সড়কপথের উন্নয়নে ৪৫২টি নতুন প্রকল্প

অর্থনীতি জাতীয়

রেলওয়েতে ৪৭ হাজার জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে সড়কপথের উন্নয়নে ৪৫২টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক ও টেকসই মহাসড়ক সংযোগ গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, ঢাকা মহানগরীতে যানজট নিরসণে দ্রুতগতির গণপরিবহন ব্যবস্থা (এমআরটি ও বিআরটি) প্রবর্তনসহ মোটরযান ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে পরিকল্পনা গ্রহণসহ বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান।
তিনি বলেন, গত ১২ বছরে সরকার সড়কপথের উন্নয়নে ৩৩১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে ৪৫৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চার এবং তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং চার লেন বিশিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ইত্যাদি চার লেনে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে।
অপরদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান বাড়াতে ৪৭ হাজার ৭০৩টি পদে নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনায় তিনি এসব কথা জানান। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৭৯৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যমান রেললাইনের সমান্তরালে ৮৯৭ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ, ৮৪৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার রেললাইন সংস্কার, ৯টি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু নির্মাণ, লেভেল ক্রসিং গেটসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আইসিটি নির্মাণ, ওয়ার্কশপ নির্মাণ, এবং আধুনিকায়ন, ১৬০টি নতুন লোকোমোটিভ, এক হাজার ৭০৪টি যাত্রীবাহী কোচ, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, ২২২টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থার মানোন্নয়নসহ রেলওয়ে ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকা-চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য গত ২৭ মার্চ ‘মিতালি এক্সপ্রেস’ নামে একটি ট্রেন উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রুটে ছয়টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে এবং ১৫০টি যাত্রীবাহী কোচ ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখন রেলওয়ের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের রেলখাতের চলমান বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম পদ্মা সেতু রেললিংক প্রকল্প। এ প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম-দোহাজারি-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্পের প্রায় ৫৭ শতাংশ এবং মংলা-খুলনা রেললাইন প্রকল্পের কাজ প্রায় ৭৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া যমুনা রেলসেতু এবং রুপসা রেলসেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।