্যমান্য করেন না। সূত্রমতে ,ইতিপূর্বে তিনি মধ্য বাসাবো (হিসাব সংখ্যা-১৬৫), দক্ষিণ কমলাপুর (হিসাব সংখ্যা-১১), গোলাপবাগ (হিসাব সংখ্যা-২০০), উত্তর কমলাপুর (হিসাব সংখ্যা-১০) এই সাইট গুলোর দায়িত্বে ছিল। কামরুল নামে বহিরাগত একজন ব্যক্তিগত সহকারী সাইটগুলো পরিচালনা করতেন। তাকে প্রতি মাসে সাইট পরিচালনা বাবদ দুই লক্ষ ছাব্বিশ হাজার টাকা রক্তিমকে দিত বলে জানাগেছে। বহিরাগত দিয়ে কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনী । ৫ জুলাই ২০১৮ ইং তারিখে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এক আদেশের মাধ্যমে বহিরাগত নিয়োগ নিষিদ্ধ করে। যার স্মারক নং রা/৮২০২ প্র:রা:ক:-৫/৭/২০১৮ইং।
২০আগষ্ট ২০১৮ তারিখে রাজস্ব জোন-১ এর রাজস্ব কর্মকর্তার অফিস আদেশে সাইট পূনর্বিন্যাস করে রক্তিমকে নবদীপ বশাক লেন (হিসাব সংখ্যা-১৪৮) হরিচরণ রায় রোড (হিসাব সংখ্যা-১৫৭), দক্ষিণ মুগদা (হিসাব সংখ্যা- ১৩৮), সাইট সমুহ তাকে পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এখানেও তিনি ব্যক্তিগত সহকারীকে দিয়ে কাজ করান। তার বিরুদ্ধে আন্ডারবিলিং, অবৈধ সংযোগসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের দ্বারা প্লট, ফ্লাট সহ প্রচুর সম্পদের মালিক। ৩৫ হাজার টাকা বেতনের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর রাজকীয় জীবন যাপন দেখে ওয়াসার কমকর্তারাও অবাক। সরকারি অফিসকে রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার ও আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তদন্ত করার জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ওয়াসার সাধারণ কর্মচারীগণ।