রেলে হরিলুট সিন্ডিকেট!

অপরাধ অর্থনীতি এইমাত্র জাতীয়

রেলের আইবাস প্লাস থেকে টাকা ট্রান্সপার করার পরই সেগুলো উত্তোলন করা হয়েছে। টাকাগুলো তৃতীয় স্ত্রী ও অনলাইন জুয়া খেলায় ওড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন ফয়সাল…

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রেলে নিয়োজিত একশ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তারা যে যেভাবে পারছে হরিলুট করে নিয়ে যাচ্ছে রেলের টাকা। সবশেষ দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পূর্বাঞ্চল রেলের হিসাব বিভাগে কর্মরত জুনিয়র অডিটর ফয়সাল মাহবুবকে আটক করেছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। অভিযুক্তরা ধরা খাওয়ার পরও বিভিন্ন ফাঁকফোকড় দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা চাঞ্চল্য।
জানা গেছে, ২০২০ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত কর্মচারীদের বেতন জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন ফয়সাল। বিষয়টি নজরে আসলে ডেপুটি ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার মো. শাহজাহান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থ ও হিসাব কর্মকর্তা কামরুন্নাহার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ফয়সালকে আটক করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ফয়সাল ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।
এরআগে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশনের মালপত্র কেনাকাটায় সিওএস বেলাল সিন্ডিকেট চালিয়েছে হরিলুট। চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিবহন অডিট অধিদপ্তর রেলওয়ের বিভিন্ন মাল কেনাকাটাসহ অন্যান্য বিষয়ে নিরীক্ষা করে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকশীর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ডিসিওর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন স্টেশনে লেভেলক্রসিং গেটে ব্যবহারের জন্য তালা, বালতি, ঝা-া ও বাঁশি কেনা হয়েছে। এইসব মালামাল উচ্চমূল্যে ক্রয় করে জনগণের রাজস্বের ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫০ টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছে রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা। এমনকি এই দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছে, এই ক্রয় সংক্রান্ত বাজার যাচাই কমিটি, এস্টিমেট/প্রাক্কলন প্রণয়নকারী, এস্টিমেট অনুমোদনকারী, টেন্ডার মূল্যায়ণ কমিটি ও টেন্ডার মূল্যায়ণের সুপারিশ অনুমোদনকারী এবং তাঁদের আস্থাভাজন ঠিকাদার।
রেলের মালামাল ক্রয়ে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার পরও অদৃশ্য ক্ষমতার বলয় ব্যবহার করে স্বপদে বহাল তবিয়তে ছিলেন পূর্বাঞ্চল রেলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিওএস) বেলাল হোসেন সরকার, এসিওএস কন্ট্রোলার অব স্টোরস অফিস (পশ্চিম) মো. জাহিদ কাওছার ও বেলালের দুর্নীতির সাম্রাজ্যের অঘোষিত ক্যাশিয়ার উচ্চমান সহকারী নুরুল আমিন তালুকদার। পরে গত ২৯ ডিসেম্বর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে।
শেষের বিষয়টি অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৃথক চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ এক মাসে ৪২ লাখ টাকা সরিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব বিভাগের জুনিয়র হিসাব কর্মকর্তা ফয়সাল মাহবুব। বিগত ছয় মাস ধরে এসব হিসাবে ১৫টি ভুয়া আইডি খুলে বেতন-ভাতার ফান্ড থেকে ৭২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা সরানো হয়েছে। এসব টাকা ব্যাংকে ঢোকার পরই উত্তোলন করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাবগুলোতে বর্তমানে কোনো টাকা নেই। এ ঘটনায় গঠিত ২ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে।
তদন্তে ৭২ লাখ টাকার প্রমাণ পেলেও সরকারি ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফয়সালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে প্রকৃত অর্থের হিসাব নিয়ে ধোয়াশা তৈরি হয়েছে। বিভাগের সম্মান রক্ষায় টাকার অঙ্ক কম দেখানো হয়েছে এমন গুঞ্জন এখন রেল অঙ্গনে। কারণ গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রায় দেড় কোটি টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেছিল। ফলে দুদক তাদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সর্বসাকুল্যে ৭২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ফয়সাল একাই সরিয়েছে। তদন্তে কোনো সহযোগীর নাম ওঠে আসেনি। যে চারটি হিসাবে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে কোনো টাকা নেই। তবে ব্যাংকের কাছে তথ্য চাইলে তারা দিতে অপারগতা জানিয়েছে রেলের তদন্ত কমিটিকে। তবে কমিটি জানতে পেরেছে চারটি হিসাবে বর্তমানে কোনো টাকা নেই। রেলের আইবাস প্লাস থেকে টাকা ট্রান্সপার করার পরই সেগুলো উত্তোলন করা হয়েছে। টাকাগুলো তৃতীয় স্ত্রী ও অনলাইন জুয়া খেলায় ওড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন ফয়সাল।
