জীবন-জীবিকার বাজেট

অর্থনীতি এইমাত্র জাতীয়

টাকা ব্যয় হবে যেভাবে
নির্মাণ সামগ্রীর দাম কমবে
দেশে উৎপাদিত সব পণ্যের দাম কমবে
করোনা মোকাবিলায় এবারও থোক বরাদ্দ ১০হাজার কোটি
করের আওতায় আসছে বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়
বৈদেশিক খাত থেকে নেওয়া হবে ৯৭হাজার ৭৩৮কোটি টাকার ঋণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ-শীর্ষক বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। সরকারের এই বাজেট প্রস্তাবনায় রয়েছে বিশ্বময় করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নবিভোর পরিকল্পনা। বাজেট প্রস্তাবনায় রয়েছে করোনার কারণে কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার পরিকল্পনা। তাই এবার বাড়ছে সামাজিক নিরাপত্তার বলয়। বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ও বাৎসরিক ভাতার পরিমাণ। সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে খাদ্য নিরাপত্তার। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে অর্থমন্ত্রীর ১৫৮ পাতার বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, করোনার কারণে বিনিয়োগ বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে। মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। জমানো পুঁজি ভেঙে খেয়েছে সাধারণ মানুষ। মোট কথা বিশ্বময় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তার পরেও সকল সংকট মোকাবিলা করে দেশের জিডিপি বেড়েছে। বেড়েছে মানুষের মাথাপিছু গড় আয়। এগুলো নিসন্দেহে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। এই সমৃদ্ধিকে পুঁজি করে মাথা উচু করে বিশ্ব দরবারে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।
সরকার আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান বাড়ানো, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছে। এ জন্য বাজেটে দিক নির্দেশনা রয়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চলতি অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় আগামী বাজেটেও করপোরেট করে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করছেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রীর ভাষায় এবারের বাজেট হচ্ছে “মানুষের জন্য”। জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেট অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বাজেট সংসদে উপস্থাপনের অনুমতি দিয়ে তাতে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। এর পরই অর্থমন্ত্রীকে সংঙ্গে নিয়ে সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সংসদ সদস্যরা করতালি ও টেবিল চাপরিয়ে তাদেরকে স্বাগত জানান।
প্রসঙ্গত, এবারের বাজেটের আকার দাড়িয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আহম মুস্তফা কামালের এটি তৃতীয় বাজেট, বাংলাদেশের জন্য এটি হবে ৫০তম বাজেট। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৮তম বাজেট হলেও ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান সরকারের টানা ১৩তম বাজেট। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনা সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে শাহ এসএম কিবরিয়া পাঁচটি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।

 

করের আওতায় আসছে বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় : জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ২০১০ সাল থেকে কর আরোপ করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তা এতোদিন আদায় হয়নি। ওই মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন করে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাবে বলেছেন, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রযোজ্য সাধারণ করহার হ্রাস করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজ থেকে উদ্ভূত আয়ের ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। মহান এ সংসদে আমি এ করহার অর্থ আইনের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

 

টাকা ব্যয় হবে যেভাবে : জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট (প্রস্তাবিত) উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট এটি। রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আগামী বছরের বাজেট পেশ করছেন। এটি অর্থমন্ত্রীর জন্য তৃতীয় বাজেট।
নতুন বাজেটে মোট ব্যয়ের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অর্থমন্ত্রীর পেশ করা এই বাজেটে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা, ঋণ ও অগ্রিম ৪ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা এবং খাদ্য সহায়তা খাতে ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
তবে পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে আবর্তক ব্যয় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হচ্ছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। বাজেটে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এটি জিডিপির ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এই মোট আয়ের মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা।
এরমধ্যে কর খাত থেকে আসবে ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতীত প্রাপ্তি হচ্ছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তবে করের টাকা দুটি খাত থেকে আদায় করা হবে। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত কর ১৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া আগামী বছর বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।

