ওয়াসায় দুর্নীতির বরপুত্র রাজস্ব পরিদর্শক আজিজুল ইসলামকে অবশেষে শোকজ!

অপরাধ রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে বেপরোয়া রাজস্ব পরিদর্শক আজিজুল ইসলাম এর অবশেষেলাগাম টেনে ধরার চেষ্টা চলছে। কিন্ত অদৃশ্য কোন এক ক্ষমতার বলে তিনি কোন কিছুই আমলে নিচ্ছেন না। সরকারি চাকরি করা সত্ত্বেও একাধিক বিবাহ সংক্রান্ত মামলায় জেল খাটা, ওয়াসা ভবনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্যে ফৌজদারী মামলার আসামী হওয়া সত্ত্বেও তিনি চাকরিতে এখনো বহাল। ওয়াসার পিপিআই প্রকল্পে লুটপাটের অন্যতম হোতা আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। কিন্ত অদৃশ্য কোন এক ক্ষমতাবলে তিনি এখনো ধরাছোয়াঁর বাইরে।
২৩/২/২০২১ তারিখে রাজস্ব জোন -১ এর ডিসিআরও আইন ভঙ্গ করে সহকারি দিয়ে সাইট পরিচালনার কারনে তাকে কারন দর্শনো নোটিশ দিয়েছে। ধনকুবের ভিআইপি রাজস্ব পরিদর্শক অজিজুল তার নিজের নিয়োগকৃত সহকারি অভিজিৎ গাঙ্গুলী কে দিয়ে বিলিং কার্যক্রম পরিচালনা করিয়েছেন- ১০ কে.জি.গুপ্ত লেন হোল্ডিং এর একজন গ্রাহকের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে কারন দর্শনোর নোটিশ দিয়েছেন। শোকজের তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। উল্লেখ্য, বহিরাগত দিয়ে কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনী ।৫ জুলাই ২০১৮ ইং তারিখে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এক আদেশের মাধ্যমে বহিরাগত নিয়োগ নিষিদ্ধ করে। যার স্মারক নং রা/৮২০২ প্র:রা:ক:-৫/৭/২০১৮ইং।

তিনি ঢাকা ওয়াসার তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি।চলাফেরা করেন দামি প্রাইভেট কারে।সর্বসাকুল্যে বেতন ৩৫ হাজার টাকা।অথচ তার সহকারির বেতন ৩০ হাজার টাকা। ড্রাইভারের বেতন ২০ হাজার টাকা। নিয়মিত অফিস করেন না। মাঝেমধ্যে এসে একসাথে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এই কারনে তার জবাব দিহীতা করতে হয়না। ঢাকা শহরে অভিজাত এলাকায় নিজস্ব ফ্লাটে বসবাস করেন। রয়েছে একাধিক ফøাট,প্লট । গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ এলাকায় গড়েছেন প্রচুর বিত্ত বৈভব। রয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্স। ঢাকা ওয়াসায় ধনকুবের খ্যাত এই রাজস্ব পরিদর্শক আজিজুল ইসলাম কে ঢাকা ওয়াসার ত্রাস অভিহিত করা হয়।ক্ষমতা ও টাকার দাপট এতটাই যে, সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশের পূর্বে রীতি অনুযায়ি বক্তব্য নিতে গেলে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
আজিজুলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব পরিদর্শক আজিজুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ১নং জোনে কর্মরত । তারপূর্বে দীর্ঘদিন ২ নং রাজস্ব জোনে কর্মরত ছিল। পিপিআই প্রকল্পের পরিচালক হওয়ার সুবাদে পুরো জোন তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার ক্ষমতার দাপটে নিরীহ ইন্সপেকটররা ছিল অসহায়। ব্যক্তিগত সহকারী দিয়ে সাইট পরিচালনা করেন। সাইট পরিদর্শনে তিনি কখনও যাননা|

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, তার চাকুরীর বেতনের সাথে বর্তমান যে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে তাহা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

ওয়াসা ও আজিজুল ইসলাম এর এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি। ।চতুর আজিজুল ইসলাম আইনগত ঝামেলা এড়ানোর জন্যে নিজের স্ত্রী , ছেলে মেয়ে ও আতী¡য় স্বজনের নামে সম্পদ গড়েছেন। তার পরিবার ও আত্বীয় স্বজনের সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স তদন্ত করলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টগণ মনে করেন। তার সর্বসাকুল্যে বেতন ৩৫ হাজার টাকা।অথচ তার ব্যক্তিগত সহকারির বেতন ৩০ হাজার টাকা ও ড্রাইভারের বেতন ২০ হাজার টাকা। তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারির সম্পদ ও বিলাসী জীবন যাপন দেখে খোদ ওয়াসার কর্মকর্তরাও অবাক। আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তদন্তের জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার সাধারণ কর্মচারীগণ। ইতোমধ্যে ওয়াসার একাধিক কর্মচারি আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ ও দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেছেন। দুদক কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ওয়াসার কর্মচারিগণ হতাশ।