ডিএসসিসির দোকান বাণিজ্যের ফাঁদে সর্বশান্ত হাজারো ব্যবসায়ী

এইমাত্র রাজধানী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তিনটি মার্কেটে প্রায় ১ হাজার অবৈধ দোকান বরাদ্দের নামে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে ব্যবসায়ীদের সর্বশান্ত করার অভিযোগ উঠেছে দেলোয়ার হোসেন দেলু নামের এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। তিনি ওই মার্কেট তিনটির ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিও। অবৈধ দোকান বাণিজ্য কজা করতে ২৬ বছর ধরে তিনি এ পদ দখলে রেখেছেন। এক্ষেত্রে শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সমিতির নির্বাচন আটকে রাখার অভিযোগও আছে। অবৈধ দোকান বানিয়ে বিক্রির নামে ব্যবসায়ীদের প্রতারিত করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪ টি মামলা করেছেন ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। প্রায় দেড় যুগ ধরে এই নৈরাজ্য চলছে নগর ভবনের কয়েকশ গজ দুরে অবস্থিত ফুলবাড়িয়ার নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটে। সরেজমিনে ব্যববসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেলে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই ঠিকাদার দেেেলায়ার হোসেন দেলু সম্প্রতি সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে চেকের মাধ্যমে ৩৫ কোটিসহ শতকোটি টাকা ঘুষ দেয়ার বিষয় ফাঁস এবং এ ঘটনায় খোকনকে আসামি করে মামলা করে ব্যাপক আলোচিত হন। এরপরই তার সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। অনুসন্ধানকারী জানতে পেরেছেন ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। অবৈধ পথে অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়ায় বিনিয়ােগ করেছেন সেকেন্ড হোমপ্রকল্পে। তার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেতে দেশের ৬২ টি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশী চলছে। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।
ঠিকাদারির আড়ালে অবৈধ দোকান বাণিজ্য চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তারাসেল সাবরিন বলেন, এই তিনটি মার্কেটে তৈরি অবৈধ দোকান এরই মধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যিনি দোকানগুলো বানিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতারিত করেছেন তার বিরুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা মেয়র মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর দীর্ঘ দিন দখলে রেখে ভাড়া বাণিজ্যের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার নয়। এটি প্রকৌশল বিভাগ দেখে থাকে। তবে ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তারা। কিন্তু কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফের আমল থেকেই দেলোয়ার হোসেন দেলু কর্পোরেশনের ঠিকাদারি শুরু করেন। তার মালিকানাধীন হৃদী কনস্টাকশন একের পর এক মার্কেট নির্মাণের কাজ পায়। বিএনপি-আওয়ামী লীগ সব আমলেই তিনি নগর ভবনে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ঠিকাদারির আড়ালেই তিনি শুরু করেন ‘দোকান বাণিজ্য’। অবৈধ এই বাণিজ্য কজায় রাখতে দখল করেন নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদ। ২৬ বছর ধরে এই পদ আকড়ে ধরে আছেন। এই পদের প্রভাবেই পাতেন দোকান বাণিজ্যের ফাঁদ। সেই ফাঁদে পা দিয়ে এখন হাজারো ব্যবসায়ী সর্বশান্ত।
ভূক্তিভোগী ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি দেলোয়ার হোসেন জাকির সুপার মার্কেটের সভাপতি হিসাবে মার্কেট ভবনের সি ব্লকের উত্তর পাশে দ্বিতীয় তলায় ১২ নম্বর দোকান সংলগ্ন এক্সটা ১২/১ নম্বর দোকান বরাদ্দ দেন। ২০১৮ সালের ৬ জানুয়ারি এই দোকান বাবদ তিনি নেন ৩০ লাখ টাকা। এককালীন ১ হাজার টাকার নােটের ৩০ টি বান্ডিল সাক্ষিদের উপস্থিতিতে তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। সমিতির প্যাডে সই করে দোকানের বরাদ্দ দেন তিনি। কিন্তু চুক্তির শর্ত মোতাবেক সিটি কর্পোরেশন থেকে দোকানের অনুমোদন করিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে কামাল হোসেন ৩০ লাখ টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত না দিয়ে এখন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। কামাল হোসেন বলেন, দেলোয়ার হোসেনকে অনেক অনুরোধের পর যখন আমি দোকানের বৈধতা হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদনপত্র পাইনি, তখনই বুঝেছি আমি প্রতারণার ফাঁদে পড়েছি। এখন আমার দোকানও নেই। টাকাও নেই। দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করায় উল্টো হুমকির মধ্যে আছি।
