সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যানের ইন্তেকাল

জাতীয়

বেলাল হোসেন চৌধুরী : সরকারের সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইসলামিক স্কলার শাহ্ আব্দুল হান্নান ইন্তেকাল করেছেন! তিনি ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার সকালে পরপর দু’বার হার্ট অ্যাটাকের পর সকাল ১০.০০টার দিকে ইন্তেকাল করেন!

শাহ আবদুল হান্নান স্যারের ভাই শাহ আবদুল হালিম বলেন, গত ৮ মে থেকে তিনি হাপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় দফায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

আজ জোহর নামাযের পর ধানমণ্ডি ঈদগাহ্ মাঠে এবং বাদ আছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

শাহ আবদুল হান্নান ছিলেন একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, অর্থনীতিববিদ ও সমাজ সেবক। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। এছাড়াও তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

শাহ আবদুল হান্নান ১৯৩৯ সালের ১ জানুয়ারি বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার বিখ্যাত শাহ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক এবং ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

বর্ণিল কর্মজীবন তিনি শিক্ষকতার পেশা দিয়ে শুরু করেন। তিনি ১৯৬২ সালে ঢাকা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালে তিনি পাকিস্তান ফিন্যান্স সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৯৮ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকারের সচিব পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন।

এর মাঝে তিনি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, যেখানে তিনি ভ্যাট চালুর অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ, সমাজ কল্যাণ ও সর্বশেষ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের সচিব ছিলেন। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন । শাহ হান্নানের এক ছেলে, এক মেয়ে, তিন ভাই অনেক আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহি রয়েছেন।

বহু ইসলামিক গ্রন্থের লেখক জনার শাহ আব্দুল হান্নান অত্যন্ত সৎ, ধার্মিক, দক্ষ ও জনপ্রিয় কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ছিলেন কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ ক্যাডারের অভিভাবক। তাঁর মৃত্যুতে কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট ডিপার্টমেন্টের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী গভীরভাবে শোকাভিভূত। মহান আল্লাহ্ তাঁকে ক্ষমা করুন; জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।