যুব সমাজের অবক্ষয় ঠেকাতে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে

অপরাধ

আজকের দেশ রিপোর্ট : ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশের যুব সমাজের অবক্ষয় ঠেকাতে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয় হবে এ বিষয় ইতোমধ্যে কাজ ও শুরু করছে পুলিশ। সাইবার বিশেষজ্ঞ তৈরি করার জন্য নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ। দেশের বেশির ভাগ অপরাধ সাইবার অপরাধীদের দ্বারা প্রভাবিত ও সংঘটিত হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা বিশেষ ভূমিকা পালন করছে এবং তারা অনেক ক্ষেত্রে সফলতার প্রমানও দিয়েছে । নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিটিটিসি এবং ডিবির সাইবার ডিভিশন।

নিয়মিতভাবে চলছে সাইবার প্যাট্রলিং। ইন্টারনেটের ‘গেটওয়ে’তে ফিল্টারিং বসানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে ডিএমপির পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। কেবল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে না। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েদের স্মার্টফোন কিংবা ইলেকট্রনিক ডিভাইস দিলে তার ওপর মনিটরিং করতে হবে। বাচ্চারা কোন কোন সাইটে প্রবেশ করেছে তা দেখার দায়িত্বও কিন্তু অভিভাবকদের।

গতকাল ৮ জুন, নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাইবার দুনিয়াটাই একটু অন্যরকম। পৃথিবীর কোনো দেশই এখনো এটি রোধ করতে পারেনি। কিছুদিন পর মানুষ নিজেরাই হয়তো বুঝতে পারবে যে, এগুলো মিথ্যা।

তবে এখন পর্যন্ত অনেক অপরাধীকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছি। মামলা হয়েছে। তবে যারা বিদেশে অবস্থান করে ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে মিথ্যা অপপ্রচার, গুজব রটনা করছেন তাদের চিহ্নিত করার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সফল হয়েছি।

কিন্তু কষ্টের বিষয় হলো, ওই অপরাধীরা যেসব দেশে বসবাস করে, সেসব দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। তবে তারা বলছে, তাদের দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে ব্যবস্থা নিতে পারবে না। বলছে, এটা তাদের দেশের ‘ফ্রিডম অব স্পিচ’।

এটা আমাদের দেশের জন্য যে কতটা সম্মানহানিকর তা তো তারা বিবেচনা করছে না। তবে এসব বিষয় আমরা বিটিআরসির মাধ্যমে ফেসবুক, ইউটিউব কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে রাখছি। হয়তো তারা একটা বন্ধ করছে।

পরদিনই দেখা যায় অপরাধীরা আরও পাঁচটা আইডি কিংবা চ্যানেল খুলে প্রচার করছে। তবে যারা দেশে অবস্থান করে অপরাধ করছেন তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার কাজটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের ইন্টারনেট গেটওয়েকে ফিল্টারিং করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এ ধরনের প্রস্তাবনা আমরা ডিএমপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র এবং প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি। এই প্রযুক্তি সংযোজন করা গেলে যেসব সাইট থেকে গুজব কিংবা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে একটি মাত্র শব্দ দিয়ে সার্চ করলেই সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

তখন সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও সহজতর হবে। তবে অননুমোদিত বিভিন্ন সাইট, আইপি টিভির বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। গুজব, অপপ্রচারে লিপ্ত থাকলে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রমাণসাপেক্ষে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। এসব বিষয় যারা বুঝে কিংবা না বুঝে শেয়ার দিয়ে অপপ্রচারে অংশ নিচ্ছেন তারাও কিন্তু অপরাধে যুক্ত হচ্ছেন।

তাই যে কোনো বিষয় শেয়ার দেওয়ার আগে তা সত্য কি না যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

শফিকুল ইসলাম বলেন, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে আমাদের আইজিপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথেষ্ট আন্তরিক। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রযুক্তি আমরা কিনতে পারিনি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রযুক্তি নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তা এখনো সম্ভব হয়নি।

আমাদের দেশকে এই প্রযুক্তি দেওয়া হয়নি। একই ঘটনা ঘটেছিল ‘এপিসি’ (আর্মড পারসোনাল ক্যারিয়ার) কেনার সময়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে আমাদের কাছে ‘এপিসি’ বিক্রি করা হয়নি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ দিন দিন যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। এটা মোকাবিলার জন্য সিআইডির সাইবার সেন্টারে ৪০০ কর্মকর্তা দিয়ে বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে। তারা আরও সাইবার এক্সপার্ট অফিসার তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে।

সিআইডিতে উন্নতমানের ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ছোট আকারের হলেও সিটিটিসিতেও একটি ল্যাব রয়েছে। সেই ইউনিট থেকে সাইবার এক্সপার্ট অফিসার তৈরির কাজটি করে যাচ্ছে নিবিড়ভাবে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে বাংলাদেশ পুলিশও অত্যাধুনিক কিছু অ্যাপস কিনছে নিজেদের আরও গতিশীল করার জন্য।