টাকা উদ্ধারের বিষয়ে রেল কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো বিষয়টি এখন পুলিশ দেখবে। মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছে ফয়সাল। আদালতের মাধ্যমে ব্যাংকের তথ্য সংগ্রহ করে কীভাবে টাকা খরচ হয়েছে এবং কার কাছে এসব টাকা গেছে সবকিছুই পুলিশ উদ্ধার করবে।
দুদকের ওই মামলার এজহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ফয়সাল। এসব টাকা মূলত পূর্বাঞ্চলের অধীনে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন ও বিভিন্ন বোনাস-ভাতার টাকা। আইবাস সিস্টেমে ভুয়া বিল দাখিল ও পাস দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ফয়সাল। গত ১২ মে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, রেলের তদন্ত প্রতিবেদন তাদের নিজস্ব। আইবাস প্লাস সিস্টেম ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে কিভাবে টাকা সরানো হয়েছে তা নিয়ে উচ্চতর তদন্ত হচ্ছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা (এফঅ্যান্ডসিও) কামরুন্নাহার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ৭২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা সরানোর প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ধরা না পড়লে হয়তো মোটা অঙ্কের টাকা চলে যেতে। গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে বড় দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। তিনি বলেন, ফয়সাল একাই সব টাকা তার চারটি হিসাবে সরিয়ে নিয়েছে। তার সঙ্গে আর কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তার ব্যাংক হিসাবে টাকা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংক আমাদের সেই তথ্য দেয়নি।
আদালতের মাধ্যমে চাইলে তথ্য দিতে পারবে বলে জানায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে যতটুকু জেনেছি বর্তমানে খুব বেশি টাকা নেই। কারণ হিসাবে টাকা ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে উত্তোলন করে ফেলত। টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব এখন পুলিশ দেখবে।
জানা গেছে, বিগত ছয় মাস ধরে ধাপে ধাপে টাকা সরানো হচ্ছিল। গত ৮ মে রেলের এক কর্মকর্তার হিসাবে ঈদ বোনাস দুবার জমা হলে তিনি বিষয়টি বিভাগীয় হিসাব কর্মকর্তার নজরে আনেন। এরপর দিনভর তদন্ত করে ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে ওইদিন রাতেই ফয়সালকে আটক করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন নগরীর খুলশী থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়। গঠন করা হয় ২ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও কিছু তথ্য। সূত্র বলছে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয় বেগমপাড়া। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট এলাকার নাম নয় বা নির্দিষ্ট কোনো এলাকাতেও অবস্থিত নয়। এর বেশিরভাগই টরেন্টো, মন্ট্রিয়ল, অটোয়া শহরে অবস্থিত। মূলত দেশের ধনী ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের স্ত্রী-সন্তানরা, যারা বিনিয়োগ ভিসায় কানাডায় অভিবাসী হয়েছেন, তাদের এলাকা। স্বামীরা দেশে থেকে অর্থের জোগান দেন, আর স্ত্রীরা সন্তানদের নিয়ে সেই টাকায় কানাডায় থাকেন, সন্তানদের লেখাপড়া করান। এসব এলাকায় যারা বাড়ি করছেন, তারা প্রত্যেকেই অবৈধভাবে অর্থপাচার করেছেন বলে জানা গেছে। এসব এলাকায় স্বামীরা স্থায়ীভাবে থাকেন না, বেড়াতে যান, এজন্য এসব এলাকাকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ডাকেন বেগমপাড়া বলে। হঠাৎ করে বেগমপাড়া আলোচনায় আসার আরেকটি কারণ হলো কানাডার সরকারি সংস্থা দ্য ফিন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশন অ্যান্ড রিপোর্ট অ্যানালাইসিস সেন্টার ফর কানাডা (ফিনট্র্যাক) গত এক বছরে তাদের দেশে এক হাজার ৫৮২টি অর্থ পাচারের ঘটনা চিহ্নিত করেছে।
এদিকে, বেগমপাড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার আগেই গত ২২ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের কাছে দুদক কমিশনের মহাপরিচালক (অর্থপাচার) আ ন ম আল ফিরোজ এক চিঠিতে বিভিন্ন দেশে পাচারকৃত অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশিদের তালিকা চান।
এমন ঘটনা জানাজানি হলে গত নভেম্বর থেকে কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করে রেলে দুর্নীতির অভিযোগে বহিস্কার হওয়া বেলাল হোসেন সরকার।
জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলের জন্য বিভিন্ন মালামাল কেনায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। নিরিক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখিত আছে মালামালের বাজার যাচাই, এস্টিমেট/প্রাক্কলন প্রণয়নকারী, টেন্ডার আহব্বান ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করাসহ সকল কার্যক্রম সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক সিওএস বেলাল হোসেন সরকার এর দপ্তরে হয়। এছাড়া ক্রয় প্রক্রিয়ায় কর্তব্যে অবহেলা, অদক্ষতা এবং আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতিতে সরাসরি সহায়তাকারী হিসেবে আরও ১৩ কর্মকর্তার নাম এসেছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় এই চক্রটি রেলওয়ে ঘুনটি ঘরে ব্যবহারের জন্য একটি তালা পাঁচ হাজার ৫৯০ টাকায়, প্রতিটি বালতি এক হাজার ৮৯০ টাকায়, প্রতি হুইসেল বাঁশি ৪১৫ টাকায় এবং হাত ঝা-া এক হাজার ৪৪০ টাকায় কিনেছেন। অথচ অডিট টিম বাজার যাচাই করে দেখতে পায়, একটি তালার বাজার মূল্য ১৫০ টাকা, বালতির বাজার মূল্য ৩০০ টাকা, একটি হুইসেল বাশিঁর বাজার মূল্য ৫০ টাকা এবং একটি হাত ঝান্ডার বাজার মূল্য ১৬০ টাকা। প্রতিটি পণ্যের উপর ৩০% ভ্যাট, আইটি, সরবরাহকারী মুনাফা এবং আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রাক্কলিত মূল্য দাঁড়ায় তালা ১৬৫ টাকা, বালতি ৩৯০ টাকা, প্রতিটি বাঁশি ৬৫ টাকা, প্রতিটি হাত ঝান্ডা ২০৭ টাকা। উল্লেখিত মালামালের মধ্যে শুধু তালা বাজার মূল্যের ৩৩ গুণ উচ্চমূল্যে ক্রয় করে সরকার তথা জনগণের রাজস্বের ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৯০০ টাকা মেরে দিয়েছে চক্রটি। এভাবে বিভিন্ন কেনাকাটায় চাকরীজীবনে প্রকৌশলী বেলাল হোসেন সরকার প্রায় ২০০ কোটি টাকা অবৈধ ভাবে আয় করেছে বলে রেলওয়ের বিভিন্ন সূত্র বলছে।
এছাড়াও রেলে করোনাকালীন জরুরী সরঞ্জামাদি কেনায়ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগেও ২৯ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলে তদন্ত রিপোর্টে। যদিও অভিযুক্ত অনেকে এখনো স্বপদে বহাল রয়েছে। এভাবে রেলে হরিলুট আর অনিয়মের বিষয়টি নতুন কিছু নয়।
লন্ডনের বার্কলেস ব্যাংকের মুরগেট শাখায় ছেলে সাদমান জামানের একাউন্টে হুন্ডির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ পাচার। দেশীয় এজেন্ট বিশ্বাস বিল্ডারর্স থেকে কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ। জাল জালিয়াতির মাধ্যমে রেলে জনবল নিয়োগ। অবৈধ অর্থ দিয়ে রাজধানীর শান্তিবাগে দুই কোটি টাকা মূল্যের আড়াই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে সাড়ে সাত কাঠার প্লট, মিরপুরে সাড়ে তিন কাঠা জায়গা ও যশোরের ঝিকরগাছায় ৬০ বিঘা জমিসহ দুই তলা বাড়ির মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ের সদ্য সাবেক মহা পরিচালক ডিজি শামসুজ্জামান। সাবেক স্ত্রীকেও কিনে দিয়েছে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রেলের অনিয়ম দুর্নীতি এমন ডজন খানেক দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ ঘাড়ে নিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে বিদায় হলেন মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান।
সূত্র বলছে, ১৯৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলায় জন্ম নেওয়া মো. শামছুজ্জামান ১৯৮৩ সালে বুয়েট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৮৫ সালে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে বিভাগীয় কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন বাংলাদেশ রেলওয়েতে। ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের সদর দপ্তরে ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
সাহিত্য লিখায় শামসুজ্জামানের ছিল ভালবাসা, লিখেছেন একাত্তরের মক্তিযুদ্ধসহ একাধিক গ্রন্থ। তবে রেলের এই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসর জীবনটা কাটাতে হবে টেনশন আর ভীতির মধ্যে। রেল জীবনের প্রতিটি পদের হিসাববিহীন অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে বৃদ্ধদের কাতারে যাওয়া এই কর্তার অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রেলের এই ডিজির বিরুদ্ধে যাত্রীবাহী কোচ কেনাকাটায় অনিয়ম, অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, বিদেশে টাকা পাচার, অবৈধ টাকার পাহাড় তৈরি, জ্ঞাত আয় বহিভূর্ত সম্পদে বিলাসী জীবনসহ এক ডজনের অধিক অভিযোগ নিয়ে রেলের সচিবের কাছে তথ্য ও কাগজপত্র চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
এদিকে রেলওয়ের অনেক কর্মকর্তা মহাপরিচালক শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছে। অভিযোগে বলা হয় রেলে যাত্রী সেবা বাড়াতে ২০১৭ সালে ২০০ মিটারগেজ কোচ কেনায় অযোগ্য কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন করা হয়। যার ফলে কোচগুলো সরবরাহের কাজ পায় ইন্দোনেশিয়ার পিটি ইনকা। শর্ত পরিবর্তন ও অনিয়মের কারণে কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন করেছেন এই মহাপরিচালক এমন তথ্য স্পষ্ট করে দুদকে জানিয়ে দিয়েছে কয়েকজন কর্মকর্তা।
দুর্নীতির অবৈধ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে লন্ডনে পাচার, জাল জালিয়াতি পূর্বক জনবল নিয়োগ, লোকাল এজেন্ট বিশ্বাস বিল্ডার্স লিমিটেডের নামে কোটি কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়েও অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।