বৈদেশিক খাত থেকে নেওয়া হবে ৯৭হাজার ৭৩৮কোটি টাকার ঋণ : জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট (প্রস্তাবিত) উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট এটি। রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আগামী বছরের বাজেট পেশ করছেন। এটি অর্থমন্ত্রীর জন্য তৃতীয় বাজেট।
ঘাটতি পূরণে নতুন বাজেটে বৈদেশিক খাত থেকে ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এই বাজেটে মোট ব্যয়ের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রীর পেশ করা এই বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ (অনুদানসহ) ২ লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা এবং অনুদান ছাড়া ঘাটতি হচ্ছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। অনুদানসহ ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী বাজেটে ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। আর সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা।
দেখা যাচ্ছে, ঘাটতির অর্থ জোগাতে নতুন বাজেটে সরকার ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সঞ্চয়পত্র ও বিদেশি ঋণ বাড়াতে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরের জন্য বৈদেশিক খাত থেকে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা থাকলেও চলতি বাজেটে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা হিসেবে ৯২ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তথ্য বলছে, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় বাজেটে বিদেশি ঋণ বাড়ছে। সহজে বিদেশি ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়াটাও এর আরেকটি কারণ। অবশ্য এই মুহূর্তে প্রায় ৫০ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক অনুদান পাইপলাইনে রয়েছে। এ ছাড়াও বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদাররা মহামারির মধ্যে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দেশে উৎপাদিত সব পণ্যের দাম কমবে : জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট (প্রস্তাবিত) উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হতে যাচ্ছে ৫০তম এ বাজেট। আলোচিত এই বাজেটে অনুদানসহ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অনুদান বাদ দিলে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।
বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। একইভাবে তিনি আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে সার্বিকভাবে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে ও কমতে পারে।
মন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী দাম কমার তালিকায় যুক্ত হতে পারে কম্পিউটার, মোবাইল, সিমেন্ট ও স্টিল শিল্প। কেননা প্রস্তাবিত বাজেটে এসব খাতে আগাম কর প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, মোবাইল ফোন, সিমেন্ট ও রডের দামও কমবে।
দেশীয় ইলেকট্রনিক্স শিল্পের (এসি-ফ্রিজ) ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা অব্যাহত থাকছে। ফলে দেশে উৎপাদিত এসব পণ্য কম দামে মিলতে পারে।
আগাম কর থেকে অব্যাহতির তালিকায় আছে স্ক্র্যাপ ভেসেল, ইস্পাত শিল্পের ওয়েস্টেজ ও স্ক্র্যাপ, ফেরো অ্যালয়, স্পঞ্জ আয়রন, পিভিসি ও পেট রেজিন উৎপাদনে ব্যবহৃত ইথাইলিন গ্লাইকল, টেরেফথালিক অ্যাসিড, ইথাইলিন/প্রোপাইলিন আমদানি। এছাড়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য আমদানিকৃত কাজু বাদামেও আগাম কর প্রত্যাহার হচ্ছে।

 

করোনা মোকাবিলায় এবারও থোক বরাদ্দ ১০হাজার কোটি : মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যা যা করা দরকার সরকার করে যাবে। এ কারণে গত অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরেও জরুরি চাহিদা মেটাতে আবারও ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতাকালে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাব করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বাজেটে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় বিশেষ কার্য়ক্রম বাস্তবায়নের জন্য বিপুল বরাদ্দ রাখা হয়। এছাড়া যেকোনো জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়।
তিনি বলেন, ‘তবে প্রথম প্রাদুর্ভাবের পর বছর ঘুরে এলেও বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির ভয়াবহ প্রকোপ বিদ্যমান রয়েছে। বিগত বাজেটের মতো এবারও করোনা মোকাবিলায় যা যা করা দরকার সরকার করে যাবে। এ কারণে আগামী অর্থবছরে জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য পুনরায় ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

 

নির্মাণ সামগ্রীর দাম কমবে : ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ঘাটতির বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত বিশেষ কেবিনেটে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ এ বৈঠক শুরু হয়।
“জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ” এই শিরোনামে সম্ভাব্য যে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সেই বাজেটে ঘাটতি থাকতে পারে ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এবারের বাজেটেও সিমেন্ট ও স্টিল শিল্পে আগাম কর প্রত্যাহার করার কারণে নির্মাণ সামগ্রী সিমেন্ট, স্টিল, রডের দাম কমবে।
করোনা মহামারির কথা চিন্তা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের ওপর কর আরোপ করা হচ্ছে না। এর ফলে চাল, ডাল, চিনি, লবণ, দেশে উৎপাদিত টুথপেস্ট, পাউরুটি, সাবান, বোতলজাত পানি, ফলের জুস, মসলা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে না।
আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক কমার কারণে মাইক্রোবাস ও হাউব্রিড গাড়ির দাম কমতে পারে। একই কারণে দাম কমতে পারে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রপাতির সরঞ্জামের।
দেশে উৎপাদিত এবং বেশি ব্যবহার হয় এমন বেশির ভাগ পণ্যের দাম নাগালে রাখতে দেশি শিল্পে ব্যাপক হারে রাজস্ব ছাড় দেয়া হচ্ছে। এ কারণে আমদানি করা পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেলের চেয়ে দেশে সংযোজিত মোটরসাইকেলের দাম কমবে।
করোনা মোকাবেলায় সব ধরণের কোভিড সুরক্ষা পণ্যে ভ্যাট, ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিটের আমদানি, উৎপাদন ও ব্যবসা এবং পিপিই ও সব ধরণের মাস্ক উৎপাদন ও ব্যবসা পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ফলে কমছে এসব পণ্যের দাম।