ওয়াসার পিপিআই প্রকল্পের মাস্টাররোলের কর্মচারী বেলাল কোটিপতি!

অপরাধ রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক : সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা ওয়াসার পিপিআই প্রকল্পের সুবাদে ব্যবস্থাপনা কমিটি,প্রকল্প ব্যবস্থাপক,স্থায়ী কর্মচারিদের সাথে মাস্টাররোলের কর্মচারীরাও কোটিপতি বনে গেছেন। দুর্নীতির মহোৎসোবে কেউ অংশ নিতে ভ’ল করেনি। পিপিআই বিলুপ্ত হলেও আউট সোর্সিং এর কর্মচারিরা এখনো ওয়াসায় কর্মরত রয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ কর্মচারিই নানা অনিয়ম দুর্নীতে সম্পৃক্ত। ইতিমধ্যে দুর্নীতির কারনে কয়েক জন কে অপসারনের জন্যে স্ব স্ব জোনের রাজস্ব কর্মকর্তাগণ ঠিকাদার ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি লি: কে চিঠি দিয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতির কারনে অনেক কর্মচারিকে সতর্ক করা হয়েছে।
যেসব মাস্টাররোলের কর্মচারী অনিয়ম দুর্নীতি করে কোটিপতি হয়েছেন তাদের মধ্যে বেলাল হোসেন একজন। প্রকল্পের প্রায় শুরুতে রাজস্ব জোন -৩ এ অফিস সহকারি হিসেবে যোগদান করে বেলাল হোসেন। রাজস্ব জোন -৩ এ প্রকল্পের প্রধান কার্যালয় হওয়ায় নানা তদবির করে এখনো এই জোনে আছে। কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে নানা ভাবে টাকা কামিয়েছেন। বিশেষকরে ৩ নং জোনে অবস্থিত গোডাউনে রক্ষিত মিটার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নানা অনিয়ম দুর্নীতি করে বেলাল আজ শুণ্য থেকে কোটিপতি। নরসিংদি জেলার শিবপুর উপজেলার বাহেরখোলা গ্রামের বাড়িতে বাপ দাদার ভাঙ্গা টিনের ঘরের স্থলে এখন বহুতল ফাউন্ডেশনের বিল্ডিং করেছেন বেলাল হোসেন। নরসিংদি পৌরসভার শাহে প্রতাপ এলাকায় ৬০ লাখ টাকায় একটি রেডিমেড বাড়ি কিনেছেন। নরসিংদি জেলার মাধবদী উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা বাবুর হাটে মার্কেট করেছেন। হঠাৎ এত সম্পদ দেখে তার এলাকাবাসী অবাক। সবাই বলাবলি করছেন ওয়াসায় চাকরি করলে আলাদিনের চেরাগ পাওয়া যায় কিনা। না হলে ১৬ হাজার টাকা বেতনের একজন অস্থায়ী কর্মচারি এত সম্পদের মালিক হলো কিভাবে-এটাই এলাকাবাসির প্রশ্ন। ইতিমধ্যে বেলালের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশন ও ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে।
বেলাল হোসেনের নানা অনিয়ম দুর্নীতর কারনে পূর্বে রাজস্ব কর্মকর্তাগণ অনেক বার তাকে সতর্ক করেছেন। তাকে প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্যেও বলেছিলেন। কিন্ত নানা চেষ্টা তদবির করে এখনো বহাল তবিয়তে আছে এখনো। রাজস্ব জোন ৩ এর বর্তমান ডিসিআরও জাকির হোসেন প্রধানিয়া তার প্রতি সদয় হওয়ায় যথারীতি অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্ষুব্ধ ওয়াসার সাধারণ কর্মচারিগণ। বেলাল কে প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্যে ঠিকাদার ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি লি: এর প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে টেলিফোনে বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ,দুর্নীতি ও সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে এই প্রতিবেদককে কোন ব্যাখ্যা না দিয়ে ; সংবাদ প্রকাশ করলে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। প্রতিবেদককে হুমকি দেয়ার দেয়ার প্রেক্ষাপটে বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।