আরেক ভূক্তভোগী আব্বাস আলীর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি দেলোয়ার হোসেন একজন প্রতারক, বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতকারী ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদানকারী। তিনি জাকির সুপার মার্কেটের সভাপতি হিসাবে মার্কেট ভবনের সি ব্লকের বেইজমেন্টের পূর্বপাশে ১৬ নম্বর দোকান সংলগ্ন এক্সটা ১৬/১ নম্বর দোকান (৮৫০ বর্গফুট) লিখিতভাবে বরাদ্দ দেন। এই দোকান বাবদ তিনি নেন ৪৮ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও তিনি সিটি কর্পোরেশন থেকে দোকানের অনুমোদন করিয়ে দিতে না পারলে টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু ২০২০ সালের ১ নভেম্বর আসামির কাছে টাকা চাইলে তিনি টাকা দিবেন না মর্মে জানিয়ে দেন। টাকা না দিলে মামলা করার কথা বললে তিনি বাদিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভূক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম ও হাবিবুর রহমানও তাদের মামলার এজাহারে একই ধরণের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গত ১ এপ্রিল মামলা ৪ টি দায়ের করা হয়। এদের মতাে হাজারো ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন। নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটে ৯১১ টি অবৈধ দোকান বানিয়ে ওই সব ব্যবসায়ীদের সমিতির প্যাডে সই করে বরাদ্দ দেয়ার নামে দেলোয়ার হোসেন হাতিয়ে নিয়েছেন অন্তত ২৫০ কোটি টাকা। ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস মেয়র হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর এসব দোকান অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করেন। এছাড়াও তিনি তিন মার্কেটের বেজমেন্টে ৫৩৯ টি দোকান তৈরি করে সেগুলোর নাম জারির কথা বলে প্রতি দোকান থেকে ৫ লাখ টাকা হারে মোট ২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।
তিনটি মার্কেটে অবৈধ ৯১১ টি দোকানের প্রতিটি সর্বনি¤œ ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকায় বরাদ দেন দেলোয়ার হোসেন। গড়ে ২৫ লাখ টাকা হিসেবে ৯১১ টি দোকান থেকে নেন মোট প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। আর ভাড়া খাতে প্রতিটি দোকান গড়ে ৯ হাজার টাকা করে ৮২৪ টি দোকান থেকে প্রতি মাসে আদায় হয় প্রায় কোটি টাকা। এ খাত থেকে বছরের পর বছর ধরে আদায় করা হয় অন্তত দুইশ কোটি টাকা। তবে অতিসম্প্রতি এসব দোকানের ভাড়াটের উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও বেজমেন্টে দোকানের নামজারি খাত থেকেও কোটি কোটি টাকা আদায় করেন দেলু। সব খাত মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অন্তত ৫০০ কোটি আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন দেলুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। অনুসন্ধান কাজে তথ্য উপাত্ত চেয়ে দুদক থেকে একটি চিঠিও (স্মারক নম্বর-০০.০১.০০০০.৫০১.০১.১১৮.১৯/৩২৪৩৬) দেয়া হয়েছে দেলোয়ার হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩ টি মার্কেট দখল করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। চিঠিতে তার কর্মকান্ড, সম্পদসহ ৭ টি ক্রমিকে নানা ধরণের তথ্য ও রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের দায়িত্বে আছেন দুদকের উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী। দুদক তার সম্পদের তথ্য পেতে দেশের ৬২ টি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশী চালাচ্ছে। এরই মধ্যে তার বিপুল সম্পদের ফিরিস্তি এসেছে অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে। দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এরমধ্যে ৫৫ পুরানা পল্টনে আজাদ সেন্টারে ৩ হাজার স্কয়ার ফুটের একটি বাণিজ্যিক স্পস। ঢাকার দক্ষিণ মুগদার ১ ও ২ নম্বর প্রধান সড়কে অমিত হাউজিং নামে ১২ কাঠার উপর ১২ তলা ভবন, ৩৭/২ পুরানা পল্টন কালভার্ট রোডে ১৫ কাঠার উপর ৩ বেইজমেন্টসহ ১৬ তলা অমিত জামান প্রীতম টাওয়ার, নারায়ণগঞ্জের বেপাড়ীপাড়ায় ১০৬ মোবারক শাহ রোডে ৬ তলা বিশিষ্ট চারটি বাড়ি, নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ সম্তাপুর মেইন রোড চৌরাস্তায় ৯ কাঠার ওপর ৯ তলা ভবন রয়েছে। এছাড়াও নামে-বেনামে আরও বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় দেলোয়ার হোসেনের সেকেন্ড হোম প্রকল্পের আওতায়ও বিপুল বিনিয়ােগের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বর্তমান পাসপাের্ট নম্বর বি ওয়াই-০৮২৬০৫৫। তবে তিনি যখন সেকেন্ড হোম প্রকল্পে বিনিযোগ করেন তখন তার পাসপাের্ট নম্বর ছিল বি এফ ০৭৩৭৪৪৯। মালয়েশিয়ার চাইনিজ অধ্যুসিত ক্যাপং এলাকায় একটি নজরকারা ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে তার। ওই বাড়িতে থেকেই কুয়ালালামপুরের ইউসিআইসি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন তার মেয়ে জাকিয়া আহমেদ। তার পাসপাের্ট নম্বর বিএক্স ০২১১৮৮০। সেখানে জাকিয়ার ব্যবহৃত মে ব্যাংকের ডেভিট কার্ড নম্বর ১০০১২৩৩৩১২। মালয়েশিয়ায় গার্মেন্টস ও হোটেল ব্যবসায় দেলোয়ারের বিপুল বিনিয়ােগের তথ্যও মিলেছে। শত শত কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করে তিনি সেখানে বিনিয়ােগ করেছেন। যা মানি লন্ডারিং আইনেও অপরাধ-বলেছেন দুদক কর্মকর্তা। ২৬ বছর সভাপতির পদ দখলঃ ১৯৯৪ সালে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ১ এর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদ দখলের মধ্যে দিয়ে উত্থান দেলোয়ার হোসেনের। এরপর ২ বছরের ব্যবধানে তিনি ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা, নগর প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদও দখলে নেন। ফুলবাড়িয়া এলাকার ব্যবসায়ী মহলে পরিচিতি পান চেয়ারম্যান সাহেব’ হিসেবে। ২৬ বছর ধরে ওই তিন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন দেননি তিনি। যারা তার অন্যায় কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করেছেন তাদেরই তিনি নানাভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সরিয়ে দিয়েছেন। এই পদের প্রভাবেই তিনি তিনটি মার্কেটে অবৈধ দোকান বানিয়ে বরাদ্দের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা। ব্যবসায়ীরা বারবার নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসলেও তিনি নির্বাচন দেন না। সবশেষ গত ৮ মার্চ শ্রম ভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় জাকের সুপার মার্কেটের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২২ মার্চ শ্রম অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে সাধারণ সভা ডেকে নির্বাচন করতে বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি। দেলোয়ার হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেজিষ্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন আমিনুল হকের মোবাইলে গত এক সপ্তাহে একাধিকবার কল হলে প্রতিবারই বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি সিটি কর্পোরেশনের তালিকাভূক্ত প্রথম শ্রেণীর একজন ঠিকাদার। সরকারি নিয়ম মেনেই সিটি কর্পোরেশনের নির্মান কাজ করে থাকেন। তার কর্মকান্ডের ব্যাপারে কর্পোরেশনের কোন অভিযোগ নেই। ঠিকাদারির পাশাপাশি তিনি আমদানি-রপ্তানি, হাউজিং, ট্রাভেল এজেন্সীসহ বিভিন্ন ধরণের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়ী হিসেবেই তিনি নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। পদ দখলের অভিযোগ মিথ্যা। মার্কেটে অবৈধ দোকান তৈরি করে বরাদ্দ দিয়ে ব্যবসায়ীদের সর্বশান্ত করা ও ভাড়া বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার ও কার্যাদেশ অনুযায়ী মার্কেট নির্মান করেছেন। কোন ধরণের অবৈধ দোকান তৈরি ও ভাড়া বাণিজ্যের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। একটি মহল মার্কেটের দখল নিতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন কে কোথায় মামলা করলো তাতে কিছু যায় আসে না। সম্পদের অনুসন্ধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদক সম্পদের হিসাব চেয়েছিল, দিয়ে দিয়েছি।
তবে অনুসন্ধানকারী দুদকের উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন মিথ্যাচার করছেন। সম্পদের তথ্য দিতেও তিনি গড়িমসি করছেন। বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।’